Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আবারও তৈরি হচ্ছে এক তীব্র মুখোমুখি লড়াইয়ের মঞ্চ। শনিবার সকালে শুভেন্দু অধিকারী পৌঁছলেন দক্ষিণ কলকাতার ঐতিহ্যবাহী কালীঘাট কালী মন্দির-এ (Suvendu Adhikari)। পুজো দিয়ে শুরু করলেন তাঁর নির্বাচনী প্রচার। সঙ্গে ছিলেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। সকাল থেকেই মন্দির চত্বরে ছিল কড়া নিরাপত্তা, যা এই সফরের রাজনৈতিক গুরুত্বকে স্পষ্ট করে দেয়।

ধর্মীয় আবহে রাজনৈতিক বার্তা (Suvendu Adhikari)
কালীঘাট মন্দিরে পুজো দেওয়ার মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারীর এই প্রচার শুরু নিছক আধ্যাত্মিকতা নয় বরং এর মধ্যে রয়েছে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। বাংলার রাজনীতিতে মন্দির-সংস্কৃতি ও আবেগের গুরুত্বকে সামনে রেখেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। পুজো শেষে তিনি ভবানীপুর বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগে যাওয়ার কথা জানান। বিশেষ করে বিজেপির পুরনো কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে সমর্থন মজবুত করার কৌশলও তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে।
হাইভোল্টেজ যুদ্ধক্ষেত্র (Suvendu Adhikari)
এবারের নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রটি হয়ে উঠেছে ‘হাইভোল্টেজ’ আসন। কারণ, এই কেন্দ্রে মুখোমুখি হচ্ছেন দুই শক্তিশালী নেতা মমতা ব্যানার্জী (তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো) শুভেন্দু অধিকারী (বিরোধী দলনেতা, বিজেপি) ভবানীপুর দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন, “আমি শুধু ভবানীপুর নয়, গোটা রাজ্যের জয়ের কথা ভাবছি। ভবানীপুর সেই জয়ের নেতৃত্ব দেবে।” অন্যদিকে শুভেন্দুও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি এই কেন্দ্র থেকেই মমতাকে হারানোর লক্ষ্য নিয়েছেন।

‘গো-ব্যাক’ স্লোগান (Suvendu Adhikari)
প্রার্থী ঘোষণার পরই ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়া এলাকায় জনসংযোগে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় শুভেন্দুকে। ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। পালটা স্লোগান দিতে থাকেন বিজেপি কর্মীরা। মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। যদিও পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, তবুও এই ঘটনা ভবানীপুরে রাজনৈতিক উত্তেজনার মাত্রা কতটা, তা স্পষ্ট করে দেয়। পরে থানায় গিয়ে শুভেন্দু অভিযোগ করেন যে বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
দুই কেন্দ্রেই লড়াই (Suvendu Adhikari)

এই নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী কেবল ভবানীপুর নয়, তাঁর পুরনো রাজনৈতিক ঘাঁটি নন্দীগ্রাম থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কালীঘাটে পুজো দেওয়ার পর তাঁর নন্দীগ্রামে ফিরে গিয়ে প্রচারে যোগ দেওয়ার কথাও রয়েছে। ফলে একদিকে শহুরে ভবানীপুর, অন্যদিকে গ্রামীণ নন্দীগ্রাম দুই ভিন্ন রাজনৈতিক মাটিতে লড়াই করছেন তিনি।
আরও পড়ুন: Weather Kolkata: ঈদের দিন, রাতভর বৃষ্টি সঙ্গে দমকা হাওয়া, আজও কালবৈশাখীর সম্ভাবনা
রাজনৈতিক সমীকরণ
ভবানীপুরে তৃণমূলের শক্ত সংগঠন ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বড় ফ্যাক্টর। অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীর লড়াইয়ের কৌশল বিজেপির মূল ভোটব্যাঙ্ক মজবুত করা, স্থানীয় অসন্তোষকে কাজে লাগানো, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও সরাসরি চ্যালেঞ্জ, এই লড়াই শুধু দুই নেতার নয়, বরং দুই রাজনৈতিক দর্শনের সংঘর্ষ বলেই মনে করা হচ্ছে।



