Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ত্রয়ণ চক্রবর্তী: কলকাতার ব্যাঙ্কশাল কোর্টে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন আইএসএফ বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকী। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে তাঁর নাম, ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট চালানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সেইসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি (Naushad Siddiqui)।
নওসাদ সিদ্দিকীর বক্তব্য, বিষয়টি নিয়ে তিনি আগেই স্থানীয় বউবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ জানানোর পরও এখনও পর্যন্ত পুলিশ এফআইআর দায়ের করেনি। সেই কারণেই তিনি আইনি পথ বেছে নিয়ে ব্যাঙ্কশাল কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।
‘থানায় অভিযোগ করেও এফআইআর হয়নি’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে নওসাদ সিদ্দিকী বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি লক্ষ্য করছেন, ফেসবুকে বিভিন্ন ভুয়ো অ্যাকাউন্টে তাঁর নাম ও ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। কোথাও তাঁর পরিচয় বিকৃত করা হচ্ছে, কোথাও আবার তাঁর নামে প্রতারণার অভিযোগও সামনে আসছে। তিনি বলেন, “আমার যে সামাজিক ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, সেটাকে ধ্বংস করার চেষ্টা হচ্ছে। একইসঙ্গে আমার পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণাও করা হচ্ছে। তাই আমি প্রথমে বউবাজার থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলাম। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেটিকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি।”
বিএনএসএস-এর ১৭৩ ধারার অধীনে আদালতে আবেদন
নওসাদ সিদ্দিকী জানান, পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ায় তিনি ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ১৭৩ ধারার অধীনে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তিনি বলেন, “যখন আইনে আমার কাছে আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তখন আমরা সেই পথই বেছে নিয়েছি। যারা এই ভুয়ো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে এবং আমার পরিচয়কে অপব্যবহার করছে, তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ জানিয়েছি।”
আদালত কী বলেছে? (Naushad Siddiqui)
আদালতের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে নওসাদ সিদ্দিকী জানান, বিষয়টি আপাতত আদালত সংরক্ষিত রেখেছে। তাঁর কথায়, “কোর্ট বিষয়টি অর্ডারের জন্য সংরক্ষণ করেছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালত নির্দেশ দেবে।” যখন তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, আদালত কি এফআইআর করার নির্দেশ দিতে পারে, তখন তিনি ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়ে জানান, আদালত প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেবে বলেই তিনি আশাবাদী (Naushad Siddiqui)।
কারা করছে এই কাজ? (Naushad Siddiqui)
ভুয়ো অ্যাকাউন্ট পরিচালনাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে নওসাদ সিদ্দিকী স্পষ্ট করেন যে, একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে এই কাজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “কারা এই কাজ করছে, সেটা তদন্তকারী আধিকারিকদের খুঁজে বের করার দায়িত্ব। কোথা থেকে এই অ্যাকাউন্টগুলো পরিচালিত হচ্ছে, কেন করা হচ্ছে, এর উদ্দেশ্য কী—সবটাই তদন্তে সামনে আসবে।”
‘রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় করার চেষ্টা চলছে’ (Naushad Siddiqui)
এই ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না—এই প্রশ্নের উত্তরে নওসাদ সিদ্দিকী বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা হচ্ছে। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্য অবশ্যই রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে ম্যালিন করার চেষ্টা চলছে। এটাও সেই ঘটনারই একটি অংশ বলে আমার মনে হয়।”

আরও পড়ুন : Taratala Compensation: মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
তদন্তের দিকে নজর (Naushad Siddiqui)
এখন নজর থাকবে ব্যাঙ্কশাল কোর্টের নির্দেশের দিকে। আদালত যদি পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের ও তদন্তের নির্দেশ দেয়, তাহলে ভুয়ো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলির নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা তদন্তে সামনে আসতে পারে। একই সঙ্গে এই মামলা রাজনৈতিক মহলেও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।



