Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দীঘার শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দিরে স্নানযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে শ্রীজগন্নাথদেবের বার্ষিক লীলার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় (Rath Yatra)। স্নানযাত্রার পর প্রথা অনুযায়ী ভগবান শ্রীজগন্নাথ, শ্রীবলদেব ও দেবী সুভদ্রা ‘অনবসর’ বা বিশ্রাম পর্বে প্রবেশ করবেন। সেই কারণে ২০২৬ সালের ২৯ জুন সন্ধ্যা থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত এই তিন বিগ্রহের দর্শন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। তবে এই সময়েও মন্দিরের সমস্ত নিত্যসেবা ও পূজার্চনা যথারীতি চলবে এবং ভক্তদের জন্য মন্দিরের দরজা প্রতিদিনই খোলা থাকবে।

কী এই অনবসর পর্ব? (Rath Yatra)
জগন্নাথ সংস্কৃতিতে স্নানযাত্রার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। এই দিনে ১০৮টি পবিত্র কলসের জল দিয়ে শ্রীজগন্নাথ, শ্রীবলদেব ও দেবী সুভদ্রার মহাস্নান সম্পন্ন হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই বিশাল স্নানের পর ভগবান অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য নির্জনে বিশ্রাম গ্রহণ করেন। এই সময়কালকেই বলা হয় ‘অনবসর’। অনবসর চলাকালীন ভক্তদের জন্য মূল বিগ্রহের দর্শন বন্ধ থাকে। মন্দিরের অন্তঃপুরে বিশেষ নিয়মে ভগবানের সেবা, ভোগ নিবেদন এবং চিকিৎসার প্রতীকী আচার পালিত হয়। দীর্ঘদিনের এই প্রাচীন ঐতিহ্য জগন্নাথ সংস্কৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার হিসেবে বিবেচিত।
তবুও খোলা থাকবে মন্দিরের দরজা (Rath Yatra)
যদিও অনবসর পর্বে শ্রীজগন্নাথ, শ্রীবলদেব ও দেবী সুভদ্রার দর্শন সম্ভব হবে না, তবুও ভক্তদের জন্য শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির, দীঘা প্রতিদিনই উন্মুক্ত থাকবে। এই সময় ভক্তরা মন্দিরে এসে শ্রীশ্রী রাধা মদনমোহনের দর্শন করতে পারবেন। নিয়মিত পূজা ও আরতিতে অংশ নিতে পারবেন। প্রসাদ গ্রহণ ও অন্যান্য নিত্যসেবায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। মন্দিরের আধ্যাত্মিক পরিবেশে প্রার্থনা ও ভক্তি নিবেদন করতে পারবেন। অর্থাৎ অনবসর পর্বেও ভক্তদের ধর্মীয় অনুশীলনে কোনও বাধা থাকবে না।
১৪ জুলাইয়ের পর পুনরায় দর্শন দেবেন ভগবান
অনবসর পর্ব সমাপ্ত হওয়ার পর ভগবান নতুন রূপে পুনরায় ভক্তদের দর্শন দেবেন। এই দর্শনকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর ভক্তদের মধ্যে উৎসাহ ও আবেগ চরমে পৌঁছায়। এরপরই শুরু হবে বছরের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শ্রীজগন্নাথের রথযাত্রা।

রথযাত্রা ও উল্টো রথের দিনক্ষণ ঘোষণা
দীঘার শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দিরে ইতিমধ্যেই রথযাত্রার প্রস্তুতি জোরকদমে শুরু হয়েছে।
এই বছরের গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলি হলো—
রথযাত্রা — ১৬ জুলাই ২০২৬
উল্টো রথযাত্রা (বাহুড়া যাত্রা) — ২৪ জুলাই ২০২৬
এই দুই দিন লক্ষাধিক ভক্তের সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাধারমণ দাসের আহ্বান (Rath Yatra)
শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির, দীঘার ট্রাস্টি রাধারমণ দাস জানান, স্নানযাত্রা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি শ্রীজগন্নাথ সংস্কৃতির অন্যতম ভাবগম্ভীর ও পবিত্র উৎসব। এই দিন থেকেই ভগবানের রথযাত্রার প্রস্তুতির সূচনা হয়। তিনি বলেন, রথযাত্রার মাধ্যমে ভগবান জগন্নাথ মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে বেরিয়ে আসেন এবং জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের কাছে নিজের অশেষ কৃপা বর্ষণ করেন। তাই পশ্চিমবঙ্গ, ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত এবং বিশ্বের সকল ভক্তকে তিনি স্নানযাত্রার গজবেশ দর্শন এবং ১৬ জুলাইয়ের ঐতিহাসিক রথযাত্রায় অংশগ্রহণের আন্তরিক আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, অনবসর পর্বে মূল বিগ্রহের দর্শন বন্ধ থাকলেও মন্দির প্রতিদিন খোলা থাকবে এবং ভক্তরা শ্রীশ্রী রাধা মদনমোহনের দর্শন ও আশীর্বাদ লাভ করতে পারবেন।
দীঘা হয়ে উঠছে নতুন জগন্নাথ তীর্থক্ষেত্র (Rath Yatra)
অল্প সময়ের মধ্যেই দীঘার শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির সারা দেশের ভক্তদের কাছে এক গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। সমুদ্রতীরবর্তী এই মনোরম পরিবেশে নির্মিত মন্দিরে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হচ্ছে। বিশেষ করে রথযাত্রা, স্নানযাত্রা, দোলযাত্রা এবং অন্যান্য বৈষ্ণব উৎসবকে কেন্দ্র করে ভক্তদের ভিড় ক্রমশ বাড়ছে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি মন্দিরকে ঘিরে পর্যটন, সংস্কৃতি ও স্থানীয় অর্থনীতিরও উল্লেখযোগ্য বিকাশ ঘটছে। ফলে দীঘা ধীরে ধীরে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জগন্নাথ তীর্থক্ষেত্র হিসেবে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করছে।

হাজার হাজার ভক্তের সমাগমের প্রত্যাশা (Rath Yatra)
আগামী স্নানযাত্রা ও রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই ভক্তদের মধ্যে উৎসাহ তুঙ্গে। প্রশাসন ও মন্দির কর্তৃপক্ষও ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে যাতে দূরদূরান্ত থেকে আগত ভক্তরা নির্বিঘ্নে দর্শন ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন। ধর্মীয় বিশ্বাস, আধ্যাত্মিক আবেগ এবং ঐতিহ্যের অপূর্ব মেলবন্ধনে দীঘার শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির আবারও সাক্ষী হতে চলেছে এক ঐতিহাসিক মহোৎসবের।
আরও পড়ুন: Today weather update: বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়ের মুখে দক্ষিণবঙ্গ? কোন কোন জেলায় কমলা সতর্কতা?
অনবসর পর্বের পর ১৬ জুলাই রথের রশি টানার মধ্য দিয়ে শুরু হবে ভক্তি, আনন্দ ও সর্বজনীন মানবতার এক অনন্য উৎসব, যেখানে ভগবান জগন্নাথ সকলের জন্য তাঁর কৃপাদ্বার উন্মুক্ত করবেন।



