Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আসানসোল পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত বেড়ালা গ্রাম, থানার নাম জামুড়িয়া (Asansol Lakshmi Puja)। এই গ্রামে দুর্গাপুজো হয় না, কিন্তু লক্ষ্মীপুজোই এখানে সবচেয়ে বড় উৎসব। বর্ধিষ্ণু এই গ্রামে লক্ষ্মীপুজোকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় এক অন্য রকম উন্মাদনা। শুধু গ্রামের মানুষই নন, আশপাশের এলাকার মানুষও উপভোগ করেন এই পুজোর আনন্দ। পাঁচ দিন ধরে চলে এই উৎসব আলোর রোশনাই, গান-বাজনা, পালাগান ও নানান প্রতিযোগিতায় মুখরিত থাকে গোটা গ্রাম।

বিবাহিত মেয়েদের বাপেরবাড়ি ফেরা (Asansol Lakshmi Puja)
গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, দুর্গাপুজোর মতোই এই সময় গ্রামের বিবাহিত মেয়েরা স্বামীদের নিয়ে বাপেরবাড়ি আসেন। পুরো গ্রাম যেন পরিণত হয় এক আত্মীয়তার মেলায়। পুরনো বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীরা একসঙ্গে মিলিত হন লক্ষ্মীপুজোর এই আনন্দে।

দেড়শ বছরের ঐতিহ্য (Asansol Lakshmi Puja)
বেড়ালা গ্রামের প্রায় ১০০টি মাজি পরিবার মিলে আয়োজন করেন এই পুজোর। প্রায় দেড়শ বছরের পুরনো এই ঐতিহ্য আজও সমান উজ্জ্বল। উদ্যোক্তাদের অন্যতম রাজু মাজি জানান, তাঁদের পূর্বপুরুষরা ছিলেন সরাক সম্প্রদায়ের, মূলত বার্নপুরের সাঁতা গ্রামের বাসিন্দা। পেশা ছিল চাষবাস। সেই সময়ে ব্রাহ্মণ ছাড়া অন্য জাতির মানুষ নিজের ঘরে দেবী-পূজা করতে পারতেন না। তাই তাঁরা বেড়ালায় এসে একসঙ্গে লক্ষ্মীপুজো শুরু করেন। সেই থেকে আজও এই পুজোই তাঁদের গর্ব ও পরিচয়।

ইন্দ্রদেব, নলকুবের ও লক্ষ্মীদেবী এক অনন্য প্রতিমা (Asansol Lakshmi Puja)
এই পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল দেবীর প্রতিমা। রবিবার মণ্ডপে এসে পৌঁছেছে প্রতিমা। এখানে লক্ষ্মীদেবী একা নন তাঁর দু’পাশে রয়েছেন ইন্দ্রদেব এবং নলকুবের। এই ত্রিমূর্তির রূপে দেবীর আরাধনা হয় অনন্য ভক্তিভরে। প্রতিবছরই পুজোমণ্ডপে শিল্পীদের নিপুণ হাতে ফুটে ওঠে ঐতিহ্যের ছোঁয়া।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতা (Asansol Lakshmi Puja)
পুজোর সূচনা হবে সোমবার। প্রথম দিনেই আয়োজন করা হয়েছে বসে আঁকো ও আলপনা প্রতিযোগিতার। শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে মুখর থাকবে মণ্ডপ চত্বর। পরবর্তী দু’দিন কলকাতার বিখ্যাত যাত্রাদল আসছে পালা পরিবেশনের জন্য। এছাড়াও থাকছে ঐতিহ্যবাহী ছৌ নাচ লোকনৃত্যের এক দুর্লভ অভিজ্ঞতা।
ধর্মীয় ভক্তির পরম প্রকাশ (Asansol Lakshmi Puja)
সূত্রে জানা যায়, উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, ১১ নভেম্বর হবে দেবীর বিসর্জন। সেদিন অনুষ্ঠিত হবে মহাভোগ ও মহা–আরতি। বিশেষ আকর্ষণ, বারাণসী থেকে আগত পুরোহিতেরা এখানে গঙ্গা–আরতির আদলে দেবী লক্ষ্মীর উদ্দেশ্যে মহা–আরতি করবেন। আলোর ঝলকানি ও ঢাকের বাদ্যে মুখরিত হবে বেড়ালা গ্রাম।
আরও পড়ুন: Jhargram Lakshmi Puja: পাঁচ দিনের লক্ষ্মী-সরস্বতী আরাধনা! জিলিপির রাজ্যও বলা হয় এই গ্রামকে
গ্রামীণ ঐক্যের প্রতীক এই পুজো?
লক্ষ্মীপুজো শুধু মাজি পরিবারের গর্ব নয়, বেড়ালা গ্রামের প্রতিটি মানুষের নিজের পুজো। অন্যান্য সম্প্রদায়ের বাসিন্দারাও সমান উৎসাহে অংশ নেন প্রতিটি আয়োজনে। ধর্মীয় ভক্তি, ঐতিহ্য ও সামাজিক ঐক্যের মেলবন্ধন ঘটায় এই পুজো যা বেড়ালা গ্রামের প্রাণ ও পরিচয় হয়ে উঠেছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে।



