Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রিমিক মাঝি: বিশ্বকাপের মাঝেই সাম্বার (Miguel Figueira) দেশের দাপুটে মিডিও মিগুয়েল ফিগুয়েরা দামাসোনাকে দলে নিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। গতবারের ইন্ডিয়ান সুপার লিগের ইস্টবেঙ্গলকে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন করার অন্যতম কারিগর তথা সোনার বলের মালিকের সঙ্গে দু’বছরের চুক্তি হল সবুজ-মেরুনের।
প্রথম নজর কাড়েন (Miguel Figueira)
সিরি-এ লিগে খেলা মিগুয়েল এশীয় মহাদেশে এসে প্রথম নজর (Miguel Figueira) কাড়েন বাংলাদেশে ক্লাবে খেলার সময়। বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন ক্লাব বসুন্ধরা কিংসে তিন বছর খেলার পর গতবছর খেলতে আসেন ভারতে। প্রথম বছর খেলতে নেমেই নিজের ক্লাব ইস্টবেঙ্গলকে চ্যাম্পিয়ন করানো ছাড়াও প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়ে সোনার বল জেতেন তিনি। অ্যাটাকিং মিডিও হিসাবে মাঝমাঠের শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি ফুলঝুরির মতো গোলের ঠিকানা লেখা পাস বাড়াতে পারেন ব্রাজিলের এই ছাব্বিশ বছর বয়সী ফুটবলার। গত মরসুমে আইএসএলে ১২ ম্যাচ খেলে দু’টি গোল করা ছাড়াও পাঁচটি গোলের পাস বাড়িয়েছেন তিনি।
মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের সঙ্গে চুক্তি (Miguel Figueira)
মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের সঙ্গে চুক্তির পর ব্রাজিল থেকে (Miguel Figueira) দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিগুয়েল ফিগুয়েরা বলেছেন, ‘মোহনবাগান সমর্থকরা অনেকটা ব্রাজিলের সমর্থকদের মতোই আবেগপ্রবণ, প্রাণবন্ত। কলকাতায় একবছর খেলার সুবাদে দেখেছি সবুজ-মেরুণ সমর্থকদের দলের প্রতি ভালোবাসা। প্রত্যাশা আর আবেগ নিয়ে ওঁরা গ্যালারি ভরিয়ে তোলেন। ওঁরা ম্যাচ জেতা এবং চ্যাম্পিয়ন হওয়া ছাড়া আর কিছু ভাবেন না। সেই জন্য সবকিছু উজাড় করে দিতে প্রস্তুত। গ্যালারির এই যে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার চাপ, এটা নিয়ে খেলতেই আমি ভালবাসি এবং সেটা উপভোগও করি। সবুজ-মেরুন জার্সি পরার জন্য আমি মুখিয়ে আছি। দেশের সেরা দলের সেরা সমর্থকদের সামনে নতুন জার্সি পরে নামব, সেটা ভেবে রোমাঞ্চিতও হচ্ছি।’
মিগুয়েল আরও বলেন, ‘মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের (Miguel Figueira) পক্ষ থেকে যখন আমাকে প্রস্তাব দেওয়া হয় সেটা আমি প্রথম জানাই আমার স্ত্রী-কে। কারণ এটা দেশের সেরা ক্লাবের প্রস্তাব, ভাবতে তো হবেই। তাই আমরা দু’জনে বেশ কয়েকদিন এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছি। পাশাপাশি ক্লাবের সঙ্গেও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিই, মোহনবাগান সুপার জায়ান্টেই নতুন মরসুমে খেলব।’
প্রতিপক্ষ ক্লাবের হয়ে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতাকে এবার আরও ভালোভাবে কাজে লাগাতে চান মিগুয়েল। জেমি ম্যাকলারনের সঙ্গে জুটি বেঁধে খেলার জন্য মুখিয়ে থাকা ব্রাজিলীয় অ্যাটাকিং মিডিও বলেছেন, ‘মোহনবাগানের বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতা আমার আছে। সেই খেলাটা কতটা কঠিন সেটাও জানি। সবুজ-মেরুন জার্সির সমর্থকরা সবসময়ই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ভাবনা ছাড়া আর কিছু ভাবেন না। সেই জন্যই শুধু আইএসএল নয়, ডুরান্ড কাপ, সুপার কাপ—যে প্রতিযোগিতায় নামব, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই দলকে সাহায্য করব। গোল করার চেয়েও আমি গোলের পাস বাড়াতে ভালোবাসি। স্ট্রাইকারে জেমি ম্যাকলারেনের মতো গোল শিকারিকে পাব। ম্যাকলারেনের সঙ্গে মাঠে কিছু ম্যাজিক দেখাতে চাই। ওর সঙ্গে কিছু ভাল গোলের সেলিব্রেশনের মুহূর্ত উপভোগ করতে চাই।’
গত এক বছরে কলকাতা ডার্বির অভিজ্ঞতা তাঁর (Miguel Figueira)ভালোমতোই আছে। সবুজ-মেরুন জার্সিতে সব ডার্বি জেতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মিগুয়েল বলেন, ‘কলকাতা ডার্বি সবসময়ই বিশেষ ম্যাচ। সমর্থকদের কাছে এই ম্যাচের মাহাত্ম কী, তা আমি জানি। ওই ম্যাচের দিনের সঙ্গে অন্য দিনের তুলনাই হয় না। এবার ডার্বিতে আমি সবুজ-মেরুন জার্সি পরে নামব। যেখানে যে প্রতিযোগিতাতেই ডার্বি হবে, সেখানে মোহনবাগান জিতবে, জেতানোর জন্য একশো শতাংশ দেব আমি। নিশ্চিত থাকুন সবুজ-মেরুন সমর্থকরা। ডার্বি জেতা মানে সারা সপ্তাহটা ভাল যাওয়া। আর হারলে এক সপ্তাহ কষ্ট নিয়ে থাকতে হয়। সদস্য সমর্থকদের সেই কষ্টটা দিতে চাই না।’
বাংলাদেশের থেকে ভারতীয় ফুটবলকে অনেক বেশি এগিয়ে রাখছেন মিগুয়েল। এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের সেরা ক্লাব বসুন্ধরা কিংসে তিন বছর খেলেছি। চ্যাম্পিয়ন করেছি লিগে। ভারতেও খেলেছি গতবছর। বলতে দ্বিধা নেই বাংলাদেশের চেয়ে ভারতের লিগের মান অনেক উন্নত। বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। ভারতীয় ফুটবলাররা অনেক বেশি প্রতিভাবান এবং দক্ষ, বাংলাদেশের ফুটবলারদের তুলনায়।’
নতুন মরশুমের মোহনবাগান দল দিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী মিগুয়েল। সবুজ-মেরুন ডিফেন্ডার রড্রিগেজের প্রশংসা করে বলেছেন,’মোহনবাগান এবার আরও শক্তিশালী দল নিয়ে মাঠে নামবে। ভারতের জাতীয় দলের বেশিরভাগ ফুটবলার এবারও মোহনবাগানে খেলবে। বিদেশিদের মধ্যে আলবার্তো রড্রিগেজ অসাধারণ ডিফেন্ডার। আলবার্তোর বিরুদ্ধে খেলেছি ডার্বিতে। ওকে টপকানো কঠিন। খুব শক্তিধর, গতিশীল এবং আমার দেখা আইএসএলের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার।’


