Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সব্যসাচী ভট্টাচার্য: গোলকিপারদের বিশ্বকাপে (FIFA Best Goalkeepers) গোলকিপিংয়ে বাজিমাত করেছেন একাধিক গোলরক্ষক। ম্যাচের ফলাফল যাই হোক না কেন এদের দক্ষতার চর্চা এখন সব দিকে।
লাইমলাইটে গোলকিপাররা (FIFA Best Goalkeepers)
‘আমি চাই আমার সমস্ত লেখা নষ্ট হয়ে যাক। তুমি দ্বিধা কোরো না কোনও। (FIFA Best Goalkeepers) আমার সমস্ত লেখা, এমনকি তাদের শেষ চিহ্ন পর্যন্ত যেন পুড়িয়ে ফেলা হয়। কী হবে এই লেখায়?’ অন্তরঙ্গ, ঘনিষ্ঠ বন্ধু ম্যাক্স ব্রডকে একটি চিঠিতে এই ভাবেই নির্দেশ দিয়ে গিয়েছিলেন ফ্রানজ কাফকা। কিন্তু তারপর? তারপর তাঁর সেই বন্ধু এই নির্দেশ না মেনে প্রকাশ করলেন লেখাগুলো, আর সেই লেখা কাফকাকে বসিয়ে দিল শ্রেষ্ঠর আসনে। চাইলেই কি সব দলিল মুছে ফেলা যায়? বর্তমান যতই অস্বীকার করুক ইতিহাস মনে রেখে দেয় সবকিছু ঠিক যেমন ২০২৬ বিশ্বকাপ মেসি, রোনাল্ডো, এমবাপে, হালান্ড, হ্যারি কেনদের পাশাপাশি মনে রেখে দেবে গোলকিপারদের।
গোলরক্ষকদের পারফরম্যান্স (FIFA Best Goalkeepers)
২০২৬ বিশ্বকাপের গোলরক্ষকরা পারফরম্যান্সের (FIFA Best Goalkeepers) যে অনন্য মানদণ্ড তৈরি করছেন তা এই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে খুব কমই দেখা গেছে। বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরই সাধারণত মনে রাখা হয় কিছু আইকনিক মুহূর্তের জন্য—সেটা হতে পারে চোখ ধাঁধানো কোনো গোল, জাদুকরী ড্রিবলিং কিংবা আক্রমণভাগের নতুন কোনো তারকার উদয় অথবা কিছু অসাধারণ শট, আবার কিঞ্চিৎ উঠে আসে রক্ষণের কথা তবে এই বিশ্বকাপ গোলকিপারদের। তেকাঠির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক একজন ‘মহাপ্রাচীর’।
কেন এদের নিয়ে এত চর্চা? (FIFA Best Goalkeepers)
এবারের আসর দেখলে দেখা যাবে এই মহারণের মঞ্চে খেলছেন বিশ্বের সেরা সব ফরোয়ার্ডরা, লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে, আর্লিং হলান্ডরা। এই তিনজনই বর্তমানে ৭টি করে গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম। এরপরেও গোলকিপাররা খবরের শিরোনাম হয়ে উঠেছেন। সেই তুলনায় এই ফরোয়ার্ডরা যেন অনেকটাই ফিকে সেই সকল প্রাচীরের সামনে।
শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ব্রাজিল বনাম নরওয়ের ম্যাচে দেখা গেছে চোখধাঁধানো পেনাল্টি সেভ। ওয়ান-টু-ওয়ান পজিশনে চমৎকারভাবে বল প্রতিহত করে দেওয়া, প্রতিপক্ষের একের পর এক আক্রমণ বুক চিতিয়ে সামলানো কিংবা দলকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতে অবিশ্বাস্য সব সেভের মহড়া—সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের গোলরক্ষকেরা একের পর এক অতিমানবীয় পারফরম্যান্স করে গেছেন, বিশ্ব মঞ্চে এরপর অনেক তরুণই হয়ত স্বপ্ন দেখবেন গোলকিপার হওয়ার। এই বিশ্বকাপ ভবিষ্যতের পদ চিহ্ন হয়ে থেকে যাবে। (FIFA Best Goalkeepers)
এবারের বিশ্বকাপে গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে যারা সবচেয়ে বেশি আলো কেড়েছেন, তাদের অনেকেই কিন্তু বিশ্বখ্যাত কোনও গোলকিপার নন বা কোনও বড় দলের নন। বরং তাঁরা এসেছেন এমন সব দেশ থেকে, যাদের পরাশক্তি দলগুলোর বিরুদ্ধে ম্যাচের সিংহভাগ সময় কেবল রক্ষণ সামলানোর কথা ছিল, আক্রমণ সেখানে অনেক দূর। কিন্তু এই গোলকিপারদের দাপটে তাঁরা আক্রমণে গেলেন এবং চাপে ফেললেন বিপক্ষের প্লেয়ারদের।
এই গোলরক্ষকরা আন্ডারডগ দলগুলোর মূল মেরুদণ্ড হয়ে উঠেছেন। তাদের একেকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ দুর্বল দলগুলোকে ধারণার চেয়েও অনেক বেশি সময় ম্যাচে টিকিয়ে রাখছে এবং বেশ কিছু ক্ষেত্রে তো এই কিপাররাই রাতারাতি হয়ে উঠেছেন এই মেগা টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় তারকা।
২০২৬ বিশ্বকাপের গোলরক্ষকদের এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্স কেবল মাঠের খেলাতেই সাড়া ফেলেনি, বরং নতুন করে রচনা করেছে ইতিহাসের পাতাও। টুর্নামেন্টজুড়ে ভেঙে পড়েছে দীর্ঘদিনের টিকে থাকা বেশ কিছু ঐতিহাসিক রেকর্ড।
এদিকে, আধুনিক ফুটবলে গোলরক্ষকদের বিবর্তনের এক অনন্য রূপ দেখিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার রনওয়েন উইলিয়ামস। কানাডার বিপক্ষে এক ম্যাচে তিনি রেকর্ড ৭৭টি সফল পাস দিয়েছেন, যা এর আগে জার্মানির মানুয়েল নয়্যারের(৫১টি) গড়া বিশ্বকাপের রেকর্ডকে ভেঙে দিয়েছে। এছাড়াও গিলের দস্তনায় আটকে বিদায় নিতে হয়েছে জার্মানিকে।
আরও পড়ুন: Leandro Paredes: মেসির আলোতে ঢাকা পড়ে যাওয়া এক উপেক্ষিত নায়ক পারেদেস
গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে মাঠে নেমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখিয়েছেন কুরাসাওয়ের এলয় রুম।

৩৭ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ গোলকিপার ওই ম্যাচে একাই অবিশ্বাস্য সেভ করেছেন ১৫টি। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ সেভ করার সর্বকালের রেকর্ডে ভাগ বসালেন তিনি।
‘Last but not least’, এবারের বিশ্বকাপে গোলকিপিংয়ের কথা বললে যার নাম বলতেই হবে তিনি ৪০ বছর বয়সী তরুণ ভোজিনিয়া। তাঁর জাদুদে এখনও বুঁদ হয়ে আছে ফুটবল বিশ্ব থেকে শুরু করে স্বয়ং মেসি। গ্রুপ পর্বের গণ্ডি পেরিয়ে নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার বিশ্বসেরা আক্রমণভাগের সামনে যেভাবে তিনি একের পর এক ‘সেভ’ করে দেওয়াল তুলেছিলেন তা আজও হেডলাইন হয়ে আছে। টুর্নামেন্টে তার একের পর এক অবিশ্বাস্য ওয়ান-টু-ওয়ান রুখে দেওয়া এবং অতিমানবীয় রিফ্লেক্স কেবো ভার্দেকে মাথা উঁচু করে বিদায় নিতে সাহায্য করেছে। এর পাশাপাশি স্পেনের উনাই সিমন টানা ৫১৯ মিনিট জালে বল ঢুকতে না দিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক নতুন অলটাইম রেকর্ড গড়েছেন। সব মিলিয়ে এই বিশ্বকাপের মূল তারকা দলের গোলকিপাররা।


