Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: উত্তরবঙ্গে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া জারি রয়েছে কমলা (Weather Report) ও হলুদ সতর্কতা অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল দক্ষিণবঙ্গবাসী
উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া (Weather Report)
গত কয়েকদিন ধরে একটানা ভারী থেকে অতি ভারী (Weather Report) বৃষ্টিতে ভিজছে উত্তরবঙ্গ। আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, হিমালয় সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলিতে প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ এখনই থামার কোনো লক্ষণ নেই। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ তীব্র বৃষ্টিপাত এবং ঝোড়ো হাওয়ার কারণে উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় ইতিমধ্যেই ‘কমলা’ এবং ‘হলুদ’ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনায় স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত।
জারি সতর্কতা (Weather Report)
সতর্কবার্তা ও জেলাভিত্তিক পরিস্থিতি অনুযায়ী আলিপুর হাওয়া (Weather Report) অফিসের বুলেটিন – উত্তরবঙ্গের পার্বত্য ও সমতলের এক বিরাট অংশে তীব্র বজ্রঝড় ও অতি ভারী বৃষ্টির জন্য কমলা সতর্কতা জারি রয়েছে। বিশেষ করে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলার পাশাপাশি তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কিছু অংশেও এই সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। এই জেলাগুলিতে বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যান্য সময়ে বা বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলে আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং জলপাইগুড়ি জেলার কিছু অংশে হলুদ সতর্কতা বজায় থাকছে, যেখানে মাঝারি বজ্রপাত ও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
তিন বড়সড় আশঙ্কা (Weather Report)
টানা বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে আবহাওয়া দপ্তর প্রধানত তিনটি বড়সড় আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছে:
১. বজ্রপাত: তীব্র বজ্রঝড়ের কারণে খোলা জায়গায় বা মাঠে থাকা মানুষদের ওপর বজ্রাঘাতের ব্যাপক ঝুঁকি রয়েছে।
২. গাছপালা ভেঙে পড়া: ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ছুটে আসা দমকা বাতাসের জেরে দুর্বল ও পুরোনো গাছপালা এবং বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
৩. ফসলের ক্ষতি: আচমকা এই ভারী বৃষ্টিপাত এবং ঝোড়ো হাওয়া উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকার চাষবাস ও মরশুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে।
জরুরি নির্দেশিকা জারি
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রশাসন ও আবহাওয়া দপ্তরের তরফ থেকে সাধারণ মানুষের সুরক্ষার্থে কিছু জরুরি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে: নিরাপদ আশ্রয়ে থাকুন, খোলা মাঠ ও গাছতলা এড়িয়ে চলুন এবং জলাশয় থেকে দূরে থাকুন। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে প্রকৃতির এই তাণ্ডব আগামী কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার আশঙ্কা যেমন থাকছে, তেমনই সমতলের নিচু এলাকাগুলি প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আপাতত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকলেও হালকা থেকে মাঝারি বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে কোথাও কোথাও। দক্ষিণবঙ্গের জেলায় জেলায় আকাশ থাকবে মেঘলা। স্থানীয়ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয়ে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা বৃষ্টি হলেও গরমের দাপট কমবে না আপাতত। উল্টে বাড়বে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি। আজ গরমের মাঝেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায়। পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় বৃষ্টির সঙ্গে বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া। যার গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে কয়েকটি জেলায়। গরম ও অস্বস্তি সবথেকে বেশি থাকতে পারে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমে। একাধিক তাপমাত্রা পৌঁছতে পারে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে। কলকাতায়-সহ পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপকূলবর্তী জেলাগুলির তাপমাত্রা পারদ প্রায় ৩৭ ডিগ্রির বেশি থাকবে। পশ্চিমের কোনও কোনও জেলায় ৪০ ডিগ্রি ছুঁতে পারে পারদ।
বিশেষ করে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূম জেলায় গরমের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকবে। আলিপুর হাওয়া অফিসে রিপোর্টে জানা যায়, দক্ষিণবঙ্গের জেলায় জেলায় তীব্র গরমে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। তীব্র গরম ও অস্বস্তিকর ভ্যাপসা অবহাওয়ায় দিনের বেলায় কার্যত ঘরের বাইরে বেরোনও অনেকটাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আলিপুর হাওয়া অফিসের রিপোর্টে জানা যায়, চলতি সপ্তাহের উইকেন্ডে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে তীব্র গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া থাকবে। তবে সন্ধ্যার পর বেশকিছু জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা দক্ষিণবঙ্গে।


