Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
বিশেষ প্রতিবেদন: ত্রয়ণ চক্রবর্ত্তী, কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বরাবরই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, মতাদর্শের সংঘাত এবং জনমুখী ইস্যুর উপর নির্ভরশীল (Afreen Shilpi)। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে সেই উত্তাপ আরও বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বালিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই(এম) প্রার্থী আফরিন বেগম-এর বক্তব্য শুধু একটি নির্বাচনী প্রচার নয়, বরং রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি।

দ্বিমুখী শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ (Afreen Shilpi)
কে টিভি বাংলা কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আফরিন বেগমের বক্তব্যের মূল সুর হলো বর্তমান রাজনীতিতে ব্যক্তি নয়, নীতির লড়াই জরুরি। তিনি সরাসরি আক্রমণ করেছেন দেশের শাসক দল বিজেপি এবং রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে। তাঁর অভিযোগ, একদিকে নরেন্দ্র মোদি-র নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকার কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থ রক্ষা করছে, অন্যদিকে মমতা ব্যানার্জী-র সরকার রাজ্যে দলীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে তিনি “বিকল্প রাজনীতি”র দাবি তুলেছেন যেখানে সাধারণ মানুষের সমস্যা ও অধিকারই হবে মূল কেন্দ্রবিন্দু।
ভাঙনের মুখে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম (Afreen Shilpi)
রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তাঁর উদ্বেগ গভীর। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিপুল সংখ্যক সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, শিক্ষক নিয়োগে স্থবিরতা, চাকরির দাবিতে আন্দোলনকারীদের দমন, উচ্চশিক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের আগ্রহ কমে যাওয়া, এই চিত্র কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করছে। শিক্ষা ব্যবস্থার এই দুর্বলতা দীর্ঘমেয়াদে সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

আস্থার সংকট ও বাস্তবতার সংঘর্ষ (Afreen Shilpi)
স্বাস্থ্যখাতেও তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল-এর মতো প্রতিষ্ঠানে ঘটে যাওয়া একাধিক বিতর্কিত ঘটনা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী পর্যাপ্ত বেড ও চিকিৎসা পরিষেবার অভাব, হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা, চিকিৎসকদের নিরাপত্তাহীনতা, রোগীদের করিডোরে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হওয়া, এই পরিস্থিতি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে এবং প্রশাসনিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
স্থবির অর্থনীতির চিত্র (Afreen Shilpi)
আফরিন বেগমের মতে, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থানের অভাব রয়েছে। এর ফলে, যুবসমাজ কাজের খোঁজে অন্য রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে, পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে, শ্রমিকদের উপর অন্য রাজ্যে বৈষম্য ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠছে, এই সমস্যাগুলি শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গেও জড়িত।
ভোটাধিকার ও এসআইআর বিতর্ক (Afreen Shilpi)
নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR ইস্যুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আফরিন বেগম অভিযোগ করেন, বৈধ ভোটারদের নাম বাদ পড়ছে, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক মানুষের উপর প্রভাব বেশি, ভোটার তালিকাকে নাগরিকত্বের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা হচ্ছে, এই প্রসঙ্গে তিনি গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার লড়াইয়ের কথা বলেন এবং এটিকে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেন।

বালিগঞ্জের বাস্তব চিত্র (Afreen Shilpi)
শুধু বৃহত্তর রাজনীতি নয়, বালিগঞ্জ কেন্দ্রের স্থানীয় সমস্যাগুলিও তাঁর বক্তব্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বস্তি এলাকায় পানীয় জলের অভাব, দুর্বল আবাসন ব্যবস্থা, ড্রেনেজ সমস্যা ও জল জমা, ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ এই সমস্যাগুলিকে সামনে রেখে তিনি “মাটির কাছাকাছি রাজনীতি”র বার্তা দিতে চেয়েছেন।
তরুণ রাজনীতির দ্বন্দ্ব (Afreen Shilpi)
দলের এক ছাত্রনেতার দলত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি যে মন্তব্য করেছেন, তা বর্তমান রাজনীতিতে আদর্শ বনাম ব্যক্তিস্বার্থের দ্বন্দ্বকে সামনে আনে। তাঁর মতে, আদর্শ থেকে বিচ্যুত রাজনীতি সমাজের জন্য ক্ষতিকর এবং তা দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে না।
আরও পড়ুন: Mission Mitra: মহাকাশ অভিযানকে মসৃন করতে ইসরোর নয়া উদ্যোগ ‘মিশন মিত্র’
পরিবর্তনের সম্ভাবনা নাকি পুরনো সমীকরণ?
আফরিন বেগমের বক্তব্যে যে বিষয়গুলি উঠে এসেছে, তা পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও গণতান্ত্রিক অধিকার এই চারটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়েই তিনি তাঁর রাজনৈতিক লড়াইয়ের ভিত্তি গড়ে তুলতে চাইছেন।



