Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ঘরের মাঠে মরশুমের প্রথম জয় পেল কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR vs RR)।
জোড়া কামব্যাক রিঙ্কু-বরুণের (KKR vs RR)
ঘরের মাঠে কলকতার সমর্থন বরাবরই ছিল। তবে এই মরশুমের শুরুটা এমন হয় যে সমর্থকরা হতাশ হতে শুরু করে দেয়। সবার মনে একটাই প্রশ্ন কবে ফিরবে বাদশার দল। অবশেষে এল এই মরশুমের প্রথম জয়। বরুণ-রিঙ্কুর দাপটে ছারখার হল জেন জি ব্রিগেড (KKR vs RR)।
বিশ্বকাপ থেকে অফ-ফর্মের শিকার বরুণ চক্রবর্তী। আইপিএল-এর পাঁচ ম্যাচ সেখানেও তখন সমালোচনার মুখে ভারতের মিস্ট্রি স্পিনার। তবে রাজস্থানের বিরুদ্ধে চেনা ছন্দে ধরা দিলেন এই তারকা স্পিনার। আগের ম্যাচে দুই উইকেট নিলেও এই ম্যাচে নিলেন তিন উইকেট। অন্যদিকে রিঙ্কু আজ ম্যাচ জিতিয়ে জবাব দিলেন সমালোচকদের। পেস বিভাগে জ্বলে উঠলেন কার্তিক ত্যাগী।
রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে শুরুটা দারুণভাবে করেন বৈভব সূর্যবংশী ও যশস্বী জয়সওয়াল। ৮১ রানের জুটি গড়েন এই দুই বিধ্বংসী ওপেনার। নবম ওভারে বোলিংয়ে আসেন বরুণ। প্রথম ওভারেই তুলে নেন সূর্যবংশীর উইকেট। বড় শট খেলতে গিয়ে রামনদীপের হাতে ক্যাচ দেন। ২৮ বলে ৪৬ করে ফেরেন তিনি। ওই ওভারে দেন মাত্র ১ রান।
পরের ওভারে মাত্র তিন রান দেন। দ্বিতীয় বলেই আউট করেন ধ্রুব জুরেলকে। তাঁকে ফেরান জ্বলে ওঠার আগেই। ততক্ষণে রাজস্থান চাপে (KKR vs RR)।

এরপর বল হাতে কামাল দেখান কার্তিক ত্যাগী। বোলিং বিভাগই আজ খেলার রাশ নিয়ে আসে কলকাতার দিকে। কার্তিক প্রথম বলে ফেরান রবীন্দ্র জাডেজাকে (৯)। তৃতীয় বলে আউট হন সিমরন হেটমেয়ের (১৫)। পঞ্চম বলে ফেরেন রবি বিষ্ণোই (০)। চার ওভারে ২২ রান দিয়ে তিন উইকেট তুলে নেন কার্তিক। ম্যাচে দুই উইকেট নিয়েছেন নারিনও। শেষ পর্যন্ত ১৫৫ রান তোলে রাজস্থান রয়্যালস।
আরও পড়ুন: Accident News: বাইক নিয়ে ওভারটেকের জেরে খুন!
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শূন্য রানে ফেরেন কলকাতার দুই ওপেনার। এই ম্যাচেও ব্যর্থ হলেন অধিনায়ক রাহানে। গ্রিনও আজ দায়িত্ব নিতে পারেননি। তবে অনেক সমালোচনা হয়েছে রিঙ্কু সিংকে নিয়ে। দাবি উঠেছে তাঁকে বাদ দেওয়ার। তবে আজ বাকিরা ব্যর্থ হলেও নিজের পুরনো ছন্দে জ্বলে উঠলেন রিঙ্কু।
যে রিঙ্কুকে নিয়ে এত সমালোচনা ছিল তুঙ্গে আজ সেই রিঙ্কুই এনে দিলেন মরশুমের প্রথম জয়ের। ক্রিকেটের নন্দন কানন এই ইনিংস দেখার পর কিছুটা স্বস্তি পেল। ৩৪ বলে ৫৩ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেললেন, রিঙ্কুকে যোগ্য সঙ্গত দিলেন অনুকূল রায়। তিনি ১৬ বলে করলেন ২৯ রান। দুজনেই অপরাজিত থেকে জয় ছিনিয়ে মাঠ ছাড়েন। ৪ উইকেটে প্রথম জয় নাইট শিবিরের আরেকবার উস্কে দিল ২০১৪ সালের স্মৃতি। এখন দেখার ফিরে পাওয়া ফর্ম ধরে রাখতে কতটা সক্ষম হয় কেকেআর (KKR vs RR)।
২০-২৫ রান কম করা এবং রিঙ্কুর ক্যাচ ফেলে দেওয়াটাই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট বলে জানিয়ে গেলেন রাজস্থানের সহকারী কোচ বিক্রম রাঠোর। বরুণ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আরও একটু আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করলে ভালো হতো বলেও জানিয়ে গেলেন রাঠোর।
রিঙ্কুর প্রশংসাও করেছেন রাঠোর। তিনি বলেন, ‘রিঙ্কু এই মুহূর্তে দেশের অন্যতম সেরা ফিনিশার। ফর্মে ছিল না। রানে ফিরেছে ভালো লাগছে (KKR vs RR)।
রান কম ওঠার জন্য ইডেনের মন্থর উইকেটকেও কিছুটা দায়ী করলেন রাঠোর। বলেন, ‘কেকেআর বোলাররা ভালো করেছে। কিন্তু উইকেট স্লো হবে, তা আমরা আন্দাজ করেছিলাম। কিন্তু এতটাও স্লো হবে ভাবতে পারিনি। আমাদের খেলোয়াড়রা খেলতে খেলতে বুঝেছি।’
আজকের এই জয়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই জানালেন কেকেআর-এর জয়ের অন্যতম নায়ক বরুণ চক্রবর্তী। তিন উইকেট নেওয়া নাইট স্পিনার বলেন, ‘আজকের এই জয়টা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জয়ের পর ড্রেসিংরুমে আমাদের অনেকে কেঁদে ফেলেছে। ২০২৪ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সময়ও যা দেখিনি। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে, এই জয়টা আমাদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।’ তবে উইকেট নিয়ে কিছু বলতে রাজি হননি বরুণ। বলছিলেন, ‘উইকেট একটু মন্থর ছিল। আগের ম্যাচের উইকেট অন্যরকম ছিল। উইকেট নিয়ে কিছু বলতে চাই না। যে ধরনের উইকেটই হোক আমরা সবসময় প্রস্তুত (KKR vs RR)।’


