Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: উত্তর-পূর্ব ভারতের অশান্ত রাজ্য মণিপুর-এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শহিদ হলেন পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার এক তরুণ জওয়ান মিঠুন মণ্ডল (Manipur)। Border Security Force-এর ১৭০ ব্যাটালিয়নের সদস্য হিসেবে তিনি উখরুল জেলার মংকোট চেপু এলাকায় টহল দিচ্ছিলেন। সেই সময় আচমকা অজানা দিক থেকে গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রাণ হারান তিনি দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে।

গ্রামের আকাশে নেমে এলো শোকের ছায়া (Manipur)
মালদার মোথাবাড়ির উত্তর লক্ষীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভাগজান টোলা এই ছোট্ট গ্রামেই ছিল মিঠুনের বাড়ি। মৃত্যুর খবর পৌঁছাতেই গোটা এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। প্রতিবেশী থেকে আত্মীয় সকলেই স্তব্ধ। যে ছেলেটি গ্রামের গর্ব ছিল, সেই আজ আর ফিরবে না এই বাস্তবতা মেনে নিতে পারছে না কেউই।
দুটি ফোনকলেই শেষ হয়ে গেল সব (Manipur)
পরিবারের কথায় জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা প্রায় ৭টার সময় প্রথম ফোন আসে দপ্তর থেকে, “মিঠুন গুলিবিদ্ধ, অবস্থা সংকটজনক।” কিন্তু মাত্র ১৫ মিনিট পর দ্বিতীয় ফোন, “মিঠুন আর নেই, তিনি শহিদ হয়েছেন।” এই অল্প সময়ের ব্যবধানে একটি পরিবারের জীবন যেন সম্পূর্ণ বদলে যায়। আশার আলো নিভে গিয়ে নেমে আসে অন্ধকার।

কমাত্র উপার্জনকারী হারিয়ে দিশাহারা পরিবার (Manipur)
মিঠুন ছিলেন পরিবারের বড় ছেলে এবং একমাত্র উপার্জনকারী। বাবা মন্টু মণ্ডল (৬১) কৃষিকাজ করে সংসার চালাতেন, ছোট ভাই বাবার সঙ্গে মাঠে কাজ করেন। প্রায় ৬ বছর আগে মিঠুনের বিয়ে হয় সুলেখা মণ্ডলের সঙ্গে। তাদের দুটি ছোট সন্তান ৫ বছরের ছেলে ও ৩ বছরের মেয়ে। আজ সেই পরিবার গভীর অনিশ্চয়তার মুখে। স্বামীর মৃত্যুর খবরে সুলেখা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। ছোট ছোট সন্তানের ভবিষ্যৎ এখন এক বড় প্রশ্নচিহ্ন।
বাবা-মায়ের অসহায় কান্না (Manipur)
ছেলের অকাল মৃত্যুর শোকে ভেঙে পড়েছেন বাবা মন্টু মণ্ডল। তাঁর চোখে জল, কণ্ঠে অসহায়তা, “ছেলে বলত দেশের জন্য কাজ করবে, কিন্তু এভাবে চলে যাবে ভাবিনি…” বাড়িতে রয়েছেন বৃদ্ধা মা, যিনি এই শোক কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। তাঁদের কাছে মিঠুন শুধু ছেলে নয়, ছিল ভরসা, ছিল ভবিষ্যতের স্বপ্ন।

আরও পড়ুন: Rashmika Bunglow: বিয়ের পর প্রথম জন্মদিন পালন রশ্মিকার: বাবা দিলেন বিলাসবহুল বাংলো
আত্মীয়দের চোখে মিঠুন
পরিবার ও আত্মীয়দের মতে, মিঠুন ছিলেন অত্যন্ত শান্ত ও দায়িত্ববান। নিজের পরিবারের জন্য যেমন নিবেদিত ছিলেন, তেমনই দেশের প্রতিও তাঁর ছিল গভীর ভালোবাসা। তাঁর এই আত্মত্যাগ একদিকে গর্বের, অন্যদিকে অসহনীয় বেদনার।



