Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রথযাত্রা শেষ হলেও ভক্তির আবহ এখনও অটুট। সেই আবহকেই আরও অর্থবহ করে তুলল নদিয়া জেলার মায়াপুরের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মায়াপুর ঠাকুর ভক্তি বিনোদ ইনস্টিটিউট (Mid Day Meal)। রথযাত্রার পরের দিন বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য মিড ডে মিলের পরিবর্তে পরিবেশন করা হল জগন্নাথদেবের ‘৫৬ ভোগ’ মহাপ্রসাদ। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উদ্যোগে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান শুধু একটি বিশেষ মধ্যাহ্নভোজই নয়, বরং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ভক্তির এক অপূর্ব মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণজুড়ে ছিল উৎসবের আবহ। ছাত্রছাত্রীদের মুখে ছিল আনন্দের হাসি, আর শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চোখে ছিল এই উদ্যোগ সফল করার তৃপ্তি। ধর্মীয় ঐতিহ্যকে শিক্ষার পরিবেশের সঙ্গে সুন্দরভাবে যুক্ত করার এমন উদ্যোগ এলাকাজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে।

মহাপ্রসাদের থালায় সাজানো ছিল ঐতিহ্যের স্বাদ (Mid Day Meal)
‘৫৬ ভোগ’ নামটি শুনলেই মনে পড়ে জগন্নাথদেবের উদ্দেশ্যে নিবেদিত নানা রকম সুস্বাদু নিরামিষ পদ। বিদ্যালয়ের আয়োজিত এই বিশেষ ভোজেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ছাত্রছাত্রীদের জন্য পরিবেশন করা হয়েছিল জগন্নাথদেবের প্রিয় নানা খাদ্য। ভোগের তালিকায় ছিল পুষ্পান্ন, পরমান্ন, ফ্রাইড রাইস, বিভিন্ন রকম ভাজা, শাক, তরকারি, নানা ধরনের ফল, বিশেষ করে জগন্নাথদেবের প্রিয় কাঁঠাল। পাশাপাশি ছিল খাজা, মালপোয়া, পাটিসাপটা, বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি এবং আরও বহু নিরামিষ পদ। থরে থরে সাজানো এই সুস্বাদু খাবার দেখে পড়ুয়াদের মধ্যে ছিল প্রবল উৎসাহ। অনেকেই জীবনে প্রথমবার এত বৈচিত্র্যময় নিরামিষ ভোগ একসঙ্গে খাওয়ার সুযোগ পায়।
আর্থিক সহযোগিতাতেই সফল হল বিশাল আয়োজন (Mid Day Meal)
এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের নেপথ্যে ছিল বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিত্যগোপাল মণ্ডল জানান, সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্বেচ্ছাসেবী আর্থিক সহযোগিতা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, প্রত্যেক শিক্ষক নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ ও শ্রম দিয়ে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন। ফলে সরকারি বরাদ্দের বাইরে থেকেও ছাত্রছাত্রীদের জন্য একটি স্মরণীয় দিন উপহার দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
প্রায় ৪০০ জনের জন্য ছিল বিশেষ ভোজের ব্যবস্থা (Mid Day Meal)
এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৪০০ জনের জন্য মহাপ্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়। শুধু ছাত্রছাত্রীরাই নয়, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরাও এই ভোজে অংশগ্রহণ করেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ে মোট প্রায় ১,১৭৮ জন ছাত্রছাত্রী এবং ৩৬ জন শিক্ষক রয়েছেন। বছরের অন্যান্য দিনেও বিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ নিরামিষ খাবার পরিবেশন করা হয়। তবে রথযাত্রার পরদিন ৫৬ ভোগের এই বিশেষ আয়োজন বহু বছরের একটি ঐতিহ্য, যা প্রতি বছর একই উৎসাহে পালন করা হয়।
শিক্ষার সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে সংস্কৃতি (Mid Day Meal)
এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য কেবল সুস্বাদু খাবার পরিবেশন নয়। বরং ছাত্রছাত্রীদের কাছে ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং ভক্তির মূল্যবোধকে সহজভাবে তুলে ধরা। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, এমন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু ধর্মীয় ঐতিহ্য সম্পর্কেই জানতে পারে না, বরং একসঙ্গে বসে খাওয়ার মাধ্যমে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সমতা এবং সামাজিক সম্প্রীতির শিক্ষাও লাভ করে।
বিদ্যালয়মুখী করতে অভিনব উদ্যোগ (Mid Day Meal)
নদিয়ার নর্থ সার্কেলের স্কুল পরিদর্শক তথা বিদ্যালয়ের প্রশাসক জানবাস শেখ এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি জানান, এই ধরনের বিশেষ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য হল ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যালয়ের সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা। আকর্ষণীয় ও বৈচিত্র্যময় খাবারের আয়োজন পড়ুয়াদের মধ্যে বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহ বাড়ায়। এর ফলে উপস্থিতির হারও বাড়তে পারে এবং বিদ্যালয়ের প্রতি তাদের আবেগ আরও দৃঢ় হয়। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়াও বিদ্যালয়ের অন্যতম দায়িত্ব। এই ধরনের উদ্যোগ সেই দায়িত্ব পালনেরই একটি সুন্দর উদাহরণ।

আরও পড়ুন: PoK Unrest: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে গণবিক্ষোভ: উত্তাল মুজফফরাবাদ, চরমে উত্তেজনা
শিক্ষার এক অনন্য মেলবন্ধন (Mid Day Meal)
মায়াপুর আন্তর্জাতিকভাবে বৈষ্ণব সংস্কৃতির অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সেই ঐতিহ্যের ছাপ এই বিদ্যালয়ের কর্মকাণ্ডেও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। রথযাত্রার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে ছাত্রছাত্রীদের জন্য এমন মহাপ্রসাদের আয়োজন শুধু একটি উৎসব উদ্যাপন নয়, বরং আগামী প্রজন্মকে নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করানোর এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ। বর্তমান সময়ে যখন বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও আগ্রহ বাড়ানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ, তখন মায়াপুর ঠাকুর ভক্তি বিনোদ ইনস্টিটিউটের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছেও একটি অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।



