Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
রথযাত্রা মানেই শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বাঙালির আবেগ, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও দর্শনের এক অনন্য মিলনক্ষেত্র। প্রতি বছর জগন্নাথদেবের রথের চাকা গড়িয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে জেগে ওঠে অসংখ্য প্রশ্ন, জগন্নাথের সঙ্গে শ্রীচৈতন্যের সম্পর্ক কী? কেন এই দুই নাম বারবার একসূত্রে গাঁথা হয়? আবার পুরীর শ্রীমন্দিরকে ঘিরে প্রচলিত নানা রহস্য, ইতিহাস ও লোকবিশ্বাসের মধ্যে কতটা সত্য, কতটা কল্পনা (Rath Yatra)?

এই রথযাত্রার পবিত্র উপলক্ষে সেই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই কে টিভি বাংলা ডিজিটালের মুখোমুখি হয়েছিলেন নবীন প্রাবন্ধিক ও গবেষণামনস্ক লেখক রাজর্ষি ধাড়া (Rajarshi Dhara)। জগন্নাথ সংস্কৃতি, চৈতন্য ভাবনা, পুরীর মন্দিরের ইতিহাস, রহস্য এবং ইতিহাসচর্চার সীমাবদ্ধতা, সব মিলিয়ে এক গভীর ও চিন্তনসমৃদ্ধ আলোচনায় তিনি তুলে ধরেছেন তাঁর গবেষণালব্ধ মতামত।
প্রশ্ন: জগন্নাথ এর কথা আসলেই কেন শ্রীচৈতন্যের প্রসঙ্গ উঠে? (Rath Yatra)
রাজর্ষি : উড়িষ্যায় মহাপ্রভু বলতে জগন্নাথদেবকে বোঝানো হয়, বাংলায় মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য। চৈতন্যকে সচল জগন্নাথ হিসাবে চিহ্নিত করে জগন্নাথের সঙ্গে অভেদ কল্পনা করা হয়েছে, পদকর্তারা লিখছেন ‘যেই গৌর, সেই কৃষ্ণ, সেই জগন্নাথ’, সুতরাং অন্তত বাংলার মানুষের কাছে জগন্নাথ বললে গোরাচাঁদের নাম আসতে বাধ্য।

মনে রাখতে হবে, ভারতের প্রথম বায়োগ্রাফি তথা হেজিওগ্রাফি কিন্তু লেখা হচ্ছে চৈতন্যযে নিয়েই। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃত, শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত, চৈতন্যচন্দ্রোদয় নাটক, চৈতন্যভাগবত, চৈতন্যমঙ্গল থেকে শুরু করে কালকুটের ‘জ্যোতির্ময় শ্রীচৈতন্য’, জয়দেব মুখোপাধ্যায়, রূপক সাহা, ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায়, সর্বোপরি নৃশংসপ্রসাদ ভাদুড়ী প্রমুখ বিদগ্ধ ব্যক্তিগত ও অনন্ত পুস্তকভান্ডার থেকে আমরা অনেক তথ্যের অমিল যেমন পাই, তেমনই পাই চৈতন্যের সঙ্গে জগন্নাথ দেবের অমলিন সম্পর্কের কথাও।
আরও পড়ুন: Taslima Nasrin: তসলিমার কলকাতায় ফেরা নিয়ে এবার নতুন সিদ্ধান্ত নেবে প্রশাসন
প্রশ্ন: ভবিষ্যতেও কি পুরীর মন্দিরের রহস্য উন্মোচন হবে? আপনার বিস্তারিত মতামত? (Rath Yatra)
রাজর্ষি : ইতিহাস সেইটুকুই বহন করে যা তাকে বহন করতে দেওয়া হয়, কিছু জিনিস ইচ্ছা করে ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়া হয়, মুছে দেওয়া হচ্ছে (Rath Yatra)। সুতরাং ইতিহাসের ক্ষমতা নেই সত্য উন্মোচনের। আর মন্দিরের সত্য বলতে যা আপনারা জানতে চাইছেন, তার মধ্যে কতটা মিথ আর কতটা সত্য তা পৃথক করা অত্যন্ত কঠিন। এই পোস্ট ট্রুথ এরা’য় যখন সত্যি বলে সত্যিই কিছু নেই, তখন চরম সত্য খুঁজতে যাওয়াটা বোকামি। সুতরাং আমরা ওই অনন্ত দুই বৃত্তাকার নয়নের দিকে তাকিয়ে মুগ্ধ হই, ব্যাস, আমাদের এটুকুই কেবল করার।



