Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: চলতি বছরের ১ অগাস্ট পর্যন্ত অসমে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। ‘দ্য হিন্দু’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি শিবসাগর এবং চরাইদেও জেলায় আরও দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে শিবসাগর, গোলাঘাট, জোরহাট, নগাঁও এবং চরাইদেও সহ একাধিক জেলায় প্রায় ১.৯২ লক্ষ মানুষ বন্যাকবলিত(Assam Flood)।
পরিস্থিতি আগের থেকে কিছুটা উন্নত হলেও দিখৌ ও ধানসিঁড়ির মতো নদীগুলো এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। ফলে স্থানীয় প্রশাসন সাধারণ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছে।
ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান (Assam Flood)
দুর্গতদের সহায়তায় এনডিআরএফ (NDRF) ও এসডিআরএফ (SDRF) নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ত্রাণ শিবির: ৫৪টি ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ১৩,০০০ মানুষ।
ত্রাণ বণ্টন কেন্দ্র: ২৬টি কেন্দ্রে আরও ৫,৩৮৪ জনকে জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চরাইদেও জেলা, যেখানে ৭৭,৪৫৬ জন মানুষ জলবন্দি। এছাড়া শিবসাগরে ৬৩,৪৯২ জন এবং জোরহাটে ৩৪,০৬৭ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
সরকারি পদক্ষেপ ও আর্থিক সাহায্য (Assam Flood)
উদ্ধারকার্যের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর আর্থিক ঘুরে দাঁড়ানোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে আসাম সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন, গবাদি পশু ও সম্পত্তির বীমা দাবি দ্রুত মেটাতে ৫ আগস্ট বীমা সংস্থাগুলোর সঙ্গে বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া, ‘পিএম সূর্য ঘর’ প্রকল্পের আওতায় ৯,২৮৯ জন ক্ষতিগ্রস্ত সুবিধাভোগীর জন্য ৪১.৬৭ কোটি টাকার বকেয়া রাজ্য ভরতুকি অনুমোদন করা হয়েছে। আগামী ৪ আগস্টের মধ্যে এই টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
“বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের পাশে আমাদের সরকার দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে। ক্ষতিপূরণ ও সহায়তা প্রদানের কাজ দ্রুততার সঙ্গে চালানো হচ্ছে।”
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, মুখ্যমন্ত্রী, অসম
আরও পড়ুন: Rashmika Mandanna: শুটিং ফ্লোরে মারাত্মক আহত রশ্মিকা মন্দানা!
অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়া (Assam Flood)
‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জুলাই মাসে দেশের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণেই আসামে এই ধ্বংসাত্মক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। মনসুনের এই অসম বণ্টনের ফলে দেশের এক অংশে বন্যা হলেও অন্য অংশে দেখা দিয়েছে জলাভাব।
বর্তমানে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।



