Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারত ও ইরানের মধ্যে এমন কোনও সর্বজনীন চুক্তি নেই যার ফলে সব ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ নির্বিঘ্নে হরমুজ প্রণালী পার হতে পারে এ কথা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। মধ্যপ্রাচ্যে জারি উত্তেজনার মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ ঘিরে যখন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে, তখনই তিনি এই ব্যাখ্যা দেন(Hormuz India)।
‘বড় চুক্তির কারণে জাহাজ চলাচল নয়’ (Hormuz India)
ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জয়শঙ্কর বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ভারতীয় জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে পেরেছে ঠিকই, কিন্তু তা কোনও বড় চুক্তির কারণে নয়। প্রতিটি জাহাজের চলাচল আলাদাভাবে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে।
‘কোনও সমঝোতা হয়নি’
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “প্রতিটি জাহাজের চলাচল একটি আলাদা ঘটনা।” এই মন্তব্য আসে মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইটের বক্তব্যের পর। রাইট দাবি করেছিলেন, ভারতীয় জাহাজগুলো নিরাপদে প্রণালী পার হতে পেরেছে কারণ “সম্ভবত ইরান ভারতের সঙ্গে কোনও সমঝোতা করেছে।” তবে জয়শঙ্কর সেই জল্পনাকে খারিজ করে দেন এবং বলেন, ইরানকে এর বিনিময়ে ভারত কিছু দেয়নি।
জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ
হরমুজ প্রণালী বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক পথ। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে ইতিমধ্যেই ট্যাঙ্কার চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ
জয়শঙ্কর বলেন, ইরানের সঙ্গে সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখার ফলে কিছু ভারতীয় জাহাজ নিরাপদে এই পথ ব্যবহার করতে পেরেছে। তাঁর মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার করতে কূটনৈতিক উদ্যোগই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী (Hormuz India)
ভারত মূলত উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। ফলে হরমুজ প্রণালী ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে জ্বালানির সরবরাহ ও দামের ওপর বড় প্রভাব পড়তে পারে।
আরও পড়ুন: Code Of Conduct: কার্যকর নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি: কী কী মেনে চলতে হবে নির্বাচন পর্যন্ত?
আলোচনার উপর জোর (Hormuz India)
এই পরিস্থিতিতে ভারত আপাতত কোনও আনুষ্ঠানিক চুক্তির বদলে সতর্ক কূটনীতি এবং ধারাবাহিক যোগাযোগের মাধ্যমে তার জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার উপরই জোর দিচ্ছে নয়াদিল্লি।



