Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: গোপাল শীল দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভোটের রেশ কাটার (TMC Allegation) আগেই ফের উত্তপ্ত গঙ্গাসাগর। এবার এক পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়ি থেকে সরকারি ত্রিপল, এসি নেট ও মাছের খাবার উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল গঙ্গাসাগরের রুদ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের মনসা দেবী জীবনতলার ১০৬ নম্বর বুথ এলাকায়। অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্যের নাম শেখ মান্নান।
তুমুল রাজনৈতিক তরজা (TMC Allegation)
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে (TMC Allegation) রাজনৈতিক তরজা চরম আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মনসা দেবী জীবনতলা এলাকার বাসিন্দারা আচমকাই তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য শেখ মান্নানের বাড়িতে চড়াও হন। তল্লাশি চালাতেই তাঁর বাড়ির বাথরুমের পাশ থেকে লুকানো অবস্থায় উদ্ধার হয় ৩ বস্তা এসি নেট, ১৬টি সরকারি ত্রিপল এবং বেশ কিছু মাছের খাবার। এই খবর কানাকানি হতেই শয়ে শয়ে মানুষ ঘটনাস্থলে এসে জড়ো হন এবং মেম্বারকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ (TMC Allegation)
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, তাঁরা আগে (TMC Allegation) মেম্বারের কাছে ত্রিপল চাইতে গেলে তিনি ‘নেই’ বলে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। অথচ নিজের বাড়িতে এত সরকারি জিনিস লুকিয়ে রেখেছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সাগর থানার পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতিতে সমস্ত উদ্ধার হওয়া সামগ্রী উদ্ধার করে বিডিও অফিসে জমা দেওয়া হয়। তবে অভিযুক্ত মেম্বারকে পুলিশ গ্রেফতার বা কোনো শাস্তি না দেওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী।
কী সাফাই দিলেন সদস্য?
যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পঞ্চায়েত সদস্য শেখ মান্নান। তিনি জানান, “আমার বাড়িতে বিজেপির কিছু লোক এসে আচমকা চড়াও হয়। আমার বসত ঘরে তিনটি এসি নেট, চারটি নতুন এবং একটি পুরনো ত্রিপল ছিল। তারা সমস্ত কিছু টেনেহিঁচড়ে বের করে মোবাইলে ক্যামেরা করতে থাকে।” তিনি আরও দাবি করেন, “আমি স্থানীয় মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি। ঈদের নামাজের সময় বিডিও সাহেবের কাছ থেকে চেয়ে ৩-৪টি ত্রিপল নিয়ে আসা হয়েছিল। সামনে কুরবানি ঈদ আসছে, সেই সময় ব্যবহারের জন্যই এগুলি রাখা ছিল। বর্তমানে বিডিও সাহেব সমস্ত জিনিস রিসিভ করে অফিসে জমা নিয়েছেন।”
আরও পড়ুন: River Mishap: খেলতে যাওয়াই কাল, নদীতে ডুবে মৃত্যু দুই ভাইয়ের!
সুর ছড়িয়েছে বিজেপি
এই ঘটনা নিয়ে সুর চড়িয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, “জনগণের পরিষেবার জন্য আসা সরকারি জিনিসপত্র আত্মসাৎ করে ঘরে মজুত করে রেখেছিলেন ওই মেম্বার। ভোটের সময় এই সমস্ত সামগ্রী দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করা হয়েছে। এমনকী কিছু ত্রিপল তিনি চড়া দামে বিক্রিও করেছেন বলে আমাদের কাছে খবর রয়েছে।” বিজেপি নেতৃত্বের আরও অভিযোগ, “প্রশাসন গিয়ে মাল উদ্ধার করার পর ওই মেম্বার এলাকায় ফিরে এসে নতুন করে সন্ত্রাস চালাচ্ছেন। সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন। আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং অবিলম্বে তদন্ত করে ওই মেম্বারকে গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি। উদ্ধার হওয়া সরকারি সামগ্রী নিয়ে বর্তমানে বিডিও অফিস এবং পুলিশের তরফে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রুদ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বজায় রয়েছে।


