Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: টেলিভিশনের ডেলি সোপে এক নীরব বিপ্লব ঘটাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Ai)। এতদিন যা কেবল বড় বাজেটের সিনেমায় সম্ভব ছিল, এখন তা অনায়াসেই দেখা যাচ্ছে ছোট পর্দায়। কম সময়, কম খরচ এবং সীমিত পরিকাঠামোর মধ্যেও এখন তৈরি হচ্ছে চমকপ্রদ ভিজ্যুয়াল সবই এআই–এর হাত ধরে।

ফ্যান্টাসি এখন বাস্তবের কাছাকাছি (Ai)
ফ্যান্টাসি বা পৌরাণিক ধারাবাহিকের ক্ষেত্রে আগে ভিএফএক্স তৈরির প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। ব্লু বা গ্রিন স্ক্রিনে শুটিং করে পরে থ্রিডি মডেলিং ও ফোটোশপের মাধ্যমে ব্যাকগ্রাউন্ড তৈরি করা হতো। এতে যেমন সময় লাগত, তেমনই প্রয়োজন হতো দক্ষ কর্মীর বড় দল। তবে এখন সেই জায়গায় এআই বড় পরিবর্তন এনেছে। সান বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক রূপমতী–তে এই প্রযুক্তির ব্যবহার তারই প্রমাণ। ক্রিয়েটিভ হেড রজত দলুই ও তাঁর টিম জেনারেটিভ এআই–এর সাহায্যে অল্প সময়েই তৈরি করছেন দৃষ্টিনন্দন ব্যাকগ্রাউন্ড ও ফ্যান্টাসি চরিত্র।
সময় ও খরচে বড় সাশ্রয় (Ai)
এআই ব্যবহারের ফলে প্রোডাকশন প্রক্রিয়ায় এসেছে আমূল পরিবর্তন। আগে যেখানে একটি অ্যানিম্যাল ক্যারেক্টার তৈরি করতে ১৫–২০ দিন সময় লাগত, এখন তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সম্ভব হচ্ছে। ফলে, প্রোডাকশন সময় কমছে, ম্যানপাওয়ারের প্রয়োজন কমছে, বাজেট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকছে, টেলিভিশনের মতো দ্রুতগতির মাধ্যমে এই পরিবর্তন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ডিজিটাল প্রাণীর ব্যবহার বাড়ছে (Ai)
চলচ্চিত্র ও ধারাবাহিকে বাস্তব পশু ব্যবহার করতে গিয়ে নানা আইনি ও নৈতিক জটিলতার মুখে পড়তে হয়। সেই জায়গায় এআই একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে। পরিচালক অরিন্দম শীল–এর মতে, এআই–এর সাহায্যে এখন অত্যন্ত বাস্তবসম্মতভাবে পশুদের উপস্থাপন করা সম্ভব, যা দর্শকের কাছেও গ্রহণযোগ্য। রয়েল বেঙ্গল রহস্য–এর কাজেও এই প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ দেখা গেছে।
অভিনয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ (Ai)
এআই–এর ব্যবহারে অভিনয়ের ক্ষেত্রেও এসেছে নতুন চ্যালেঞ্জ। শুটিংয়ের সময় অনেক ক্ষেত্রেই অভিনেতাদের কল্পনার উপর নির্ভর করে অভিনয় করতে হয়। অভিনেত্রী জয়িতা সান্যাল জানান, প্রথমদিকে নীল কাপড় দিয়ে ঘেরা সেটে অভিনয় করতে গিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হলেও পরে টেলিকাস্টে ভিজ্যুয়াল দেখে বোঝা যায়, কতটা পরিবর্তন ঘটেছে পোস্ট–প্রোডাকশনে।
ওটিটি ও সিনেমাতেও প্রভাব (Ai)
শুধু টেলিভিশন নয়, ওটিটি ও চলচ্চিত্র জগতেও এআই–এর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়–এর প্রজেক্ট থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক বিভিন্ন কাজেই এই প্রযুক্তির প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে এআই–নির্ভর ভিএফএক্স বিনোদন জগতের মূলধারায় পরিণত হবে।

আরও পড়ুন: Meteorit Explosion: উড়ন্ত অবস্থাতেই বিস্ফোরণ, উল্কার বিস্ফোরণে তোলপাড় আকাশ!
কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে
যদিও এআই–এর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে, তবুও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে, সবসময় উচ্চমানের রেজোলিউশন পাওয়া যায় না, দীর্ঘ সময়ের দৃশ্য তৈরি করা কঠিন, ফলাফল অনেকাংশে নির্ভর করে সঠিক প্রম্পটের উপর, তবে প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যাগুলি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।



