Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দক্ষিণ চিনে টাইফুন মাইসাক-এর প্রভাবে টানা ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ জনে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে গুয়াংসি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে, যেখানে একটি জলাধারের বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বন্যা নেমে আসে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শুধু নানিং শহরেই বাঁধ ভাঙার ঘটনায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে(China Zoo)।
বন্যার জলে ভাসল চিড়িয়াখানা (China Zoo)
তবে এই দুর্যোগ আরও ভয়ংকর রূপ নিয়েছে শত শত সাপ এবং চিড়িয়াখানার বিভিন্ন প্রাণী বন্যার জলে ভেসে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায়। হেংঝৌ শহরের একটি বাণিজ্যিক সাপ প্রজনন কেন্দ্র সম্পূর্ণ জলমগ্ন হয়ে যাওয়ায় ৮০০ থেকে ৯০০টি সাপ খাঁচা ভেঙে বেরিয়ে যায়। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, পালিয়ে যাওয়া সাপের মধ্যে অনেক নিরীহ প্রজাতি থাকলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিষধর কোবরা রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সাপগুলো বন্যার জলে ভেসে থাকা আবর্জনার ওপর উঠে ঘরবাড়ির উপরের তলায় ঢুকে পড়ছে।

গ্রামের এক বাসিন্দা ইতিমধ্যেই সাপের কামড়ে আহত হয়েছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অভিজ্ঞ স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে বিশেষ সাপ ধরার দল গঠন করা হয়েছে। তারা জাল ও সুরক্ষা সরঞ্জাম নিয়ে কোমরসমান পানিতে নেমে সাপ ধরার অভিযান চালাচ্ছেন।
অন্যদিকে, পাশের গুইগাং শহরের চিড়িয়াখানাও বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খাঁচা ভেঙে অন্তত ১০০টি প্রাণী পালিয়ে গেছে। নিখোঁজ প্রাণীর তালিকায় রয়েছে আলপাকা, জেব্রা, ক্ষুদ্রাকৃতির শূকর, চারটি সজারু এবং ৩০টি ময়ূর। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষের সাহায্য চেয়েছে(China Zoo)।
আরও পড়ুন: Chabahar Attack: চাবাহারে মার্কিন হামলা, ভারতের কূটনৈতিক প্রকল্পে নতুন অনিশ্চয়তা
পরিস্থিতি সামাল দিতে বেইজিং ৩৬ হাজারেরও বেশি ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা লাউডস্পিকার ও উইচ্যাট বার্তার মাধ্যমে বাসিন্দাদের রাতে বাইরে না বেরোনো, বন্যার জলে ভাসমান বস্তু স্পর্শ না করা এবং প্রয়োজনে উঁচু বুট পরে চলাচলের পরামর্শ দিচ্ছেন(China Zoo)। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম এখনও জোরকদমে চলছে।



