Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সব্যসাচী ভট্টাচার্য: মেসির মত প্লেয়ার যখন দলে (Leandro Paredes) থাকেন তখন তাঁর দিকেই লাইমলাইট থাকবে কিন্তু সেই আলোর তলায় চাপা পড়ে যান অন্যজন।
আর্জেন্টিনার উপেক্ষিত নায়ক (Leandro Paredes)
ইতিহাসে এমন অনেক যুদ্ধ থাকে যেখানে নায়ক একজন হলেও বাকিদের (Leandro Paredes) ভূমিকা থাকে সমান সমান। তবে লাইমলাইট যদি অর্জুনের দিকে থাকে সেখানে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ অভিমন্যুর লড়াইও। ফুটবল ইতহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে আর্জেন্টিনা বনাম মিশরের ম্যাচ। যেখানে টানটান উত্তেজনা থেকে বিতর্ক সব উপকরণ মজুত ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখার জন্য।
ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকার মতো এক (Leandro Paredes) ম্যাচ দেখেছে বিশ্ব ফুটবল। নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা পৌঁছে গিয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালে তবে এই ম্যাচে রেফারির অনেক সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত নেটিজেনরা।
রুদ্ধশ্বাস এই মহারণে ছিল একের পর এক নাটকীয় গোল এবং মুহূর্ত, মেসির আবেগঘন মুহূর্ত, বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দুর্দান্ত মানসিকতার প্রদর্শন। প্রথমার্ধে ১-০ এগিয়ে থাকা মিশর দ্বিতীয়ার্ধে পাল্টা আক্রমণে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। জিকো একবার গোল করলেও লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে ফাউলের কারণে ভিএআরের সিদ্ধান্তে সেটি বাতিল হয় কিন্তু মিশরীয় সভ্যতা তখন বেড়ে চলেছে গতিতে, সেই গতির সামনে সাদা নীল বাহিনীও যেন ফিকে হতে থাকে।
কিছুক্ষণ পর আরেকটি দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে জিকো গোল (Leandro Paredes) করে মিশরকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। তবে দুই গোল পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি নীল সাদা বাহিনী। বঙ্গে নীল সাদার প্রত্যাবর্তন হবে কিনা কেউ জানে না কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই প্রত্যাবর্তন হয়েছে। প্রথমে রোমেরো, পরে মেসি এবং এনজো ফার্নান্দেজ গোল করে আর্জেন্টিনাকে জিতিয়ে দেন। কিন্তু মেসির আলোয় ঢাকা পড়ে গেছেন আরেক তারকা। তিনি না থাকলে মিশর হয়তো আর্জেন্টিনার কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতেই দিত।
সেই আর্জেন্টিনার তারকা লিয়ান্দ্রো পারেদেস। ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা সমতায় ফেরার আশায় মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালাচ্ছিলেন। সেই সুযোগে দ্রুত এক ভয়ঙ্কর কাউন্টার অ্যাটাক করে মিশর। চারজন মিশরীয় খেলোয়াড়ের বিপরীতে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে ছিলেন কেবল পারেদেস। (Leandro Paredes)
বল নিয়ে বিপজ্জনক হয়ে ওঠেন মিশরের ফরোয়ার্ড ওমার মারমুশ। তার বাঁ পাশে সম্পূর্ণ ফাঁকায় দাঁড়িয়ে ছিলেন এক সতীর্থ। তাঁকে উদ্দেশ্য করে পাস বাড়াতে গিয়েছিলেন মারমুশ। ঠিক সেই মুহূর্তেই অসাধারণ ক্ষিপ্রতা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দেন পারেদেস এবং একাই এমন প্রতিঘাত গড়ে তোলেন যা আর্জেন্টিনার জয়ের রূপরেখায় অনবদ্য অবদান রেখেছেন।
আরও পড়ুন: IND vs ENG: লজ্জার রেকর্ড ভারতের, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মুখ থুবড়ে পড়ল গম্ভীর বাহিনী
বলের গতিপথ নিখুঁতভাবে অনুমান করে মাটিতে স্লাইড করেন তিনি। শরীর ছুঁড়ে দিয়ে সময়মতো পা বাড়িয়ে মারমুশের পাসটি ব্লক করেন এবং মিশরের নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে দেন। তাঁর এই দুর্দান্ত ট্যাকলে মিশরের বিপজ্জনক আক্রমণ মুহূর্তেই থেমে যায়। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে এই ট্যাকলটি না হলে আরও এক গোল লেখা থাকত মিশরের নামে। সেটাই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে দিতে পারত কিন্তু তাঁর দুরন্ত ট্যাকলে বলের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পান আর্জেন্টিনার প্লেয়াররা।
ম্যাচ শেষে পারেদেসের এই অসাধারণ ট্যাকলকে অনেকেই ম্যাচের ‘টার্নিং পয়েন্ট’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর এই ট্যাকল নিয়ে চর্চা হচ্ছে। এই ম্যাচে একটি নিখুঁত ট্যাকলই বদলে দিয়েছে ম্যাচের গল্প। এই তারাও থেকে গেলেন দিনের আলোর গভীরে।


