Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রাক্তন বিতর্কিত অধ্যক্ষ ডাক্তার সন্দীপ ঘোষের কলকাতার আবাসন নিয়ে এবার বড় পদক্ষেপ নিল কলকাতা পুরসংস্থা(Sandip Housing)।
সন্দীপ ঘোষের আবাসনের একাংশ ভাঙার নির্দেশ (Sandip Housing)
বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে বেলেঘাটার বদন রায় লেনের একটি আবাসনের একাংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে কেএমসি-র বিল্ডিং বিভাগ।
পুরসংস্থার ৩ নম্বর বরোর অন্তর্গত ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৮৩, বদন রায় লেনের ওই ঠিকানায় ডাক্তার সন্দীপ ঘোষ এবং ডাক্তার সঙ্গীতা ঘোষের নামে একটি ডিমোলিশন মামলা চলছিল, যার নম্বর ৪৩-ডি/৩/২৪-২৫।
আইন না মেনে নির্মাণ
অংশুমান সরকার নামে এক ব্যক্তি এই বিষয়ে পুরসংস্থায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। অভিযোগে জানানো হয়েছিল, ২০০৯ সালের বিল্ডিং বিধির ১৩৩ এবং ১৩৪ নম্বর নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ওই বহুতলের ছাদে এবং দোতলায় কিছু অননুমোদিত নির্মাণ করা হয়েছে।
ছাদের উপর বেআইনি নির্মাণ
কেএমসি-র তদন্তকারী রিপোর্টে এই আবাসনে একাধিক বেআইনি নির্মাণের কথা স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল ছাদের পর নতুন করে তৈরি করা আনুমানিক ৫.৪২৫ বর্গমিটার ক্ষেত্রফল এবং ২.০৫ মিটার উচ্চতার একটি ছোট পারগোলা। এ ছাড়াও লিফটের মেশিন রুমে যাওয়ার জন্য ছাদের ওপর একটি লোহার স্ক্রু বা স্পাইরাল সিঁড়ি তৈরি করা হয়েছে এবং দ্বিতীয় তলে দরজার জায়গায় নতুন করে একটি ইটের দেওয়াল গেঁথে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি
১৪ মে, ২০২৬ তারিখে কলকাতা পুরসংস্থার স্পেশাল অফিসার (বিল্ডিং) এস বোরালের এজলাসে এই মামলার চূড়ান্ত শুনানি হয়। সেখানে অভিযোগকারী এবং সন্দীপ ঘোষ উভয় পক্ষই উপস্থিত ছিলেন। শুনানির সময় অভিযোগকারী দাবি জানান, ছাদের ওই বেআইনি পারগোলাটি কোনোভাবেই বহাল রাখতে দেওয়া যাবে না।
সন্দীপ ঘোষের স্বীকারোক্তি
সন্দীপ ঘোষ নিজেই স্বীকার করে নেন যে, মূল কমপ্লিশন প্ল্যানে এই পারগোলার কোনো উল্লেখ ছিল না। তবে তিনি আদালতকে জানান যে, বাড়ির সংস্কার কাজ চলার কারণে এটি তৈরি হয়েছিল এবং আগামী দু’মাসের মধ্যে তিনি নিজেই এটি সরিয়ে নেবেন।
কেএমসি-র চূড়ান্ত নির্দেশ জারি (Sandip Housing)
উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং নথিপত্র খতিয়ে দেখার পর কেএমসি-র স্পেশাল অফিসার চূড়ান্ত নির্দেশ জারি করেছেন। নির্দেশনামা হাতে পৌঁছানোর ঠিক ৪৫ দিনের মধ্যে ছাদের ওই বেআইনি পারগোলাটি সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করতে হবে।
আরও পড়ুন: Ebola Virus: ইবোলার আঁচ ভারতেও! বিমানবন্দরে জারি সতর্কতা!
ট্রাইব্যুনালে আপিল করা যাবে (Sandip Housing)
তবে এই আদেশে কোনও পক্ষের আপত্তি থাকলে, তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আইন অনুযায়ী মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারবেন। এখন দেখার, পৌরসংস্থার বেঁধে দেওয়া এই ৪৫ দিনের ডেডলাইনের মধ্যে সন্দীপ ঘোষের এই বিতর্কিত নির্মাণ সরানোর কাজ শেষ হয়, নাকি জল গড়ায় আরও বহুদূর।



