Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ফুটবলের বিশ্বকাপে এজ পাঁচ জন গোলকিপারের দিকে থাকবে বিশেষ নজর। তাঁরাই দলের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে চলেছেন (FIFA)।
নজরে মার্টিনেজ থেকে ন্যুয়ের (FIFA)
ফুটবলে সবথেকে বেশি চর্চায় থাকেন দলের স্ট্রাইকাররা। তবে রক্ষণের উপর আবার নির্ভর করে অনেকটাই দলের জয় পরাজয়। কোনও দলের রক্ষণের মূল স্তম্ভ হল গোলরক্ষকরা। তবে তাঁদের নিয়েই সবথেকে কম চর্চা হয়। মেসি, রোনাল্ডো, নেইমারদের নিয়ে যতবেশি চর্চা হয় তার থেকে অনেক কম চর্চা হয় মার্টিনেজদের নিয়ে। তবে একটা দল কতটা শক্তিশালী সেটা নির্ভর করে সেই দলের গোলকিপার কতটা স্ট্রং সেটার উপরও। এবার বিশ্বকাপে এমন পাঁচ গোলরক্ষক রয়েছেন যাঁদের দিকে থাকবে বিশেষ নজর (FIFA)।
তবে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ গোলকিপারদের সেই তালিকায় যাওয়ার আগে এক কিংবদন্তির গল্প দিয়ে ভূমিকাটা শুরু করলে খুব একটা ভুল হবে না। পাঠকরাও আশা করি রাগ করবেন না। এই গল্প এক রূপকথার। আজকের রোনাল্ডো, বিরাট কোহলির ক্ষেত্রে যেমন বলা হয় বয়স কেবল একটা সংখ্যা মাত্র ইতালির এই গোলকিপারের কাছেও তাই।
তিনি বুড়ো হাড়ের ভেলকি দেখিয়ে ইতিহাস লিখেছিলেন। একদিকে পেলে যেমন সবথেকে কম বয়সে বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন তেমন এই গোলকিপার ইতিহাস গড়েছিলেন কেরিয়ারের গোধূলিলগ্নে এসে। ১৯৮২ সালে ইতালির অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ জিতেছিলেন দিনো জফ। তিনি যখন বিশ্বকাপ জিতেছিলেন তখন তাঁর বয়স ছিল ৪০ বছর ১৩ দিন। সেই বিশ্বকাপে সেরা গোলকিপারের স্বীকৃতিও পান তিনি। এর আগে ১৯৬৮ সালে জিতেছিলেন ইউরো। ইতালির হয়ে ইউরো এবং বিশ্বকাপ জেতা একমাত্র ফুটবলার জফ। আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা ১১৪২ মিনিট গোল না খাবার রেকর্ডও রয়েছে তাঁর নামে (FIFA)।
এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (আর্জেন্টিনা)
গত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের কাহিনীতে মেসি যদি নায়ক হন তবে মার্টিনেজ ছিলেন দলের সেনাপতি। একজন যুদ্ধক্ষেত্রে যুদ্ধরত মহারথী তো আরেকজন সেই রথের সারথি। কারণ যুদ্ধক্ষেত্রে একজন যোদ্ধার যেমন গুরুত্ব রয়েছে তেমন গুরুত্ব রয়েছে তাঁর সারথিরও।

গত বিশ্বকাপে সেই কারণে এমিকে ফুটবলবিশ্ব ভুলবে না কোনওদিন। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে রান্ডাল কোলো মুয়ানির শট বাঁচানো থেকে পেনাল্টি শুটে কিংসলে কোমানের শট রক্ষা। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের নেপথ্য নায়ক তিনিই। আর এই বিশ্বকাপের তিনি দলের মূল ভরসা হতে চলেছেন। ম্যাচ জেতানোর পাশাপাশি ডিফেন্ডারদের নির্দেশও দেন তিনি।
ম্যানুয়েল ন্যুয়ের (জার্মানি)
রূপকথায় রাজপুত্র ফিরে আসে কিনা অথবা রাজকন্যা ফিরে আসেন কিনা সে কথা জোর দিয়ে বলা যায় না। তবে ইউরো কাপের পর অবসর নিয়েও জার্মানির কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানের অনুরোধে অবসর ভেঙে বিশ্বকাপে ফিরছেন ন্যুয়ের। তাঁর নামের পাশেই যোগ করার জন্য তৈরি হয়েছে নতুন শব্দ ‘সুইপার কিপার’।
এই নতুন শব্দের অর্থ হল তিনি সব সময় তাঁর কাছে বল আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন না। প্রয়োজনে এগিয়ে এসে বিপক্ষের স্ট্রাইকারকে দুরন্ত ট্যাকেল করে বল ক্লিয়ার করেন। ৪০ বছর বয়সের অভিজ্ঞ গোলকিপার তিনি। ২০১৪-র জার্মানির বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক। তাঁকে দেখেই বহু প্রজন্ম গোলকিপার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছেন। এই মুহূর্তে তিনি ছাড়া দলের কাছে অন্য বিকল্প নেই (FIFA)।
থিবো কুর্তোয়া (বেলজিয়াম)
বিশ্ব ফুটবলে অন্যতম সেরা নাম কুর্তোয়া। শট বাঁচানোর ক্ষেত্রে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। কাছের শট হোক বা দূরের, তিনি তাঁর দক্ষতায় শট বাঁচিয়ে দিতে সিদ্ধহস্ত। পলকে শরীর ছুঁড়ে বল আটকে দিতে পারেন তিনি। বেলজিয়াম দল এই একটি ক্ষেত্রে নিশ্চিন্তে থাকতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দলের সকলের আগে তাঁর অবস্থান (FIFA)।
অ্যালিসন বেকার (ব্রাজিল)
বিশ্বকাপে যে দলগুলিকে নিয়ে সবথেকে বেশি চর্চা থাকে তাদের মধ্যে অন্যতম দল ব্রাজিল। তবে সেই উজ্জ্বলতা ব্রাজিলের কিছুটা কমেছে বলেই মনে করেন সমর্থকরা। এবারের বিশ্বকাপও ব্রাজিল জিতবে কিনা ঠিক নেই তবে নজরে থাকবে সেই দলের গোলরক্ষক। অ্যালিসন বেকার গত মরশুমে চোট সমস্যায় ভুগেছেন। পুরোদমে অনুশীলন শুরু করলেও বিশ্বকাপে তাঁকে কেমন ছন্দে পাওয়া যায় সেই দিকে নজর থাকবে সবার। তিনি একজন দক্ষ গোলকিপারের পাশাপাশি প্লে-মেকার হিসাবেও পরিচিত। চাপের মুখেও মাথা ঠান্ডা রেখে বল ক্লিয়ার করতেও তিনি দক্ষ।
ডেভিড রায়া (স্পেন)
ডেভিড রায় তাঁর নিজের কেরিয়ারে অন্যতম সেরা ছন্দে রয়েছেন। আর্সেনালের হয়ে তিনি জিতেছিলেন প্রিমিয়ার লিগ। একদিকে দলকে যেমন ফাইনালে তুলেছেন তেমন সেভ করেছেন পেনাল্টি। ২২ বছর অপেক্ষার পর আর্সেনালের শাপ মোচন হয়েছে বলা যায় ডেভিড রায়ার হাত ধরে। সম্প্রতি প্রিমিয়ার লিগে তৃতীয় বার সোনার গ্লাভসও জিতেছেন তিনি। গত মরশুমে ১৯টি ম্যাচে গোল না খাবার কীর্তি রয়েছে তাঁর নামে। সুতরাং স্পেনের অন্যতম বাজি হতে চলেছেন ডেভিড (FIFA)।


