Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের খেতাব ভারত তৃতীয়বার নিজেদের নামে করেছে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে আর এই দাপুটে জয়ের পর কোচ গম্ভীর ট্রফি উৎসর্গ করলেন দুই সতীর্থকে। প্লেয়ার, অধিনায়ক, মেন্টর, কোচ হিসেবে গম্ভীর বরাবরই ফাইনালের অপ্রতিরোধ্য (Gautam Gambhir)।
দ্রাবিড়, লক্ষ্মণকে ট্রফির উৎসর্গ গম্ভীরের (Gautam Gambhir)
সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপের আগে সবথেকে বেশি নিন্দার ঝড় যার উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে সেটা আর কেউ নন ভারতের দলের হেড কোচ গম্ভীর। তারকা কালচারের বিরোধিতা হোক অথবা প্রথম একাদশ নির্বাচন, বারবার প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। ঘরের মাটিতে লজ্জার টেস্ট সিরিজ হার থেকে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হার, তারপরেই সমর্থকদের কাছে কটাক্ষের স্বীকার হতে হয়েছে তাঁকে। এমন কি তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান এবং পরিচয় নিয়ে সমর্থকদের থেকে খোঁচা খেতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু আইসিসি-র বড় মঞ্চে তিনি বারবার নিজেকে বাজিগর প্রমাণিত করেছেন (Gautam Gambhir)।
এবার কিছুটা পিছিয়ে যাওয়ার পালা। ধোনির নেতৃত্বে ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের ফাইনাল জয়। সেই দলের শুধু যে সদস্য ছিলেন গম্ভীর তা নয় বরং দলের জয়ে রেখেছিলেন অবদান। এরপর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ২০১১ সাল। ভারত ঘরের মাটিতে ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলছে।

৮৩ তখন এখন সোনালী ইতিহাস আবার অন্যদিকে ২০০৩ সালে সৌরভের নেতৃত্বে অসাধারণ পারফর্ম করেও ফাইনালে হারতে হয় অস্ট্রেলিয়ার কাছে। সেই হারের জ্বালা জুড়াতে এটাই সুযোগ। শচীন ততদিনে এমন কোনও রেকর্ড নেই যা নিজের নামে করেননি। প্রায় সব রেকর্ড তাঁর দখলে কিন্তু বিশ্বকাপের স্বাদ থেকে তিনি বঞ্চিত। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে মুম্বইয়ে ফাইনাল। আর সেই ইতিহাসের রাত। ভারত শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ দ্বিতীয়বার নিজেদের নামে করে নিলো আর সেই ফাইনালে গম্ভীরের ৯৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস আজও ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে গেঁথে আছে (Gautam Gambhir)।
আইসিসি-র দুটো ট্রফি জয়ের পর ছিল আইপিএল। ২০১২ ও ২০১৪। দুইবারই গম্ভীরের নেতৃত্বে কলকাতা নাইট রাইডার্স নিজেদের আইপিএল খেতাব যেতে। ২০০৮ সালে শুরু হওয়া কলকাতা ততদিন একাধিকবার অধিনায়ক বদল করেও কাঙ্খিত সাফল্য আসেনি। অবশেষে গম্ভীরের কাঁধে নেতৃত্ব এবং সাফল্য। এরপর ২০২৪ সালের কলকাতা আবার আইপিএল-এর ট্রফি যেতে তবে এবার গম্ভীর ছিলেন প্লেয়ারের নয় দলের মেন্টরের ভূমিকায়।

২০২৫ সালে কিছু ব্যর্থতা যেমন রয়েছে তেমনই কিন্তু বড় মঞ্চে বাজিমাত করেছে ভারত গম্ভীরের কোচিংয়ে। ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি অপরাজিত থেকে জিতেছিল ভারত। অধিনায়ক রোহিত শর্মা হাতে উঠেছিল দ্বিতীয় ICC ট্রফি। একই বছর ভারত জেতে এশিয়া কাপ। আর কোচিংয়ে সেই গম্ভীর। সেই বৃত্ত এবার সম্পন্ন হলো ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে (Gautam Gambhir)।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপ জয় ভারতের কাছে ঐতিহাসিক। ঘরের মাটিতে প্রথম দল হিসেবে ভারত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে। সবথেকে বেশি অর্থাৎ তিনবার টি-২০ বিশ্বকাপের খেতাব জয়ের রেকর্ড ভারতের দখলে। ২০২৪ সালের পর ২০২৬ সালেও পরপর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার রেকর্ড টিম ইন্ডিয়ার কাছে। ম্যাচ জিতে একদিকে যেমন আবেগে ভেসেছে ভারতের সকল সমর্থক, ক্রিকেটাররা তেমনই গম্ভীর সাংবাদিক সম্মেলন এসে হয়ে পড়লেন আবেগতাড়িত। তিনি বলে এই সাফল্য কোনও এক ব্যক্তির নয় বরং গোটা টিমের পরিশ্রমের ফল। তবে তিনি এই ট্রফি উৎসর্গ করলেন ভারতের দুই কিংবদন্তিকে (Gautam Gambhir)।

গম্ভীর এই ট্রফি উৎসর্গ করলেন ভারতের প্রাক্তন হেড কোচ রাহুল দ্রাবিড় এবং ন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাকাডেমির প্রধান ভিভিএস লক্ষ্মণকে। গম্ভীর বলেন দ্রাবিড় তাঁর কোচিংয়ের সময়ে ভারতের হোয়াইট-বল ক্রিকেটের ভিত শক্ত করে দিয়েছিলেন। সেই মাটিতেই দাঁড়িয়ে দলের এই সাফল্য। এর পাশাপাশি দলের ভারসাম্যের কারণও দ্রাবিড় (Gautam Gambhir)।
অন্যদিকে বেঙ্গালুরুর সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের নেতৃত্বে থাকা ভিভিএস লক্ষ্মণ ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিভা তৈরির কেন্দ্র গড়ে তুলেছেন এবং সেখান থেকেই আসেন বহু প্রতিভাবান প্লেয়ার। গম্ভীরের মতে, এখান থেকেই নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটাররা উঠে আসছে এবং ভবিষ্যতে দলকে শক্তিশালী করছে।
আরও পড়ুন: TMC Full Bench: শহরে কমিশনের ফুল বেঞ্চ: সাক্ষাতের পর ক্ষোভে ফেটে পড়লেন তৃণমূলের প্রতিনিধিদল
গম্ভীরের বলেন, ‘প্রথমেই আমি এই ট্রফি রাহুল ভাইকে উৎসর্গ করতে চাই এবং তার পর লক্ষ্মণ ভাইকে। রাহুল ভাই ভারতীয় ক্রিকেটকে এত ভাল অবস্থায় রেখে গিয়েছেন, তার জন্য আমরা সবাই কৃতজ্ঞ। ওঁর সময়ে তিনি যে কাজ করেছেন, তা সত্যিই অসাধারণ। আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই ভিভিএস লক্ষ্মণকেও। তিনি নিঃস্বার্থ ভাবে ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য অনেক কাজ করছেন, বিশেষ করে পর্দার আড়ালেই থেকেছেন তিনি। সেন্টার অফ এক্সেলেন্স আসলে ভারতীয় ক্রিকেটের প্রতিভা তৈরির প্রধান পথ হয়ে উঠেছে।’ সঙ্গে তিনি যোগ করেন, ‘আর তৃতীয় ব্যক্তি অবশ্যই অজিত আগরকর। তিনি যে ভাবে সততা ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে কাজ করেছেন, তার পরেও অনেক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে (Gautam Gambhir)।’


