Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসে, ততই প্রশাসনের ওপর বাড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার চাপ (Kolkata Police)। বিশেষ করে মহানগরী কলকাতার মতো জনবহুল এলাকায় বেআইনি কার্যকলাপ মাদক পাচার, অস্ত্র সরবরাহ বা অবৈধ অর্থ লেনদেন নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) সক্রিয় নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে শহরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায়।
গোপন তথ্য থেকে অভিযান (Kolkata Police)
১৯শে এপ্রিল বিকেলে একটি নির্ভরযোগ্য গোপন সূত্রের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে যে, উত্তর কলকাতার স্ট্যান্ড ব্যাঙ্ক রোড সংলগ্ন চম্পাতলা ঘাট এলাকায় বড়সড় মাদক লেনদেন হতে চলেছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই STF এবং নর্থ পোর্ট থানার পুলিশ যৌথভাবে একটি সুপরিকল্পিত অভিযান চালায়। এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয় এবং সন্দেহভাজন যানবাহনের ওপর কড়া নজর রাখা হয়।
স্কুটি তল্লাশিতে চাঞ্চল্যকর উদ্ধার (Kolkata Police)
অভিযানের সময় একটি স্কুটি (নম্বর: WB 24 BB 2822) পুলিশের নজরে আসে। সন্দেহ হওয়ায় সেটিকে আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির ফলেই সামনে আসে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য স্কুটির ভেতর থেকে উদ্ধার হয় মোট ১৪ কেজি ৬৬০ গ্রাম গাঁজা। এত বড় পরিমাণ মাদক একসঙ্গে উদ্ধার হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

সরবরাহকারী ও গ্রাহক (Kolkata Police)
এই ঘটনায় পুলিশ দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে, যাদের মধ্যে একজন মাদক সরবরাহকারী এবং অন্যজন গ্রাহক হিসেবে কাজ করছিল, পাপাই দাস (৪১): নিমতা সুভাষপল্লীর বাসিন্দা। তদন্তে জানা গেছে, সে মূলত এই মাদক সরবরাহের দায়িত্বে ছিল এবং দীর্ঘদিন ধরেই এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। গৌতম বেরা ওরফে মামা (৫০): শ্যামপুকুর থানার বিশ্বম্বর মল্লিক লেনের বাসিন্দা। সে এই মাদক সংগ্রহ করতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছিল। পুলিশের অনুমান, এরা বৃহত্তর একটি মাদক চক্রের অংশ, যার শিকড় শহরের বাইরেও বিস্তৃত হতে পারে।
বিপুল আর্থিক লেনদেনের ইঙ্গিত (Kolkata Police)
উদ্ধার হওয়া গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা। এই পরিমাণ মাদক শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে মনে করছে পুলিশ। ফলে এই অভিযান শুধু একটি অপরাধ প্রতিরোধই নয়, বরং সম্ভাব্য বড় ক্ষতির হাত থেকেও শহরকে রক্ষা করেছে।
আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্তের অগ্রগতি (Kolkata Police)
ধৃতদের নর্থ পোর্ট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আজ তাদের আদালতে পেশ করা হবে। পুলিশ এখন জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জানতে চাইছে, এই চক্রের পেছনে আর কারা রয়েছে, এবং মাদক কোথা থেকে শহরে আনা হচ্ছিল। আন্তঃরাজ্য কোনো সংযোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: BJP Attacks TMC: ‘তৃণমূলকে ভোট দেব’ বলাতেই মহিলাকে ঠাসিয়ে চড় বিজেপি নেতার
শূন্য সহনশীলতা
নির্বাচনের আগে এই ধরনের অভিযান প্রশাসনের কড়া বার্তা বহন করে মাদক বা যে কোনো বেআইনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। STF-এর এই সাফল্য প্রমাণ করে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সর্বদা তৎপর এবং প্রস্তুত।



