Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের যুগ্ম সচিব পদে নির্বাচন নিয়ে তরজা তুঙ্গে। নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠল বুধবারের জরুরি বৈঠকে । নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতেই এই বৈঠক ডাকা হলেও, প্রশ্ন-পাল্টা প্রশ্নে একসময় তা উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার রূপ নেয় (CAB Election)।
একাধিক প্রতিনিধির প্রশ্ন (CAB Election)
বৈঠকের শুরুতেই একাধিক প্রতিনিধি প্রশ্ন তোলেন, কেন স্পেশাল জেনারেল মিটিং স্থগিত করা হল? পাশাপাশি এই সিদ্ধান্ত কেন আগে সদস্যদের জানানো হয়নি? (CAB Election) তাঁদের দাবি, এসজিএম নির্ধারিত সময়েই হতে পারত এবং সেখানে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে ইলেক্টোরাল অফিসার ব্যাখ্যা দিতে পারতেন। এই প্রশ্নের জবাব দেন সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তবে বৈঠকের মূল বিতর্ক ঘিরে ছিল দুটি বিষয় সত্তরোর্ধ্ব প্রতিনিধিদের ভোটাধিকার এবং কোনও ক্রিকেট প্রশাসকের টানা নয় বছরের মেয়াদ পূর্ণ হলে তিনি সিএবিতে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন কি না। একাংশের দাবি, লোধা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের ভোটাধিকার থাকা উচিত নয় এবং নয় বছরের বেশি প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকাও নিয়মবিরুদ্ধ।

সিএবির যুক্তি (CAB Election)
অন্যদিকে সিএবির তরফে পাল্টা যুক্তি দেওয়া হয়, এই বিষয়ে নিয়মে স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। বোর্ড স্তরে রাজ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা নিজ নিজ সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচিত হন। পাশাপাশি সিএবির বক্তব্য, দেশের আইন কোথাও বলে না যে নির্দিষ্ট বয়স পেরিয়ে গেলে কেউ ভোটাধিকার হারাবেন। তামিলনাড়ু ও ঝাড়খণ্ডের মতো রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাতেও সত্তর বছর বয়সের বেশি প্রতিনিধিরা ভোট দিয়ে থাকেন বলে দাবি করা হয়। সিএবি (CAB Election) স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তাদের সংবিধান অনুযায়ীই সমস্ত প্রক্রিয়া চলছে এবং আগামী সেপ্টেম্বরে বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। কারও আপত্তি থাকলে তারা আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে।
আরও পড়ুন: MOHUN BAGAN Alex Saji: মোহনবাগানে যোগ দিলেন অ্যালেক্স সাজি!
অভিষেক ডালমিয়ার অভিযোগ (CAB Election)
বৈঠকের শুরুতেই প্রাক্তন সভাপতি অভিষেক ডালমিয়া অভিযোগ করেন, জরুরি বৈঠকে অ্যাপেনডিক্স ‘এ’ প্রতিনিধিদের কাছে আগে থেকে পাঠানো বাধ্যতামূলক হলেও তা করা হয়নি। উত্তরে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই একই পদ্ধতিতে সিএবির বৈঠক হয়েছে এবং অভিষেক নিজে প্রশাসনে থাকাকালীনও সেই নিয়মেই বৈঠক পরিচালিত হয়েছে। জবাবে অভিষেক বলেন, অতীতে ভুল হয়ে থাকলেও তা সংশোধন করা উচিত। একই সঙ্গে সৌরভ প্রশ্ন তোলেন, কোথায় লেখা রয়েছে যে সত্তরোর্ধ্ব কেউ ভোট দিতে পারবেন না।
সিএবিকে চিঠি (CAB Election)
এদিন বৈঠকে আরও অভিযোগ ওঠে, সিএবির নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে জেলাশাসকের কাছে জমা পড়া একাধিক চিঠি। এ প্রসঙ্গে এক প্রবীণ সদস্য প্রশ্ন তোলেন, যদি প্রশাসনের মতে সেগুলি কপি-পেস্ট করা অভিযোগ হয়, তবে নির্বাচন করাতে বাধা কোথায় ছিল? একই সঙ্গে প্রশ্ন ওঠে, যদি প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে লোধা কমিটির সুপারিশ প্রযোজ্য না হয়, তবে যুগ্ম সচিব পদে নির্বাচন স্থগিত করার প্রয়োজন পড়ল কেন। একই সংস্থার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নেওয়া নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা হয়।
বৈঠকের এক পর্যায়ে প্রাক্তন সভাপতি অভিষেক ডালমিয়া এবং বিশ্বরূপ দে-র মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। বিশ্বরূপ দে-র প্রশাসনিক প্রতিনিধিত্বের মেয়াদ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আলোচনার সময় প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ মন্তব্য করেন যে, তিনি দীর্ঘদিন সিএবির সঙ্গে যুক্ত এবং নিয়ম সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। পাল্টা অভিষেকও জানান, তিনিও দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত এবং বিষয়টি সম্পর্কে সমানভাবে অবগত। এর জেরে সভার পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এদিনের বৈঠকে রাজ্যের ক্রীড়া দফতরের সচিবের একজন প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচন কবে হবে, সেই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না এলেও, বুধবারের বৈঠক স্পষ্ট করে দিল যে সিএবির অন্দরের মতবিরোধ আগামী দিনে আরও বড় আকার নিতে পারে।



