Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বর্তমান বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে তেল ও হরমুজ প্রণালীর ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা। কিন্তু আড়ালে থেকে যাচ্ছে আরও গুরুত্বপূর্ণ এক উপাদান,সার। এটি শিরোনামে না এলেও ভবিষ্যতের খাদ্য উৎপাদনের ভিত গড়ে দেয়। বিশেষ করে নাইট্রোজেন সার, যেমন ইউরিয়া, আধুনিক কৃষির জন্য অপরিহার্য; ধারণা করা হয়, বিশ্বের ফসল উৎপাদনের প্রায় ৪০–৫০ শতাংশই এর ওপর নির্ভরশীল(Fertilizer Crisis)।
চিনের রফতানি নিয়ন্ত্রণে সমস্যা (Fertilizer Crisis)
বিশ্বে ইউরিয়ার সবচেয়ে বড় উৎপাদক চিন, যা মোট উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জোগান দেয়। কিন্তু দেশটি প্রায়ই অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে রফতানি নিয়ন্ত্রণ করে, যেমন ২০২১ ও ২০২৩ সালে দেখা গেছে। এই সিদ্ধান্তগুলি স্থানীয়ভাবে যৌক্তিক হলেও বিশ্ব বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি করে। ফলে দাম বাড়ে, আমদানিকারক দেশগুলি চাপে পড়ে এবং কৃষকরা কম সার ব্যবহার করতে বাধ্য হন। যার প্রভাব পরে ফসল কাটার সময় স্পষ্ট হয়।
ভারতের অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ (Fertilizer Crisis)
ভারত এই পরিস্থিতিতে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম ইউরিয়া আমদানিকারক হিসেবে দেশ আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরশীল। কৃষিনির্ভর অর্থনীতি, ভর্তুকিনির্ভর ব্যবস্থা এবং নির্দিষ্ট কৃষি ক্যালেন্ডার সব মিলিয়ে সমস্যা আরও তীব্র হয়েছে। খরিফ মরশুমের আগে মে-জুনে সার চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। তখন দাম বেশি হলে বা সরবরাহ কম থাকলে উৎপাদনে সরাসরি প্রভাব পড়ে।
আরও পড়ুন: Mali Engineer: বিদেশে কাজে গিয়ে একবছর ধরে জেলে ইঞ্জিনিয়ার, দুশ্চিন্তায় বিদেশমন্ত্রকে পরিবার
জ্বালানির দামের ওঠানামায় প্রভাব (Fertilizer Crisis)
এছাড়া ইউরিয়া উৎপাদন প্রাকৃতিক গ্যাসনির্ভর হওয়ায় জ্বালানির দামের ওঠানামাও বাজারকে প্রভাবিত করে। ফলে তেল, ভূরাজনীতি ও সার এই তিনটি একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এর প্রভাব ধীরে ধীরে খাদ্যদ্রব্যের দামে প্রতিফলিত হয়, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এখন প্রয়োজন সরবরাহের উৎস বদলানো, ভর্তুকি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা এবং ইউরিয়ার উপর নির্ভরতা কমানো।



