Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতজুড়ে গত দুই সপ্তাহ ধরে ক্যানসার চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত ও তুলনামূলক সস্তা কেমোথেরাপির ওষুধ সিসপ্লাটিন এবং কার্বোপ্লাটিন-এর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে(Cancer Medicine)। এই পরিস্থিতিকে “নীরব চিকিৎসা সংকট” বলে আখ্যা দিয়েছেন দেশের একাধিক অনকোলজিস্ট।
তীব্র ওষুধ সংকট (Cancer Medicine)
সিসপ্লাটিন ও কার্বোপ্লাটিন মাথা-গলা, ফুসফুস, ডিম্বাশয় এবং পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের প্রাথমিক চিকিৎসায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমানে হাসপাতাল ও ফার্মেসিগুলিতে এই ওষুধের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে বহু রোগীর চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংকটের মূল কারণ হল কাঁচামাল প্লাটিনামের আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধি। খনি উৎপাদনে বিঘ্ন, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে প্লাটিনামের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে দাম ব্যাপক বেড়েছে। অন্যদিকে, ভারতের ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি (NPPA) ওষুধের সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করে রাখায় উৎপাদন খরচ বাড়লেও সংস্থাগুলি দাম বাড়াতে পারছে না। ফলে অনেক নির্মাতা উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে বা বন্ধ রেখেছে(Cancer Medicine)।
দিল্লির রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট ডা. ওয়াজাহাত আহমেদের দাবি, প্লাটিনামের দাম প্রতি গ্রাম ৩,৮০০ টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৮,০০০ টাকায় পৌঁছেছে। কিন্তু ওষুধের মূল্যসীমা অপরিবর্তিত থাকায় উৎপাদন আর লাভজনক নয়।
কলকাতার নারায়ণা হেলথের অনকোলজিস্ট ডা. এম ভি চন্দ্রকান্ত বলেন, এটি শুধু একটি ওষুধের সংকট নয়, বরং ক্যানসার চিকিৎসার সরবরাহ ব্যবস্থার বৃহত্তর সমস্যার প্রতিফলন(Cancer Medicine)। দিল্লির স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালের চিকিৎসকদেরও অভিযোগ, বহু রোগী এক ফার্মেসি থেকে অন্য ফার্মেসিতে ঘুরেও ওষুধ পাচ্ছেন না।
চিকিৎসকরা সামাজিক মাধ্যমেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং কেন্দ্র সরকারের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ ও মূল্য পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসা ব্যাহত না হয়।



