Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতের অন্যতম প্রধান বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া-কে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা এবং কারিগরি নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে (Air India)। ২০২৫-২৬ সালে একাধিকবার বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটি, নিরাপত্তা ঘাটতি এবং দুর্ঘটনার ঘটনা সামনে আসায় আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় বিমান নিরাপত্তা সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্ট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

একের পর এক ত্রুটি (Air India)
গত কয়েক মাসে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে যান্ত্রিক সমস্যার একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে সানফ্রান্সিসকো থেকে মুম্বইগামী একটি বিমানের ইঞ্জিনে ত্রুটি ধরা পড়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সেই ঘটনার পরপরই আহমেদাবাদ-এ ঘটে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা, যেখানে প্রায় ২৬০ জনের মৃত্যু হয় বলে জানা যায়। এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলি এয়ার ইন্ডিয়ার রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত তদারকির মান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে।
এজেন্সির ‘সারপ্রাইজ’ পরীক্ষা (Air India)
সম্প্রতি ইউরোপের বিমান নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিমান চলাচল সুরক্ষা সংস্থা (EASA) ইউরোপের বিভিন্ন বিমানবন্দরে থাকা এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে হঠাৎ করেই একটি ‘সারপ্রাইজ’ নিরাপত্তা পরীক্ষা চালায়। এই পরীক্ষায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটি ধরা পড়েছে বলে জানানো হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিমানের কারিগরি ত্রুটি রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত অসঙ্গতি, নথি বা ডকুমেন্টেশনে সমস্যা, সব মিলিয়ে সংস্থাটির মতে এয়ার ইন্ডিয়ার ফল্ট রেশিও দাঁড়িয়েছে ১.৯৬। বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অনুপাত যদি ২-এর উপরে চলে যায় তাহলে সংস্থাটিকে আরও কঠোর পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। এমনকি আন্তর্জাতিক উড়ানও সাময়িকভাবে স্থগিত হতে পারে।

ডিজিসিএ-কে রিপোর্ট পাঠানো (Air India)
এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য ভারতের বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তর (DGCA) কে জানানো হয়েছে। ভারতীয় বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা এখন এই রিপোর্ট খতিয়ে দেখছে এবং প্রয়োজন হলে এয়ার ইন্ডিয়ার রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর বাড়তি নজরদারি চালাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আহমেদাবাদ দুর্ঘটনার তদন্তে নতুন তথ্য (Air India)
অন্যদিকে আহমেদাবাদে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার তদন্তেও নতুন তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বাধীন বিমান নিরাপত্তা সংস্থার দাবি দুর্ঘটনার সময় গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য তাদের কাছে গোপন রাখা হয়েছিল। এই তদন্তে অংশ নেওয়া সংস্থার প্রধান Ed Pierson জানান, সংশ্লিষ্ট বিমানে আগে থেকেই গুরুতর যান্ত্রিক সমস্যা ছিল। বিশেষ করে দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি ছিল একটি Boeing 787 Dreamliner। তদন্তকারীদের দাবি, এই বিমানে দীর্ঘদিন ধরে, শর্ট সার্কিটের সমস্যা, ধোঁয়া বের হওয়ার ঘটনা, বৈদ্যুতিক তারের ত্রুটি, এসব সমস্যা দেখা যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার জেরেই সেই দুর্ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: Sahitya Akademi Award: বাংলা কবিতায় ‘উত্তর কলকাতার স্বর’, এবার সাহিত্য অকাদেমির মুকুটে প্রসূন
টাটা গোষ্ঠীর সংস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ
বর্তমানে Tata Group-এর মালিকানাধীন এয়ার ইন্ডিয়ার জন্য এই পরিস্থিতি বড়সড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলির মধ্যে নিরাপত্তা মান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফল্ট রেশিও ১.৯৬-এ পৌঁছে যাওয়ায় এখন সংস্থার প্রধান লক্ষ্য হবে সেটিকে দ্রুত ১-এর নিচে নামিয়ে আনা। এর জন্য রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করা, প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো আধুনিক করা এবং নিরাপত্তা মান কঠোরভাবে প্রয়োগ করা জরুরি।



