Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলকাতার রাজনৈতিক মহলে ফের চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে তোলাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে (Kolkata)। কলকাতা পুরসভার ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শামস ইকবাল ওরফে অনিলকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়েছে এবং পরে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে আরও টাকা দাবি করার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে আইন-শৃঙ্খলা এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিয়ে।

কী অভিযোগ উঠেছে? (Kolkata)
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ী মহম্মদ শাদাব গার্ডেনরিচ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে তাঁর ব্যবসা নির্বিঘ্নে চালানোর আশ্বাস দিয়ে শামস ইকবাল, ফারাজ ওরফে বুন, ফিরোজ কুরেশি ওরফে চুড়ি ফিরোজ-সহ একাধিক ব্যক্তি তাঁর কাছ থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা আদায় করেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের পর আরও অর্থ দাবি করা হয়। সেই দাবিতে সাড়া না দিলে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানো হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ওই ব্যবসায়ী।

গার্ডেনরিচ থানায় মামলা (Kolkata)
অভিযোগের ভিত্তিতে গার্ডেনরিচ থানায় একটি মামলা রুজু হয়। তদন্ত শুরু করার পর রবিবার রাতে পুলিশ কাউন্সিলর শামস ইকবালকে গ্রেফতার করে। তদন্তকারীরা এখন অভিযোগের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি অন্যান্য অভিযুক্তদের ভূমিকা এবং অর্থ লেনদেনের তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: Rannaghor: রান্নার নানা স্বাদ: জি বাংলায় শাশুড়ি বউমার রান্নাঘর
পুলিশ সূত্রের দাবি, অভিযোগে উল্লেখিত আর্থিক লেনদেন, সম্ভাব্য সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং অন্যান্য তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। তদন্তের অগ্রগতির উপর নির্ভর করেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সহ-অভিযুক্তদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায়
মামলায় শামস ইকবালের পাশাপাশি ফারাজ ওরফে বুন এবং ফিরোজ কুরেশি ওরফে চুড়ি ফিরোজের নামও উঠে এসেছে। তদন্তকারীরা তাঁদের ভূমিকা, অভিযোগের সত্যতা এবং সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখছেন। প্রয়োজনে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য (Kolkata)
একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এত বড় অঙ্কের তোলাবাজির অভিযোগ এবং গ্রেফতারির ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিরোধী শিবির এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। যদিও অভিযুক্তের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি।
তদন্তের দিকে নজর (Kolkata)
এই মামলায় অভিযোগের সত্যতা আদালতেই বিচারাধীন প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। বর্তমানে পুলিশ বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষীদের বয়ান রেকর্ড এবং আর্থিক লেনদেনের নথি খতিয়ে দেখছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এই মামলায় নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।



