Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতীয় দলে সুযোগ না পাওয়া নিয়ে মুখ খুললেন সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson)। নিজের কেরিয়ার, বোর্ডের দলগঠন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিরক্ত তিনি। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ভারতীয় ক্রিকেটের এই অবিরাম ইঁদুর দৌড়ে তিনি আর শামিল হতে চান না।
নিজের কেরিয়ার নিয়ে বার্তা (Sanju Samson)
সঞ্জুর (Sanju Samson) কেরিয়ারে ধারাবাহিকতার অভাব এবং সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা নতুন নয়। সম্প্রতি আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সিরিজে সুযোগ পেলেও জিম্বাবোয়ে সিরিজে দলে জায়গা পাননি তিনি। তাঁর পরিবর্তে তরুণ বৈভব সূর্যবংশীকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে সঞ্জুর গলায় স্পষ্ট অভিমান ধরা পড়েছে।
তিনি বলেন, “আমি বুঝতে পেরেছি, আমাদের দেশের ক্রিকেটে সব সময় একটা ইঁদুরদৌড় চলে। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেই ঠিক করে নিয়েছিলাম, এই ইঁদুরদৌড়ে শামিল হব না।” নিজের ভবিষ্যৎ এবং খেলার ধরন নিজে ঠিক করবেন জানিয়ে তাঁর সংযোজন, “ঈশ্বরের কৃপায় অনেক সাফল্য পেয়েছি। এখন ৩১ বছর বয়স। আর কয়েক বছর বাকি আছে। আমি ঠিক করেছি, নিজের মতো খেলব। কারও কথা শুনে চলব না। কেউ আমাকে শেখাতে পারবে না, কী ভাবে ব্যাট করব। সঞ্জুর সিদ্ধান্ত সঞ্জু নিজেই নেবে।”

বিদ্রোহের প্রশ্ন উড়িয়ে দিলেন সঞ্জু (Sanju Samson)
তবে কি সরাসরি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বা টিম ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন? এমন জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। তাঁর স্পষ্ট কথা, সুযোগ পেলে তিনি দেশের হয়েই খেলবেন, তবে নিজের শর্তে।
সঞ্জুর বক্তব্য, “সকলকে সম্মান করেই বলছি, আমি সুযোগ পেলে খেলব। উপভোগ করব। ভাল সতীর্থ হব। দলকে সাহায্য করব। কিন্তু সবটাই নিজের মতো করে। আমি তো ভেবেছিলাম ২০২৬ সালের বিশ্বকাপেই সুযোগ পাব না। একটা সময় ১৫ জনের দলেই ছিলাম না। তা হলে ২০২৮ সালের বিশ্বকাপ কী ভাবে খেলব? যদি সুযোগ পাই, তা হলে খেলব। কেউ তো আমার কৃতিত্ব ছিনিয়ে নিতে পারবে না।”
বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স (Sanju Samson)
২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও শুরুতে প্রথম একাদশে নিয়মিত ছিলেন না সঞ্জু। কিন্তু টুর্নামেন্টের শেষ লগ্নে সুযোগ পেয়েই নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেন। ফাইনাল-সহ শেষ তিনটি ম্যাচে তাঁর ব্যাটেই জয় ছিনিয়ে নেয় ভারত। শুধু তাই নয়, টুর্নামেন্টের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কারও জেতেন তিনি। কিন্তু তারপরেও পরবর্তী সিরিজে দলে ব্রাত্য থাকাটাই তাঁর ক্ষোভের প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: Mohammedan Sporting: ডুরান্ডে নামার আগেই খুশির হাওয়া মহামেডানে
বিরাট কোহলির অবদান (Sanju Samson)
সাক্ষাৎকারে নিজের কেরিয়ারে বিরাট কোহলির প্রভাবের কথাও অকপটে স্বীকার করেছেন সঞ্জু। কোহলির ফিটনেস ও খাদ্যাভ্যাসের পরামর্শ কীভাবে তাঁর জীবনধারা বদলে দিয়েছিল, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিরাটভাইকে কিছু জিজ্ঞাসা করলে স্পষ্ট জবাব দেয়। ভারতের একটা শিবিরে আমরা দু’জন একসঙ্গে জিম করছিলাম। বিরাটভাইকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কী ভাবে আরও উন্নতি করব? বিরাটভাই আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছিল, কী খেতে হবে, কী খেলে হবে না, কী ভাবে শরীরের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। বলেছিল, এ ভাবে চললে আরও ১০ বছর ভাল খেলতে পারব। এক-দেড় বছর মেনে চলেছিলাম। তার পর আর পারিনি।”
ভারতীয় ক্রিকেটের অন্দরে সঞ্জুর এই মন্তব্য নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। মাঠের বাইরের এই বিতর্ক আগামী দিনে ভারতীয় দলের স্কোয়াড নির্বাচনে কোনও প্রভাব ফেলে কি না, এখন সেটাই দেখার।



