Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আর্টেমিস–২ মিশনের ঐতিহাসিক যাত্রা শেষে পৃথিবীতে ফিরলেন চার মহাকাশচারী। “ইন্টেগ্রিটি” নামের ওরায়ন মহাকাশযানটি ঘণ্টায় প্রায় ৪০,০০০ কিমি বেগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে সফলভাবে অবতরণ করে। এই ক্রুরা মানুষের ইতিহাসে সবচেয়ে দূরে অ্যাপোলো ১৩–এর রেকর্ডের থেকেও প্রায় ৪,০০০ মাইল বেশি ভ্রমণ করেছেন(Artemis II Space)।
তীব্র গতিতে বায়ুমণ্ডলে (Artemis II Space)
পৃথিবীতে ফেরার পুরো প্রক্রিয়াটি মাত্র ১৬ মিনিটের হলেও এটিই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ধাপ। বায়ুমণ্ডলে ঢোকার আগে ওরায়নের ইউরোপীয় সার্ভিস মডিউল আলাদা হয়ে যায়, ফলে সোলার প্যানেল, ইঞ্জিন ও জীবনধারণের উপকরণ বিচ্ছিন্ন হয়। এরপর ক্যাপসুলটি তীব্র গতিতে বায়ুমণ্ডলে ঢোকে, যেখানে ঘর্ষণের ফলে প্রায় ২,৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্লাজমা তৈরি হয় এবং সাময়িকভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
৪ গুণ বেশি মহাকর্ষীয় চাপ
এই সময় মহাকাশচারীরা পৃথিবীর তুলনায় চারগুণ বেশি মহাকর্ষীয় চাপ অনুভব করেন। ধীরে ধীরে গতি কমাতে ১১টি প্যারাশুট ব্যবহার করা হয় প্রথমে ড্রোগ শুট, তারপর পাইলট চুট, এবং শেষে প্রধান প্যারাশুটগুলো ক্যাপসুলের গতি কমিয়ে নিরাপদ অবতরণ নিশ্চিত করে।
অবতরণের পরই শুরু উদ্ধার অভিযান (Artemis II Space)
সমুদ্রে অবতরণের পরই শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। মার্কিন নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং নাসার যৌথ দল দ্রুত ক্যাপসুলের দিকে এগিয়ে যায়। ডুবুরিরা মহাকাশচারীদের “ফ্রন্ট পোর্চ” প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসে বিশেষ ভেস্ট পরিয়ে হেলিকপ্টারে তোলেন। সেখান থেকে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় ইউএসএস জন পি মুর্থা জাহাজে।
প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা (Artemis II Space) (Artemis II Space)
জাহাজে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। এরপর ওরায়ন ক্যাপসুলটিকেও জাহাজে তোলা হয়। এই পুরো উদ্ধার প্রক্রিয়া আর্টেমিস–১ মিশনের মতোই পরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা ভবিষ্যতের চন্দ্র অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



