Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২০২৬ বিশ্বকাপের খেতাব জয় থেকে আর মাত্র এক ম্যাচ দূরে রয়েছে ভারত এবং নিউ জিল্যান্ড। তার আগে অস্ত্রে শাণ দিয়ে নিচ্ছে দুই দল (New Zealand)।
শেষ মুহূর্তে প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছে দুই দল (New Zealand)
সব পরিসংখ্যান বদলে যায় যখন দুই দল ২২ গজে মুখোমুখি হয়। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সাক্ষী থেকেছে বেশ কিছু অঘটনের। একদিকে যেমন কিছু প্লেয়ার হতাশ করেছেন সমর্থকদের তেমনই আবার অনেক প্লেয়ার অনবদ্য ইনিংস খেলে মন জয় করে নিয়েছেন ক্রিকেটপ্রেমীদের। সেই সব ইনিংস যদি দলকে ম্যাচ নাও জেতায় তবু তাঁদের ইনিংস লেখা থাকবে ক্রিকেটের ইতিহাসে। তেমনই এক ইনিংসের সাক্ষী থেকেছে মুম্বই। ভারতের বুকে ভয় ধরিয়ে দেওয়া বেথেলের ১০৫ রানের ইনিংস যে কারণে আজও চর্চায়। নক আউট পর্যায়ে ফিন অ্যালেনের ব্যক্তিগত ১০০ রানের রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড লিখেছেন নিজের নামে। বিশ্বকাপের ফাইনালে একদিকে যেমন প্রস্তুত ফিন অ্যালেন, টিম সেইফার্ট তেমনই তৈরি হচ্ছেন অফ স্পিনার কোল ম্যাকঞ্চি (New Zealand)।
এই বিশ্বকাপ দেখেছে অফ স্পিনারদের দৌরাত্ম। বাঁ হাতি ওপেনার ব্যাট করতে এলে অফ স্পিনার দিয়ে শুরু করার ট্রেন্ড এবার অনেক ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। আর সেখানেই ভারতের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ। ভারতের ওপেনার অভিষেক শর্মা, যিনি কিনা বিপক্ষের ভিত নিজের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে নাড়িয়ে দিতে পারেন সেই অভিষেক শর্মা বারবার পরাস্ত হচ্ছেন অফ স্পিনে। আর এই সুযোগই কাজে লাগাচ্ছে ভারতের বিপক্ষে থাকা দল। শুধু অভিষেক শর্মা নন, প্রোটিয়া ব্যাটার কুইন্টন ডি কক ও রায়ান রিকেলটনকেও উইকেট দিতে হয়েছে কোল ম্যাকঞ্চিকে। সুতরাং তাঁরা যে সেই অস্ত্রে ভরসা রাখবেন সেটা বলাই বাহুল্য।

কিউয়ি ক্যাপ্টেন স্যান্টনার যেন মাঠে জাল বুনেছেন আর সেই জালেই ধরা দিয়েছে বিপক্ষ। একজন সেনাপতির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব তাঁর দলের প্রতিটা সদস্যর শক্তি এবং দুর্বলতা সম্পর্কে অবগত থাকা। তেমনই বিপক্ষেরও খবর রাখা। সেই মাইন্ড গেমেই বাজিমাত করেছেন ব্ল্যাক ক্যাপ অধিনায়ক। এখন ভারতের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে সেই জাল কেটে বেরিয়ে ২০২৪ সালের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করার। কিন্তু তার জন্য আজ রান পেতে হবে প্রথম তিন ব্যাটারকেই। ভারতের স্কোয়াডে থাকা ১৫ জনেরই যে ম্যাচ ঘোরানোর ক্ষমতা রয়েছে এই নিয়ে সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই। একটি ইনিংস, একটা সুযোগ যদি কাজে লাগাতে পারেন তাঁরা তবে ভারত আবারও ইতিহাস রচনা করতে পারবে (New Zealand)।

স্যান্টনাররা স্বপ্ন দেখছেন সাদা বলে প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের। ওয়ান ডে হোক বা টি-টোয়েন্টি, কোনও বিশ্বকাপেই আজ পর্যন্ত জেতা হয়নি কিউয়িদের। কিন্তু এইবার ফাইনালে উঠে সেই স্বপ্নই এখন দেখছেন তাঁরা। তবে অবশ্য নিউ জিল্যান্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে ২০২১ সালে, আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিও জিতেছে ২০০০ সালে। অন্যদিকে দুইবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত। সব থেকে বেশিবার ফাইনালে ওঠার রেকর্ডও ভারতের দখলে (New Zealand)।

তবে ভারতের বাঁ হাতি ব্যাটারদের কথা মাথায় রেখে অস্ত্র ভান্ডারের অফ স্পিনের অস্ত্র ব্যবহার করার পরিকল্পনা থাকবে ব্ল্যাক ক্যাপ অধিনায়কের। এই ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ হবে সূর্যকুমার যাদবের ফর্মে ফেরা। আহমেদাবাদের পিচও ব্যাটিং সহায়ক হবে বলেই খবর। সেক্ষেত্রে দুই দলই অনেক রান তোলার ক্ষমতা রাখে সুতরাং এই ম্যাচেও টস যেটা যেকোন দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের সেনাপতির কাছে রয়েছে বুমরার মতো বোলার। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বলা যায় এখনও পর্যন্ত সর্বকালের সেরা। এই কথা স্বীকার করে নিয়েছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে ইংল্যান্ড দলের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকও। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ জেতানো বুমরা কিন্তু নির্লিপ্ত। তিনি তাঁর কাজ সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত। বরাবরই পরিষ্কার প্ল্যান নিয়ে মাঠে নেমেছেন। দলের প্রয়োজনে একদিকে যেমন উইকেট এনেছেন তেমন রান না দিয়ে বিপক্ষকে চাপে ফেলেছেন (New Zealand)।

একদিকে যখন বরুণ চক্রবর্তী ৬৪ রান দিচ্ছেন সেই দিকে একা বুমরা ১৮ তম ওভারে এসে দিচ্ছেন ৬ রান। ইংল্যান্ডের ম্যাচ জেতানোর নেপথ্য নায়ক। তবে সেক্ষেত্রে অক্ষর প্যাটেলের দুটি অনবদ্য ক্যাচও রয়েছে। সেমিফাইনালের মতো এই ফাইনালেও ভারতের কাছে ভুল করার কোনও সুযোগ নেই। একটা ভুল আর কোটি কোটি মানুষের স্বপ্নভঙ্গ (New Zealand)।
আরও পড়ুন: WB Weather Forecast: বসন্তে বঙ্গে বৃষ্টির আশঙ্কা, কোন কোন জেলা ভিজবে?
বিশ্বকাপ শুরুর আগে ভারতের কাছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারতে হয়েছে নিউ জিল্যান্ডকে। সেই হারের বদলা নিতে চাইবে ব্ল্যাক ক্যাপ শিবির। তবে ভারতেরও অস্ত্র ভান্ডারও প্রস্তুত। একদিকে যেমন সঞ্জু, তিলক, শিবম দুবে, হার্দিক তেমনই বোলিংয়ে বুমরা। ভারতও চাইবে খেতাব জয়ের ইতিহাস আবার রিপিট করতে।
আড়াই বছর আগে ওয়ান ডে বিশ্বকাপ ফাইনালে এক লাখের বেশি দর্শককে ফাইনালে চুপ করিয়ে রাখার কথা বলেছিলেন অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। চুপ করিয়েও দিয়েছিলেন। সেমিফাইনালের আগে একই সুর শোনা গিয়েছিল ইংল্যান্ডের ক্রিকেটার স্যাম কারেনের গলায়ও। তবে স্যান্টনার তেমন কিছু এখনও বলেননি। ভারতও ম্যাচের আগে কোনও বাড়তি কথা বলেনি। বরং তাঁরাও চুপচাপ মাঠে নিজেদের কাজ করে যাওয়ায় বিশ্বাসী। আর তাই প্রস্তুতিতে ফাঁক রাখবে না কোনও দলই (New Zealand)।


