Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভোটের উত্তেজনার মধ্যেই যে দিল্লির এমন হার হল, সেই খবর দেওয়াল লিখনে প্রচার হয়ে গিয়েছে (CSK vs DC)।
সঞ্জুর সেঞ্চুরি, সরফরাজের দুর্দান্ত ক্যাচ (CSK vs DC)
‘বুকে আমার বারুদের বাসা সজনী’, শিলাজিতের এই গানের লাইন বহুল প্রচারিত না হলেও সংগীতপ্রেমীরা জানেন। কিছুটা সরল করে বললে বুকে আমাদের বারুদ জমে থাকে, একটা সুযোগ পেলেই সেটা জ্বলে ওঠে আর চারদিক ঝলসে দিতে পারে। এমনটাই হল দিল্লির বিরুদ্ধে (CSK vs DC)।
ভোটের উত্তাপ এখন হিল্লি-দিল্লির পথ পেরিয়ে বাংলা হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে সাতসমুদ্র হিমাচলে আর সেই মত চলছে দেওয়াল লিখন। কিন্তু যাঁরা দেওয়াল লিখছেন তাঁরা কি খবর রাখেন যে ভোটের আগেই হেরে গেল দিল্লি?
না এই হার ভোটে না, চলতি আইপিএল-এ চেন্নাই নিজেদের প্রথম জয় পেল দিল্লির বিরুদ্ধে। এই ম্যাচে সঞ্জুর অনবদ্য সেঞ্চুরিতে শাপমোচন হল ধোনিহীন চেন্নাইয়ের। সঠিক সময়ে জ্বলে ওঠার যদি অন্যতম শ্রেষ্ট কোনও উদাহরণ থাকে তবে তাঁর নাম সঞ্জু (CSK vs DC)।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ থেকে রান না পাওয়ার কারণে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। কিন্তু তিনি এমন সময় ফিরলেন যখন দলের সবথেকে বেশি প্রয়োজন ছিল। সুপার এইট থেকে সেমিফাইনাল, সেমিফাইনাল থেকে ফাইনাল এবং ফাইনাল। তিন ম্যাচেই সঞ্জু হিরো। চলতি আইপিএল-এও একই ছবি। কিন্তু তাঁর সেঞ্চুরির সঙ্গে কামব্যাক করল চেন্নাই। আর সেটাও এমন এক ইনিংসে, যা ক্রিকেটেপ্রেমীদের মনে থেকে যাবে সারাজীবন।
টানা তিন ম্যাচে ব্যর্থতা, আবার সমালোচনা, কটাক্ষ। কিন্তু ‘এভাবেও ফিরে আসা যায়’, নাকি এভাবেই ফিরে আসতে হয়? এর উত্তর তোলা থাক সমর্থকদের জন্য। বরং এবার আসা যাক ম্যাচের ছবিতে।
চেন্নাইয়ের এই জয়ের ভিত গড়ে দেন এই দিন একা হাতে সঞ্জু স্যামসন। তাঁর ঝোড়ো সেঞ্চুরি শুধু ইনিংস নয়, ম্যাচের অভিমুখ বদলে দেয়। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দিল্লির বোলারদের চাপে রাখেন তিনি, আর সেই চাপ থেকে বেরোতেই পারেনি অক্ষর প্যাটেলরা (CSK vs DC)।
এর পর ইন্টারভাল কাটিয়ে স্ক্রিনে আসে চেন্নাইয়ের বোলিং বিভাগ। পরিকল্পিত আক্রমণ আর ধারাবাহিক চাপে একের পর এক ভেঙে পড়তে থাকে দিল্লির ব্যাটিং লাইনআপ। কেএল রাহুল, অক্ষর প্যাটেল কেউই দাঁড়াতে পারলেন না। শেষ পর্যন্ত এই ব্যর্থতারই খেসারত দিয়ে হার স্বীকার। প্রসঙ্গত আরেকজন ক্রিকেটারকে নিয়েও বিস্তর সমালোচনা হয়েছে, তিনি হলেন সরফরাজ খান। যিনি ফিটনেস নিয়ে যে যথেষ্ট খেটেছেন সেটা আবারও প্রমাণ পাওয়া গেল এই ম্যাচে। অক্ষর প্যাটেলের ক্যাচ বাঘের মত লাফিয়ে এমনভাবে তালুবন্দি করলেন যেন এ তাঁরই শিকার।
আরও পড়ুন: https://ktvbangla.com/sunrisers-hyderabad-vs-punjab-kings-match-ipl-2026/
সঞ্জু এই দিন দুই দায়িত্ব একা হাতে সামলালেন। একদিকে ধরে রাখলেন উইকেট আর অন্যদিকে বজায় রাখলেন রান তোলার গতি। তিনি মনে করিয়ে দিলেন পাতালঘর সিনেমার একটি গানের লাইন, ‘আমি যেকোন ভূমিকায় সমানে লড়ে যাই, আপনি যা চান আমি ঠিক তাই।’ ২৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করে বুঝিয়ে দেন তিনি আজ থামার পাত্র নন। শেষ পর্যন্ত ৫৬ বলে ১১৫ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি, ইনিংসে ছিল ১৫টি চার ও ৪টি ছক্কা। এটি তাঁর IPL কেরিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি, আর এই ইনিংস প্রমাণ করলেন ফর্মে থাকলে তিনি অন্যতম ভয়ঙ্কর (CSK vs DC)।
এ দিন সঞ্জুকে দুর্দান্ত সঙ্গত দিলেন তরুণ আষুষ মাত্রে। ৩৬ বলে ৫৯ রানের ঝকঝকে ইনিংসে তিনিও আক্রমণাত্মক ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন রণক্ষেত্রে। এই দুই ব্যাটারের দাপটে চেন্নাই সুপার কিংস নির্ধারিত ২০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে তোলে ২১২ রান। যা শেষ পর্যন্ত দিল্লি তুলতে অক্ষম হয় (CSK vs DC)।
২১৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই পরপর উইকেট হারিয়ে হোঁচট খেতে শুরু করে দিল্লি ক্যাপিটালস। পাওয়ার প্লে-তেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় তারা। ওপেন করতে নেমে পাথুম নিশঙ্কা কিছুটা লড়াইয় চালান। ২৪ বলে ৪১ রান করে, ২টি ছক্কা ও ৫টি চারে তিনি দিল্লির ইনিংসকে কিছুটা পালে হাওয়া দেয়। মিডল অর্ডারে নেমে নামা ত্রিস্তান স্টাবস কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও, অন্য প্রান্ত ধসে যায়। এ দিন ৩৮ বলে লড়াকু ৬০ করেন স্টাবস। কিন্তু ম্যাচের ভাগ্য তার আগেই নির্ধারণ হয়ে গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত দিল্লি নির্দিষ্ট ২০ ওভারে ১৮৯ রানে অলআউট হয়ে যায়।
চেন্নাইয়ের হয়েছ দুরন্ত বোলিং করেছেন জেমি ওভারটন। ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নেন জেমি। অংশুল কম্বোজ নেন ৩ উইকেট। সঞ্জুর রানে ফেরার দিনই চেন্নাইও ফিরল জয়ের সরণিতে (CSK vs DC)।


