Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সকালে ঘুম থেকে উঠে বন্ধুকে একটি ইমেজ পাঠানো, অফিসের বসের মেসেজের উত্তরে ইমেজ দেওয়া, প্রিয় মানুষকে ইমেজ পাঠিয়ে ভালোবাসা জানানো কিংবা বন্ধুর মজার ভিডিও দেখে হাসির দিয়ে হেসে গড়িয়ে পড়ার কথা জানানো আজকের দিনে এসব যেন আমাদের দৈনন্দিন জীবনেরই অংশ। এমনও হয়, পুরো একটি কথোপকথন শেষ হয়ে যায় শুধুমাত্র কয়েকটি ইমোজিতে! তাই মজা করে অনেকেই বলেন, “এখন আর শুধু ভাষা শিখলেই হয় না, ইমোজির ভাষাও জানতে হয়!” এই ছোট্ট ডিজিটাল ছবিগুলির গুরুত্ব এতটাই বেড়েছে যে, প্রতি বছর ১৭ জুলাই সারা বিশ্বে পালিত হয় বিশ্ব ইমোজি দিবস (World Emoji Day)। প্রযুক্তির যুগে মানুষের অনুভূতিকে আরও সহজ, দ্রুত এবং প্রাণবন্ত করে তোলার এই অভিনব মাধ্যমকে সম্মান জানাতেই এই বিশেষ দিনটির সূচনা।
ইমোজির ইতিহাস (World Emoji Day)
মজার বিষয় হলো, ইমোজির ইতিহাস কিন্তু স্মার্টফোনের থেকেও পুরোনো। ১৯৮২ সালে কম্পিউটার বিজ্ঞানী স্কট ফালম্যান প্রথমবার লেখার শেষে 🙂 এবং 🙁 ব্যবহার করেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল খুবই সহজ, কোন কথা মজা করে বলা হয়েছে আর কোনটি সিরিয়াস, তা বোঝানো। হয়তো তখন তিনি নিজেও ভাবেননি, তাঁর সেই ছোট্ট আইডিয়াই একদিন কোটি কোটি মানুষের যোগাযোগের ধরন বদলে দেবে।
এরপর ১৯৯৯ সালে জাপানের ডিজাইনার শিগেতাকা কুরিতা মাত্র ১৭৬টি ছোট্ট ছবি তৈরি করেছিলেন একটি মোবাইল সংস্থার জন্য। সেখান থেকেই জন্ম নেয় আধুনিক ইমোজি। ছোট্ট ছবিগুলো দিয়ে কখনও আবহাওয়া, কখনও খাবার, কখনও ভালোবাসা, আবার কখনও আনন্দ বা দুঃখ প্রকাশ করা সম্ভব হতো। সেই শুরু, আর আজ ইমোজির সংখ্যা কয়েক হাজার!
কোথায় নেই ইমোজি? (World Emoji Day)
২০০৭ সালে গুগল ইমোজিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। এরপর ইউনিকোড কনসোর্টিয়াম বিভিন্ন ইমোজিকে একটি নির্দিষ্ট কোড দেয়, যাতে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের মানুষ একই ইমোজি ব্যবহার করতে পারেন। আর ২০১১ সালে অ্যাপল আইফোনে অফিসিয়াল ইমোজি কিবোর্ড চালু করার পর যেন ইমোজির জনপ্রিয়তায় আগুনে ঘি পড়ে। আজ হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স, টেলিগ্রাম— কোথায় নেই ইমোজি (World Emoji Day)?
আজকের দিনে ইমোজি শুধু হাসিমুখ বা কান্নার চিহ্নে সীমাবদ্ধ নয়। এখন রয়েছে বিভিন্ন দেশের পতাকা, নানান ধরনের খাবার, প্রাণী, খেলাধুলা, পেশা, পরিবার, উৎসব, এমনকি বিভিন্ন ত্বকের রং ও সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্বকারী ইমোজিও। অর্থাৎ পৃথিবী যত বৈচিত্র্যময় হচ্ছে, ইমোজির জগতও তত রঙিন হয়ে উঠছে।
তবে ইমোজি ব্যবহারেও কিন্তু মজার মজার ঘটনা ঘটে। বাবা-মা যেখানে হাসির-কে শুধু “হাসির মুখ” ভাবেন, সেখানে তরুণ-তরুণীরা সেটিকে “হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়া” হিসেবে ব্যবহার করেন। আবার কেউ পাঠালে একজন ভাবেন, “ঠিক আছে”, আর অন্যজন ভাবেন, “কথা শেষ!” অনেক সময় একটি ভুল ইমোজি পুরো কথার অর্থই বদলে দিতে পারে। তাই ইমোজি ব্যবহারও এক ধরনের শিল্প!
বিশেষজ্ঞদের মতে (World Emoji Day)
ইমোজি ভাষার সীমা ভেঙে দেয়। বাংলা, ইংরেজি, জাপানি, স্প্যানিশ বা আরবি, যে ভাষাই হোক না কেন, একটি ভালোবাসা বোঝায়, একটি দুঃখ বোঝায়, আর একটি * আনন্দের খবর দেয়। তাই ইমোজিকে অনেকেই বলেন ডিজিটাল যুগের সার্বজনীন ভাষা”।
আজ শুধু ব্যক্তিগত চ্যাট নয়, ব্যবসা, বিজ্ঞাপন, শিক্ষা, সংবাদমাধ্যম এমনকি সরকারি প্রচারেও ইমোজির ব্যবহার বাড়ছে। কারণ, মানুষ দীর্ঘ লেখা পড়ার আগে একটি সুন্দর ইমোজি দেখেই অনেক সময় বার্তার আবেগ বুঝে ফেলেন।
আরও পড়ুন: PoK Unrest: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে গণবিক্ষোভ: উত্তাল মুজফফরাবাদ, চরমে উত্তেজনা
শেষ পর্যন্ত বলা যায়, ইমোজি শুধুই একটি ছোট্ট ছবি নয়; এটি আমাদের হাসি, কান্না, ভালোবাসা, রাগ, অভিমান, বিস্ময় আর আনন্দের ডিজিটাল দূত। এক সময় মানুষ চিঠিতে লিখতেন “ভালো থেকো”। এখন অনেকেই শুধু একটি পাঠিয়েই সেই একই অনুভূতি পৌঁছে দেন। প্রযুক্তি যত এগোচ্ছে, ইমোজিও তত আমাদের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। তাই বিশ্ব ইমোজি দিবস শুধু একটি দিবস নয়, এটি সেই ছোট্ট ছবিগুলোর উদযাপন, যেগুলো প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষের মুখে হাসি ফোটায় এবং শব্দের চেয়েও দ্রুত মনের কথা পৌঁছে দেয়।



