Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পাকিস্তানের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে এবার ফুঁসে উঠেছে পাক অধিকৃত কাশ্মীর (PoK Unrest)। বুধবার মুজাফফরাবাদে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে তীব্র প্রতিবাদ জানান। সম্প্রতি রাওয়ালকোট ও সুধনতিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর পাক রেঞ্জার্সের নির্বিচার গুলিবর্ষণে ৯ জনের মৃত্যু হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। আন্দোলনের শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে খবর।
কেন এই তুমুল বিক্ষোভ? (PoK Unrest)
মূলত অর্থনৈতিক সংকট, সুশাসনের অভাব এবং রাজনৈতিক অধিকারের দাবিতে এই আন্দোলনের সূত্রপাত। তবে সাম্প্রতিক প্রতিবাদের মূল কারণ আদালতের একটি রায়। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, কাশ্মীরি উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি বিধানসভা আসন সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত এবং তা বাতিল করা যাবে না।
বিক্ষোভকারীদের দাবি:
এই উদ্বাস্তু আসনগুলো অবিলম্বে বাতিল করতে হবে
স্থানীয় জনগণের রাজনৈতিক অধিকার ও স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে হবে
এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’ (JAAC)। তারা পাকিস্তান সরকারের কাছে বিদ্যুৎ বিলের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ, কর্মসংস্থান, সম্পদের অধিকার ও বিচার বিভাগীয় সংস্কারসহ ৩৮ দফা দাবি পেশ করেছে।
জঙ্গিদের অনুপ্রবেশের ছক? (PoK Unrest)
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সহিংস রূপ দিতে এবং একে “সন্ত্রাসবাদী” তকমা দিতে লস্কর-ই-তৈবা (LeT) ও জৈশ-ই-মহম্মদ (JeM)-এর মতো নিষিদ্ধ সংগঠনের জঙ্গিদের বিক্ষোভে শামিল করার ছক কষছে পাকিস্তানি প্রশাসন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মরিয়া প্রশাসন:বিক্ষোভ দমাতে অঞ্চল জুড়ে ১৬,০০০-এরও বেশি নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ব্ল্যাকআউট (PoK Unrest)
আন্দোলন দমাতে পাকিস্তান সরকার JAAC-কে নিষিদ্ধ করেছে এবং শত শত বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া, পুরো অঞ্চলে ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য সামনে আসছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করতে অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও দমনমূলক পথ বেছে নিয়েছে। তবে সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে বুধবারের বিশাল জনসমাগম প্রমাণ করে দিয়েছে যে, ইসলামাবাদের স্বৈরাচারী নীতির বিরুদ্ধে কাশ্মীরি जनता এখন একাট্টা।



