Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: এ যেন উল্টা চোর কোতোয়াল কো ডাঁটে। ধার শোধ করতে বলেই পাকিস্তানের কুমন্তব্যের শিকার সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (ইউএই)। পাকিস্তানের সেনেটর মুশাহিদ হুসেন এক টেলিভিশন আলোচনায় তিনি ইউএই-কে কটাক্ষ করে ‘মজবুর’ ও ‘বেচারা’ দেশ বলে উল্লেখ করেন(Pak UAE)। আবুধাবি ইসলামাবাদের কাছে দেওয়া ৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণ ফেরত চাইতে পারে এমন সম্ভাবনা তৈরি হতেই এই মন্তব্য করেন সেনেটর।
বিতর্কিত মন্তব্য পাক সেনেটরের (Pak UAE)
আলোচনায় হুসেন দাবি করেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর উন্নয়নে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এমনকি তিনি সতর্ক করে বলেন, ইউএই-তে বিপুল ভারতীয় প্রবাসী থাকার কারণে দেশটি নাকি “অখণ্ড ভারতের অংশ” হয়ে যেতে পারে। এই মন্তব্যকে অনেকেই অযৌক্তিক ও উসকানিমূলক বলে মনে করছেন।
পাক আর্থিক সঙ্কটে পাশে আবু ধাবি (Pak UAE)
বাস্তবে, ইউএই দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকটে সহায়তা করে এসেছে। ২০২৩ সালের শুরুতে আবুধাবি ১ বিলিয়ন ডলারের ঋণ দেওয়ার পাশাপাশি আগের ২ বিলিয়ন ডলারের আমানত পুনর্গঠন করে, যা পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি এনে দেয়। শুধু ঋণ নয়, বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ইউএই এগিয়ে রয়েছে। পাকিস্তানে একটি তেল শোধনাগার প্রকল্পে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: BLO FIR: সিইও দফতরের সামনে বিক্ষোভ: ১ মহিলা বিএলও এর বিরুদ্ধে FIR দায়ের
অনুচিত মন্তব্য দাবি বিশ্লেষকদের (Pak UAE)
এছাড়া ২০২৪ সালে এডি পোর্টস গ্রুপ করাচি বন্দরের কার্গো পরিচালনার জন্য ২৫ বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ধরনের মন্তব্য একেবারেই ‘টোন-ডেফ’। উচ্চ মূল্যবৃদ্ধি, কম বৈদেশিক রিজার্ভ এবং বিদেশি সহায়তার উপর নির্ভরশীলতার মধ্যে এমন বক্তব্য কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, ইউএই ও সৌদি আরবের মতো অংশীদারদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা পাকিস্তানের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



