Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মরসুমের প্রথম ডার্বি হারলেও ঘর গোছানোতে কোনও খামতি রাখছে না ইস্টবেঙ্গল (East Bengal)। দুই বছরের চুক্তিতে অস্ট্রেলিয়ান অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারকে সই করাল তারা। পঞ্চম বিদেশি কোটা নিশ্চিত করে ফেলল লাল হলুদ শিবির। অস্ট্রেলিয়া থেকে ক্রিস ইকোনোমিডিস আসছেন লেসলি ক্লডিয়াস সরণীতে। ময়দানের হাওয়ায় এখন একটাই গুঞ্জন লাল-হলুদ দুর্গে এসে গেল এক নতুন যোদ্ধা।
মা যখন কোচ (East Bengal)
ফুটবলের সঙ্গে ইকোনোমিডিসের (East Bengal) পথচলাটা যেন এক রূপকথা, যার প্রতিটি পাতায় লেখা রয়েছে জেদ, সংগ্রাম আর নাছোড়বান্দা মানসিকতার গল্প। মায়ের কোচিংয়ে বড় ভাইয়ের দলে যখন প্রথম অনুশীলনে নেমেছিলেন, গায়ে তখন নির্দিষ্ট কোনও জার্সি ছিল না। ছিল শুধু স্কুলের ইউনিফর্ম আর পায়ে নতুন একজোড়া বুট। সেদিন রাতে ঘুমানোর আগে পর্যন্ত পা থেকে সেই বুট খুলতে চাননি ছোট্ট ক্রিস। মাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন, “মা, এটাই আমি। যে কোনও মূল্যে পেশাদার ফুটবলার হতে চাই।” সেই জেদ আজ তাঁকে এশিয়ার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের জার্সিতে পৌঁছে দিয়েছে।
কেরিয়ার শুরু (East Bengal)
১৫ বছর বয়সে সাদারল্যান্ড শার্কসের হয়ে ইংল্যান্ডের নাইকি কাপে আন্তর্জাতিক ফুটবলের খাতায় নাম লেখান। ইতালির ফুটবল সংস্কৃতিতে নিজের শৈশব ও কৈশোরের সোনালী সময় কাটানো চাট্টিখানি কথা নয়। আটালান্তার যুব দল থেকে সোজা ইতালির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব এসএস লাজিও ইউরোপীয় ফুটবলের কঠোর ও নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে পদে পদে। লাজিও থেকে ধারে সালের্নিতানায় খেলতে গিয়ে সিনিয়রদের কঠিন আচরণ কিংবা ভিনদেশের বৈরিতা কোনও কিছুই তাঁকে দমাতে পারেনি। নিজের পরিশ্রমে শুধু প্রথম একাদশে জায়গাই পাকা করেননি, লাল ও নীল জার্সিতে ইউরোপের মাটিতে ঘাম ঝরিয়ে নিজেকে শাণিত করেছেন।

ইকোনোমিডিসের ফুটবল জীবন (East Bengal)
তবে ইকোনোমিডিসের ফুটবল জীবনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রয়েছে তাঁর পরিবারের। ফুটবল পরিবারে জন্ম না হলেও, ছেলের প্রতিটি পদক্ষেপে ছায়ার মতো পাশে ছিলেন তাঁর বাবা-মা। বিকেল তিনটে ম্যাচের আগে সকাল আটটাতেই বুট পরে তৈরি হয়ে থাকা সেই কিশোর আজও একই রকম আবেগ ধরে রেখেছেন নিজের মধ্যে। অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দল ‘সকারুজ’-এর হয়ে গোল করার পর গ্যালারিতে বাবা-মায়ের চোখে সেই আনন্দাশ্রু দেখার মুহূর্তটিকে তিনি জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি বলে মনে করেন।
ফুটবল তাঁকে যেমন দিয়েছে বুকভাঙ্গা লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা, তেমনই ফিরিয়ে দিয়েছে বন্ধুত্ব ও আত্মবিশ্বাসের অদম্য শক্তি। আর এবার, সেই অভিজ্ঞতা ও ক্ষিপ্রতাকে সম্বল করেই কলকাতার আকাশেও প্রতিধ্বনিত হতে চলেছে তাঁর নাম।
আরও পড়ুন: Mohammedan Sporting: ডুরান্ডে নামার আগেই খুশির হাওয়া মহামেডানে
ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে ক্রিস ইকোনোমিডিস (East Bengal)
এই সই কেবল একজন বিদেশি ফুটবলারের সংযুক্তি নয়, এটি কোটি কোটি লাল-হলুদ সমর্থকের মনে নতুন করে জেগে ওঠার এক তুমুল আবেগ। ইউরোপের অভিজাত মঞ্চ থেকে কলকাতার আবেগঘন গ্যালারি ইকোনোমিডিসের কেরিয়ারের এই নতুন অধ্যায় কি তবে লাল-হলুদকে এনে দেবে সেই সাফল্য? ময়দানের বাতাস এখন সেই উত্তরের অপেক্ষাতেই বুক বাঁধছে।



