Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দীর্ঘ এক মাসের টানা আন্দোলন, দেশজুড়ে পড়ুয়াদের ক্ষোভ, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির সমর্থন এবং নাগরিক সমাজের ক্রমবর্ধমান চাপের পর অবশেষে বড় সিদ্ধান্তের পথে কেন্দ্র (Dharmendra Pradhan)। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন। যদিও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়নি, তবুও এই ঘটনাকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও শিক্ষাক্ষেত্রের মোড়বদল হিসেবেই দেখা হচ্ছে। নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডকে ঘিরে তৈরি হওয়া ক্ষোভই শেষ পর্যন্ত এই পরিস্থিতির জন্ম দিল বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।

আরও পড়ুন: Dharmendra Pradhan: ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে শহরে ৮ বাম ছাত্র সংগঠনের মহামিছিল
‘সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্টে ইস্তফার ঘোষণা (Dharmendra Pradhan)
শনিবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্ট করে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান ধর্মেন্দ্র প্রধান। সেখানে তিনি লেখেন, “দেশের পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ, উন্নত ও দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি নিজের দায়িত্ব থেকে কোনও সময় মুখ ফিরিয়ে নিইনি। প্রথম দিন থেকেই নিটে প্রশ্নফাঁসের দায় নিয়েছি। কোনও সময় মুখ লুকাইনি।” তাঁর বক্তব্য, ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে কিছু দেশবিরোধী শক্তি পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। সেই কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে দেশের বৃহত্তর স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তিনি আরও দাবি করেন, “আমার এই পদত্যাগ দেশের জন্য। কোনও কুচক্রী যাতে এই পরিস্থিতিকে ব্যবহার করতে না পারে, সেই কারণেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
নিট প্রশ্নফাঁস থেকেই শুরু হয়েছিল ক্ষোভের আগুন (Dharmendra Pradhan)
ঘটনার সূত্রপাত নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস বিতর্ককে কেন্দ্র করে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর থেকেই দেশজুড়ে ক্ষোভ তৈরি হয়। বহু পরীক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবার অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর পরিশ্রমের মূল্য নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তরমন্তরে অবস্থান শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। শুরুর দিকে আন্দোলনটি সীমিত পরিসরেই থাকলেও, ধীরে ধীরে তা জাতীয় স্তরের আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ শুধু একজন মন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়ার ঘটনা নয়; এটি দীর্ঘদিনের ছাত্র আন্দোলন, জনমত এবং রাজনৈতিক চাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি হিসেবে সামনে এসেছে। যদিও আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি পূরণ হয়েছে, তবুও বিক্ষোভকারীরা জানিয়ে দিয়েছেন তাঁদের লড়াই এখনও শেষ হয়নি।



