Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইউক্রেনের উপকূলে গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি গোল্ডেন লিও’-তে রাশিয়ার প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন চারজন ভারতীয় নাবিক(Ukrain Russia Attack)। ১৭ জন আরোহী নিয়ে যাত্রা করা জাহাজটিতে মোট ১০ জন কর্মী নিহত হন, যার মধ্যে পাঁচজন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন। এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দিল্লিতে নিযুক্ত রাশিয়ার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত (চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স) ভ্লাদিমির লাদানোভকে তলব করেছে ভারত।
রাশিয়ার হামলা ও ক্রমবর্ধমান সংঘাত (Ukrain Russia Attack)
২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ শুরুর পর থেকেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে সাধারণ নাগরিকদের আবাসন, বিদ্যুৎকেন্দ্র, হাসপাতাল এবং বাণিজ্যিক জাহাজে নিয়মিত হামলার অভিযোগ উঠছে। ইউক্রেনের ওপর সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে নিজেদের শর্ত মানতে বাধ্য করাই এই কৌশলগত আক্রমণের মূল উদ্দেশ্য বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।
ক্রমাগত ঝুঁকিতে ভারতীয় নাবিকেরা
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতে জড়িয়ে বারবার প্রাণ হারাচ্ছেন নির্দোষ ভারতীয় নাবিকেরা। শুধু রাশিয়া নয়, পারস্য উপসাগরে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের পর পর কয়েকটি হামলায় একাধিক ভারতীয় নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন। প্রতিটি ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট দেশের কূটনীতিকদের ডেকে প্রতিবাদ পাঠালেও হামলা ও প্রাণহানি থামেনি।
বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য (Ukrain Russia Attack)
“বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং নিরীহ নাবিকদের জীবন বিপন্ন করার এই ঘটনা চরম নিন্দনীয়। আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবাধ যাতায়াত ও বাণিজ্যের স্বাধীনতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।”
আরও পড়ুন: Mahua HC: মহুয়াকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ হাইকোর্টের: সাময়িক স্বস্তি কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদের
মার্কিন ব্লকহেড ও ভারতের উদ্বেগ (Ukrain Russia Attack)
সম্প্রতি পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর পর আমেরিকার কাছেও প্রতিবাদ জানায় দিল্লি। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, অঞ্চলে শান্তি রক্ষার স্বার্থে মার্কিন বাহিনী তাদের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা ও তেল পরিবহন রুখতে সব বাণিজ্যিক জাহাজকে মার্কিন নির্দেশ মেনে চলতে হবে।
ক্রমাগত বেড়ে চলা বৈশ্বিক উত্তেজনা এবং বিভিন্ন দেশের এই আগ্রাসী মনোভাবের মাঝে মধ্যস্থতা বজায় রাখা ও বিদেশে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন দিল্লির জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



