Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জাপানি অ্যানিমেশন জগতে এক যুগের অবসান ঘটল (Doraemon)। প্রয়াত হলেন কিংবদন্তি পরিচালক সুতোমু শিবায়ামার যাঁর সৃষ্টিশীলতার ছোঁয়ায় রঙিন হয়ে উঠেছিল বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের শৈশব। তাঁর মৃত্যু শুধু একজন শিল্পীর প্রয়াণ নয়, বরং এক অমর সৃষ্টির যুগের ইতি। সকাল হোক বা সন্ধ্যে, সময়ের থেকে সময় চুরি করতে বেশ ভালো লাগে জানেন তো, অনেকটা মন ভালো করার ওষুধের মত কাজ করেন।

শৈশবের স্বপ্নভুবনের নির্মাতা (Doraemon)
অ্যানিমেশন মানেই শুধু বিনোদন নয়, এটি এক অনুভূতির জগৎ যেখানে বাস্তব আর কল্পনা মিলেমিশে যায়। এই জগতের অন্যতম স্থপতি ছিলেন শিবায়ামা। বিশেষ করে ডোরেমন এই নামটি শুনলেই যে আবেগ, যে নস্টালজিয়া আমাদের মনে জেগে ওঠে, তার পিছনে বড় ভূমিকা ছিল তাঁর। নীল রঙের সেই রোবট বিড়াল আর তার বন্ধু নোবিতা নোবি, শিজুকা মিনামোটো এই চরিত্রগুলি শুধু জাপানের গণ্ডিতে আটকে থাকেনি, বরং ভারত-সহ বিশ্বের অসংখ্য পরিবারের অংশ হয়ে উঠেছে। শিবায়ামার পরিচালনায় ‘ডোরেমন’ হয়ে উঠেছিল এক সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন, যা ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে মানুষকে একত্র করেছে।
কর্মজীবনের শুরু: সংগ্রাম থেকে সাফল্য (Doraemon)
১৯৬৩ সালে তোয়েই অ্যানিমেশন-এ তাঁর কর্মজীবনের সূচনা। সেই সময় জাপানের অ্যানিমেশন শিল্প ধীরে ধীরে বিশ্বমঞ্চে নিজের জায়গা করে নিচ্ছিল। পরবর্তীতে তিনি শিন-এই অ্যানিমেশন-এ যোগ দেন এবং এখানেই তাঁর প্রতিভার পূর্ণ বিকাশ ঘটে। এই সময়েই তিনি ‘ডোরেমন’-এর মতো এক ঐতিহাসিক প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হন, যা তাঁর জীবন ও ক্যারিয়ারকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।

নিজের স্বপ্নের স্টুডিও: নতুন দিগন্তের সূচনা (Doraemon)
শুধু অন্যের অধীনে কাজ করেই থেমে থাকেননি শিবায়ামা। ১৯৭৮ সালে তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে মিলে প্রতিষ্ঠা করেনআজিয়া-দো অ্যানিমেশন ওয়ার্কস। এই স্টুডিওর মাধ্যমে তিনি নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের সুযোগ করে দেন, নতুন গল্প, নতুন ভাবনার বিকাশ ঘটান। তাঁর এই উদ্যোগ জাপানের অ্যানিমেশন শিল্পে নতুন দিশা দেখায়।
এক বিশ্বজনীন অনুভূতির গল্প (Doraemon)
১৯৭৯ সালের টেলিভিশন সিরিজ় থেকে শুরু করে দীর্ঘ ২২ বছর ধরে ‘ডোরেমন’-এর একাধিক চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন শিবায়ামা। এই সময়ে তিনি এমন এক জগৎ তৈরি করেন, যেখানে, দুর্বল নোবিতাও স্বপ্ন দেখে, বন্ধুত্ব সব বাধা পেরিয়ে যায়, কল্পনা বাস্তবকে ছাড়িয়ে যায়, এই কারণেই ‘ডোরেমন’ শুধু শিশুদের নয়, প্রাপ্তবয়স্কদের কাছেও সমান জনপ্রিয়। এটি হয়ে উঠেছে জীবনের প্রতিচ্ছবি।

বহুমুখী প্রতিভা: একাধিক কালজয়ী সৃষ্টি (Doraemon)
শিবায়ামা শুধু একটি সিরিজ়ে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তাঁর কাজের পরিধি ছিল বিস্তৃত। তিনি যুক্ত ছিলেন—চিবি মারুকো-চ্যান, লুপিন III, নিনতামা রান্টারো এই সব কাজেই তিনি দেখিয়েছেন তাঁর অসাধারণ গল্প বলার ক্ষমতা এবং চরিত্র নির্মাণের দক্ষতা।
আরও পড়ুন: Humayun Kabir: বড় দলগুলোর মাঝে হুমায়ূনের ‘আম জনতা’, গেমচেঞ্জার হতে পারবে
সম্মান ও স্বীকৃতি
অ্যানিমেশন শিল্পে তাঁর অবদানের জন্য ২০১২ সালে জাপান সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে আজীবন সম্মানে ভূষিত করা হয়। এই সম্মান শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্যের স্বীকৃতি নয়, বরং তাঁর সৃষ্টির প্রভাবের প্রতিফলন। তিনি প্রমাণ করেছেন অ্যানিমেশন একটি শক্তিশালী শিল্পমাধ্যম। ফুসফুসের ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ৮৪ বছর বয়সে তাঁর প্রয়াণ ঘটে। পরিবারের ইচ্ছানুযায়ী তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে নিভৃতেই। তবে তাঁর অগণিত অনুরাগীর কাছে তিনি আজও জীবন্ত। সমাজমাধ্যমে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার যে স্রোত বইছে, তা প্রমাণ করে তিনি কেবল একজন পরিচালক ছিলেন না, ছিলেন আবেগের অংশ।



