Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ফুটবলকে সব সীমানার ঊর্ধ্বে বলেই মনে করা হয়। কিন্তু ২২ জন খেলোয়াড় আর ৯০ মিনিটের (Argentina vs England) সেই চিরচেনা খেলার মাঠও যে মাঝেমধ্যে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। ইতিহাসের পাতা থেকে যে রক্তক্ষয়ের ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে তারা তা প্রকাশ করার মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে। তারই প্রমাণ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা (Argentina vs England) সেমিফাইনাল। এই ম্যাচের উত্তেজনার পারদ ছাপিয়ে মাঠের ভেতর ফকল্যান্ড যুদ্ধের ইস্যু টেনে আনার ঘটনা কেবল অনভিপ্রেত নয়, এটি ফুটবলের আন্তর্জাতিক সৌজন্যবোধের পরিপন্থী।
ফিফার নিয়ম (Argentina vs England)
ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, ফুটবল মাঠে কোনও ধরনের রাজনৈতিক বার্তা, ব্যানার বা স্লোগান প্রদর্শন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। খেলার সৌন্দর্য ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্যই এই নিয়ম। কিন্তু বুধবারের ম্যাচে জিয়োভানি লো সেলসো ও নিকোলাস ওটামেন্ডিদের (Argentina vs England) মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের হাতে ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস’ লেখা ব্যানার তুলে নেওয়া সেই নিয়মকেই বুড়ো আঙুল দেখিয়েছে। মাঠের ভেতরে খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি এবং জুড বেলিংহ্যাম ও ভ্যালেন্টিন বার্কোর বিতর্কিত মুহূর্তগুলো যেন প্রমাণ করে, লড়াইটি কেবল ফুটবলের ছিল না, ছিল আবেগের চরম বহিঃপ্রকাশ।
ইতিহাসের সেই পুরনো ক্ষত (Argentina vs England)
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের (Argentina vs England) এই বিরোধ কয়েক দশকের পুরনো। ১৯৮২ সালের সেই ৭৪ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ কেড়ে নিয়েছিল ৯ শতাধিক প্রাণ। যুদ্ধের চার বছর পর ১৯৮৬ বিশ্বকাপে মারাদোনার সেই ঐতিহাসিক ‘হ্যান্ড অফ গড’ বা ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ সবই ছিল সেই যুদ্ধের জাতীয়তাবাদী ক্ষোভের এক ধরণের বহিঃপ্রকাশ। যা মারাদোনা পরে নিজেও জানিয়েছিলেন। মারাদোনার সেই জাদুকরী গোল ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার (Argentina vs England) জাতীয় মর্যাদাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সাড়ে চার দশক পেরিয়ে এসেও ফুটবলারদের পক্ষ থেকে মাঠের ভেতরে সেই সংঘাত উসকে দেওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন থেকে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: FIFA World Cup 2026: মেসি ম্যাজিকে দুরন্ত কামব্যাকে ফাইনালে স্পেনের সামনে আর্জেন্টিনা
শাস্তি কি অনিবার্য? (Argentina vs England)
বর্তমান সময়ে ফুটবলের বাণিজ্যিক ও সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম। মাঠে যখন সমর্থকরাও একই স্লোগান দিয়ে উত্তাপ ছড়ান, তখন তা অনেক সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ফিফা এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে। খেলোয়াড়দের আবেগ থাকতে পারে, কিন্তু খেলার মাঠ যেন রাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত না হয় সেটি নিশ্চিত করাই ফিফার মূল চ্যালেঞ্জ। লো সেলসোদের এই আচরণের জন্য আর্জেন্টিনার ওপর শাস্তির খাঁড়া নেমে আসে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

ফুটবল বনাম রাজনীতি (Argentina vs England)
শেষে বলা যায়, খেলার মত খেলা হোক । ফুটবলের সবুজ ঘাস যেন রাজনীতির বারুদ না হয়ে ওঠে। ইতিহাসকে সম্মান জানানোর জায়গা বইয়ের পাতা বা স্মৃতিস্তম্ভ, ফুটবল পিচ নয়। আবেগের বশবর্তী হয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত খেলার পরিবেশকে কলুষিত করে, যা ফুটবলের বৈশ্বিক ভাবমূর্তির জন্য মোটেও শুভবার্তা নয়।



