Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে (Asha Bhosle) এমন কিছু নাম রয়েছে, যাঁদের ছাড়া সেই অধ্যায় অসম্পূর্ণ। আশা ভোঁসলে তাঁদেরই অন্যতম। ১৯৪০-এর দশক থেকে শুরু করে টানা কয়েক দশক ধরে তাঁর কণ্ঠে ধরা পড়েছে অসংখ্য ভাষা, অসংখ্য সুর, আর অগণিত আবেগ। হিন্দি থেকে বাংলা, মারাঠি থেকে আরও নানা ভাষায় তাঁর গান মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে অনায়াসে।
প্রয়াত আশা (Asha Bhosle)
১২ এপ্রিল তাঁর প্রয়াণের খবরে সঙ্গীতজগত (Asha Bhosle) যেন স্তব্ধ। তবে শিল্পী চলে গেলেও তাঁর কণ্ঠ যে অমর-তা নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছেন শ্রোতারা। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী-দেশের প্রতিটি প্রান্তেই তাঁর গান সমানভাবে প্রিয় ছিল।
কলকাতার প্রতি ভালোবাসা (Asha Bhosle)
কলকাতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল একেবারেই আলাদা। বহু বছর আগে এক সফরে এসে এই শহরের প্রেমে পড়ে যান তিনি। সেই থেকে বারবার ফিরে এসেছেন তিলোত্তমায়। সলিল চৌধুরীর এক প্রশ্নের উত্তরে হাসিমুখে জানিয়েছিলেন-কলকাতাই নাকি তাঁর সত্যিকারের ভালোবাসা। শহরের সংস্কৃতি, মানুষের জীবনযাপন, খাবার-সবকিছু নিয়েই তাঁর আগ্রহ ছিল অপরিসীম।
আরও পড়ুন: Nora Fatehi: নারীবাদের ধার ধারেন না নোরা! তুঙ্গে বিতর্ক
হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে প্রথম কলকাতায় আসা। তারপর ধীরে ধীরে এই শহর হয়ে ওঠে তাঁর কাছে আপন। বাংলা গানের জগতে তাঁর প্রবেশও সেই সময় থেকেই। নিউ মার্কেটের ভিড়, অলিগলির রঙ, এমনকি সর্ষে দিয়ে মাছ বা সন্দেশের স্বাদ-সবকিছুই তাঁকে টানত বারবার।
একবার কলকাতায় অনুষ্ঠান শেষে এক বৃদ্ধা তাঁর পায়ে লুটিয়ে পড়ে তাঁকে ‘দুর্গা’ আর ‘কালী’ বলে ডাকেন। সেই মুহূর্ত শিল্পী আর শ্রোতার সম্পর্ককে যেন অন্য মাত্রা দেয়।
আশা ভোঁসলের জীবনে ভাষা বা প্রদেশ কোনও বাধা ছিল না। তাঁর পরিচয় একটাই-তিনি শিল্পী। আর সেই শিল্পী আজও বেঁচে আছেন তাঁর অমলিন সুরে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ছুঁয়ে যাবে।


