Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আট ঘণ্টা বিছানায় থেকেও ক্লান্তি না কাটার অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, সমস্যাটা ঘুমের পরিমাণে নয়, বরং ঘুমের গুণমানে বিশেষ করে যে অংশটুকু আমরা হারাচ্ছি, সেটাতেই আসল ক্ষতি(Sleep Tireness)।
‘স্লো-ওয়েভ স্লিপ’ (Sleep Tireness)
ঘুম একটানা নয়, এটি কয়েকটি ধাপে বিভক্ত একটি চক্র। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ‘স্লো-ওয়েভ স্লিপ’ যেখানে শরীর কোষ মেরামত করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয় এবং গ্রোথ হরমোন নিঃসৃত হয়। সাধারণত এই ধাপ মোট ঘুমের ১০% থেকে ২০%, অর্থাৎ প্রায় ৪০ থেকে ১১০ মিনিট। কিন্তু এই সময়টুকু কমে গেলে বা ভেঙে গেলে বাকি সময় কোনোভাবেই সেই ঘাটতি পূরণ হয় না। ফলে শরীর ও মনের কার্যক্ষমতা কমে যায়, যদিও কাগজে-কলমে ঘুমের সময় ঠিকই থাকে।
সমস্যা আধুনিক জীবনযাপন
সমস্যার আরেকটি বড় কারণ আমাদের আধুনিক জীবনযাপন। ঘুম শুরু হওয়ার জন্য শরীরে একটি হরমোনাল প্রক্রিয়া কাজ করে কর্টিসল কমে, শরীর শান্ত হয়, আর জৈব ঘড়ি রাতের মোডে যায়। কিন্তু রাতেও ফোন, কাজ বা ডিজিটাল স্ক্রিনের সংস্পর্শে থাকলে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। তখন শরীর বিছানায় থাকলেও মস্তিষ্ক সতর্ক অবস্থায় থেকে যায়।
‘গ্লিমফ্যাটিক সিস্টেম’ ব্যাহত হয় (Sleep Tireness)
ঘুমের সময় মস্তিষ্কে ‘গ্লিমফ্যাটিক সিস্টেম’ সক্রিয় হয়ে ক্ষতিকর বর্জ্য পরিষ্কার করে। ঘুম খারাপ হলে এই পরিষ্কার প্রক্রিয়াও ব্যাহত হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
আরও পড়ুন: Iran Mine: ভুলে গিয়েছে মাইনের খোঁজ: হরমুজে যাতায়াত নিরাপদ নয়, কেন বলছে ইরান?
হাতেই আছে সমাধান (Sleep Tireness)
সমাধান খুব জটিল নয় প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও ওঠা, রাতে আলো ও স্ক্রিন কমানো, আর ঘুমের আগে নিজেকে কাজ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা। সকালে সূর্যের আলোয় কিছু সময় কাটানোও ঘুমের মান বাড়ায়। শেষ কথা, শুধু আট ঘণ্টা ঘুম নয় সেই ঘুম কতটা গভীর, সেটাই আসল।



