Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতের কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দর প্রকল্প এখন এক অনিশ্চিত মোড়ে দাঁড়িয়ে। ২৬ এপ্রিল মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রকল্পটি কার্যত “আইনি সন্ধিক্ষণে” পৌঁছেছে। আগামী দুই সপ্তাহই এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে(India Chabahar)।
ভারতের আপাতত ‘হাইবারনেশন’ কৌশল (India Chabahar)
কাগজে-কলমে ভারত তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে। নয়াদিল্লি ইতিমধ্যেই ইরানকে ১২০ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক প্রতিশ্রুতি হস্তান্তর করেছে। কিন্তু বাস্তবে প্রকল্পটি প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এড়াতে ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড (IPGL)-এর বোর্ড অফ ডিরেক্টররা একযোগে পদত্যাগ করেছেন এবং সংস্থার ওয়েবসাইটও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, ভারত আপাতত ‘হাইবারনেশন’ কৌশল নিয়েছে চুক্তিগতভাবে প্রকল্পে থাকলেও কার্যত কাজ বন্ধ রেখেছে।
ভারতের ‘স্থগিত সম্পদ’
২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে চাবাহারের জন্য কোনো বরাদ্দ না থাকাও এই অবস্থানকে স্পষ্ট করে। অর্থাৎ, ভারত আপাতত এই প্রকল্পকে সক্রিয় নয়, বরং ‘স্থগিত সম্পদ’ হিসেবে দেখছে।
নিষেধাজ্ঞা উঠলে গুরুত্ব ফিরবে চাবাহারের (India Chabahar)
এদিকে, নিষেধাজ্ঞার ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময়কালটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইসলামাবাদে শুরু হওয়া শান্তি আলোচনায় ইরানের একটি বড় দাবি হল মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। যদি এই আলোচনায় অগ্রগতি হয়, তাহলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে। নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে চাবাহার আবারও আন্তর্জাতিক নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডোর (INSTC)-এর মূল প্রবেশদ্বার হিসেবে গুরুত্ব ফিরে পাবে।
ভারসাম্য রক্ষাই বড় পরীক্ষা (India Chabahar)
তবে ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জটি পরিকাঠামোগত। একদিকে তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা, অন্যদিকে ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন বড় পরীক্ষা। আগামী দিনে দিল্লি-ওয়াশিংটন বৈঠকই ঠিক করবে, চাবাহার প্রকল্প নতুন করে প্রাণ পাবে, নাকি অনিশ্চয়তার অন্ধকারেই থেকে যাবে।



