Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অভ্রদীপ দাস: নারী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং জরায়ু মুখের ক্যান্সার (HPV Vaccine) বা সারভাইক্যাল ক্যান্সার প্রতিরোধে আজ এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ভারত সরকার এবং রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে রাজ্যজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সূচিত হল বিনামূল্যে HPV টিকাকরণ কর্মসূচি। দেশজুড়ে এই টিকাকরণ শুরু হলেও গতসরকার এই টিকাকরণ চালু করেনি। বিধাননগর মহকুমা হাসপাতাল প্রাঙ্গণের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে এই রাজ্যব্যাপী প্রতিষেধক কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন।
কারা পাবে এই ভ্যাকসিন? (HPV Vaccine)
রাজ্যের প্রতিটি ১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের (HPV Vaccine) এই প্রতিষেধক প্রদান করা হবে। জরায়ু মুখের ক্যানসার প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর এই ভ্যাকসিনের সম্পূর্ণ খরচ বহন করছে সরকার। নির্দিষ্ট সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে কিশোরীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই সুবিধা পাবে। প্রাথমিক পর্যায়ে রাজ্যের নির্বাচিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মেডিক্যাল কলেজ, মহকুমা হাসপাতাল, গ্রামীণ ও ব্লক হাসপাতাল একযোগে এই টিকাকরণ শুরু হয়েছে। আগামী ৩ মাসের মধ্যে প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ কিশোরীকে এই টিকাকরণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। অনুষ্ঠানের স্বাগত ভাষণে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের প্রধান সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম এই কর্মসূচির গুরুত্ব এবং লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরেন।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য (HPV Vaccine)
বিধাননগরের মাননীয় বিধায়ক তাঁর বিধানসভা কেন্দ্রকে (HPV Vaccine) এই ঐতিহাসিক সূচনার জন্য বেছে নেওয়ায় মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। রাজ্যসভা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য ক্যানসার মুক্ত সমাজ গঠনে দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, “নারীদের ক্ষেত্রে ক্যানসারের পরই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিপজ্জনক রোগ হলো জরায়ু মুখের ক্যানসার। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, সঠিক সময়ে এই ভ্যাকসিন নিলে ক্যানসারের সম্ভাবনা প্রায় ৯৩% থেকে ১০০% পর্যন্ত কমে যায়। আমাদের সরকার প্রতিটি মানুষের সুস্বাস্থ্য সুনিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” মুখ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন যে, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডার সহযোগিতায় রাজ্য ইতিমধ্যে ৭,৭২,৬৫০ ডোজ ভ্যাকসিন পেয়েছে।
চিকিৎসা পরিকাঠামো উন্নয়নেও বড় ঘোষণা
ক্যানসার প্রতিরোধের পাশাপাশি রাজ্যের চিকিৎসা পরিকাঠামো উন্নয়নেও সোমবার বড় ঘোষণা করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী আজ এসএসকেএম হাসপাতালে আইপিজিএমইআর-এর অধীনে আরও ১০০টি নতুন শয্যার শুভ উদ্বোধন করেন। এর মধ্যে উডবার্ন ব্লকের মহিলা ওয়ার্ডে ২৫টি শয্যা, শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে ২৫টি শয্যা এবং পুলিশ হাসপাতালে ৫০টি শয্যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আরও পড়ুন: TMC Councillor Resign: একের পর এক কাউন্সিলরের পদত্যাগ, চন্দননগর কর্পোরেশনে ভাঙন!
‘জিরো টলারেন্স’ নীতি
চিকিৎসা ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য ভবনে ২৪ ঘণ্টার জন্য একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু করা হচ্ছে, যা সরাসরি লাইভ মনিটরিং করবে। এছাড়া, আগামী দিনে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন এবং উত্তরবঙ্গে একটি নতুন ‘এইমস’ গড়ার জন্য জমি চিহ্নিতকরণের কাজ চলছে বলেও তিনি জানান। আগামী সোমবার থেকে রাজ্য সরকারি বাসে নারীদের জন্য বিশেষ ফ্রি-যাত্রার সুবিধা চালুর কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মুখ্যমন্ত্রী নিজ হাতে রাজ্যের প্রথম দুজন কিশোরী উপভোক্তার কাছে এই টিকাকরণের প্রশংসাপত্র বা সার্টিফিকেট তুলে দেন।


