Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ ইন্দোনেশিয়ায় ফের শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হল (Earthquake Alert)। মঙ্গলবার সকালে দেশটির সুলাওয়েসি দ্বীপে রিখটার স্কেলে ৬.৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। কম্পনের উৎসস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে, ফলে কম্পনের তীব্রতা বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়। যদিও এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবুও প্রশাসন পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে।

কতটা শক্তিশালী ছিল ভূমিকম্প (Earthquake Alert)
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা (BMKG) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল সুলাওয়েসি দ্বীপের পালু শহর থেকে প্রায় ৪২ কিলোমিটার দূরে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬.৭, যা একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের কেন্দ্র যদি ভূপৃষ্ঠের খুব কাছাকাছি হয়, তাহলে কম্পনের প্রভাব অনেক বেশি অনুভূত হয়। এই ঘটনায়ও কেন্দ্রস্থল মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা বেশ জোরালো ঝাঁকুনি অনুভব করেন।
সুনামির আশঙ্কা নেই, তবুও সতর্ক প্রশাসন
ভূমিকম্পের পর সাধারণত সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চলে সুনামির সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আপাতত সুনামি সতর্কতা জারি করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবুও সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিকে নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, প্রথম ভূমিকম্পের পর আরও একাধিক আফটার শক বা পরবর্তী কম্পন হতে পারে। সেই কারণে উদ্ধারকারী দল এবং দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর আতঙ্কে সাধারণ মানুষ
শক্তিশালী কম্পনের ফলে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, কারণ ইন্দোনেশিয়ার মানুষ অতীতে ভয়াবহ ভূমিকম্প এবং সুনামির অভিজ্ঞতা বহন করে চলেছেন। যদিও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সামনে আসেনি, তবুও প্রশাসন বিভিন্ন এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে। বিশেষ করে পাহাড়ি ও উপকূলীয় অঞ্চলগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
২০২২ সালের ভয়াবহ স্মৃতি এখনও তাজা
ইন্দোনেশিয়ার মানুষের কাছে ভূমিকম্প মানেই আতঙ্কের আরেক নাম। ২০২২ সালে পশ্চিম জাভার সিয়ানজুর এলাকায় ৫.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছিল। সেই ঘটনায় অন্তত ২৬৮ জন প্রাণ হারান এবং শতাধিক মানুষ আহত হন। বহু বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে যায়। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা ছিল কয়েকটি স্কুল ভবন ধসে পড়া। অতিরিক্ত ক্লাসে থাকা বহু শিশু ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারায়। সেই ট্র্যাজেডির স্মৃতি এখনও দেশবাসীর মনে গভীরভাবে গেঁথে রয়েছে।
গত বছরও কেঁপেছিল বান্দা সাগর অঞ্চল
শুধু ২০২২ সালই নয়, গত বছরও মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ইন্দোনেশিয়ার বান্দা সাগর এলাকায় একাধিক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। সৌভাগ্যবশত সেসব ঘটনায় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেনি, কিন্তু দেশটির ভূমিকম্প-ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে আসে। ভূতত্ত্ববিদদের মতে, বান্দা সাগর অঞ্চলটি পৃথিবীর অন্যতম জটিল টেকটোনিক অঞ্চলের মধ্যে পড়ে। ফলে সেখানে নিয়মিত ভূমিকম্প হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
আরও পড়ুন : Jennifer Winget: নতুন জীবনের পথে জেনিফার? জোর চর্চা বিনোদন মহলে
কেন এত ঘনঘন ভূমিকম্প হয় ইন্দোনেশিয়ায়?
ইন্দোনেশিয়া অবস্থিত পৃথিবীর অন্যতম সক্রিয় ভূমিকম্প অঞ্চল ‘রিং অফ ফায়ার’-এর মধ্যে। প্রশান্ত মহাসাগরকে ঘিরে থাকা এই বিশাল ভূতাত্ত্বিক বলয়ে পৃথিবীর প্রায় ৭৫ শতাংশ সক্রিয় আগ্নেয়গিরি এবং অধিকাংশ বড় ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। দেশটির নিচে অস্ট্রেলিয়ান, ইউরেশিয়ান, সুন্দা এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেটসহ একাধিক টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ ঘটে। এই প্লেটগুলির ক্রমাগত সঞ্চালন এবং চাপ সৃষ্টির ফলে ভূত্বকের গভীরে শক্তি জমা হয়। যখন সেই শক্তি হঠাৎ মুক্তি পায়, তখনই ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়।



