Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইরানকে ঘিরে চলা যুদ্ধের ১১তম দিনে তার প্রভাব এখন বিশ্বজুড়েই পড়তে শুরু করেছে। তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ছে এবং বহু দেশ পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি পদক্ষেপ নিচ্ছে। ভারতও এর ব্যতিক্রম নয়(War LPG ECA)।
জরুরি পণ্য আইন চালু (War LPG ECA)
হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়ায় তেল ও গ্যাস আমদানি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার Essential Commodities Act, 1955 বা জরুরি পণ্য আইন চালু করেছে। সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, সমস্ত তেল শোধনাগারকে সর্বোচ্চ পরিমাণে LPG উৎপাদন করে তা শুধুমাত্র গৃহস্থালি গ্রাহকদের জন্য সরবরাহ করতে হবে।
কী এই Essential Commodities Act?
১৯৫৫ সালে সংসদে পাশ হওয়া এই আইনটি সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ, মূল্য ও বণ্টন নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা দেয় কেন্দ্রীয় সরকারকে। যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে সরকার এই আইন ব্যবহার করে মজুতদারি, কালোবাজারি ও কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে পারে।
কোন কোন পণ্য জরুরি
ওষুধ, সার, খাদ্যশস্য ও ভোজ্য তেল, পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, কাঁচা পাট ও পাটজাত দ্রব্য, বিভিন্ন ধরনের বীজ ইত্যাদি।
কেন এখন এই আইন চালু করা হল?
ভারতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ৩১.৩ মিলিয়ন টন LPG ব্যবহার হয়েছে, যার মধ্যে দেশে উৎপাদিত হয়েছে মাত্র ১২.৮ মিলিয়ন টন। অর্থাৎ বাকি বড় অংশ আমদানি করতে হয়, যা মূলত হরমুজ প্রণালী হয়ে আসে। যুদ্ধের কারণে এই রুটে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
নতুন নির্দেশে কী পরিবর্তন? (War LPG ECA)
সরকার নির্দেশ দিয়েছে যে রিফাইনারিগুলো তাদের উৎপাদিত প্রোপেন ও বিউটেন সম্পূর্ণভাবে LPG তৈরিতে ব্যবহার করবে এবং তা সরবরাহ করতে হবে তিনটি সরকারি তেল সংস্থা IOC, BPCL ও HPCL-কে। এগুলো অন্য কোনও পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনে ব্যবহার করা যাবে না।
আরও পড়ুন: LPG Modi Meet: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে ভারতে LPG সংকট, পরিস্থিতি পর্যালোচনায় মোদির বৈঠক
বর্তমান পরিস্থিতি (War LPG ECA)
মুম্বই, বেঙ্গালুরু ও চেন্নাইয়ের বহু হোটেল-রেস্তোরাঁ ইতিমধ্যেই LPG সংকটে পড়েছে। মুম্বইয়ে প্রায় ২০% হোটেল বন্ধ হয়ে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। কারণ সরকার আপাতত গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্যই গ্যাসকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পরিস্থিতি কতদিন চলবে তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে আপাতত ভারতের জন্য এটি “ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ” পরিস্থিতি।



