Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কথা দিয়েছিলেন ক্লাবের আর্থিক সংকট মেটাবেন, আর সেই প্রতিশ্রুতির সুবাদেই মহামেডান ক্লাবের সভাপতির কুর্সিতে বসেছিলেন হুমায়ুন কবীর (MSC Humayun)। কিন্তু তাঁর কাজে বর্তমানে মারাত্মক অসন্তুষ্ট ক্লাব কর্তারা। দিনকয়েক আগেই খবর ছড়ায় যে, নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের সই করা চেক বাউন্স হয়েছে। শুধু একবার নয়, পর পর টানা তিনবার এই ঘটনা ঘটে। গোটা পরিস্থিতিতে মহামেডান কর্তাদের অন্দরে অসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করে। অবশেষে বাধ্য হয়েই এই বিধায়ককে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে।
১৫ দিনের চরম সময়সীমা (MSC Humayun)
সোমবার হুমায়ুন কবীরকে পাঠানো আইনি নোটিসের মূল কথা হলো, তাঁর সই করা চেক থেকে কোনো অর্থই পাওয়া যায়নি। এই ধরণের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের জেরে ক্লাবের প্রতি তাঁর উদ্দেশ্য নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। ক্লাব সূত্রে জানানো হয়েছে, এই অসৎ উদ্দেশ্য আইনত শাস্তিযোগ্য। তবে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির এই বিধায়ককে আরও কিছুটা সময় দিচ্ছে মহামেডান শিবির। নোটিস হাতে পাওয়ার পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিশ্রুত সমস্ত অর্থ মিটিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁকে অনুরোধ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট এই সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়ানি এবং ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
দেড় কোটি টাকার চেক জালিয়াতি (MSC Humayun)
বাংলায় পালাবদলের ঠিক পরেই মহামেডানের ম্যানেজমেন্ট নতুন করে ঢেলে সাজানো হয়, এবং ক্লাবের সভাপতি পদে আসীন হন নওদা ও রেজিনগরের বিধায়ক। দায়িত্বভার গ্রহণ করেই তিনি ক্লাবের ১৩ কোটি টাকার বিপুল দেনা মেটানোর বিষয়ে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এরপরেই শুরু হয় চেক বাউন্স পর্ব। বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, নওদার বিধায়ক মোট দেড় কোটি টাকার চেক দিয়েছিলেন ক্লাবে। কিন্তু তিন-তিনবার তা বাউন্স করার পরও তিনি ক্লাব কর্তাদের ফের নতুন করে আশ্বস্ত করেছিলেন। তবে চতুর্থবারের সেই আশ্বাসের সুরও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
আরও পড়ুন: East Bengal vs BSS: শেষ মুহূর্তের গোলে হার বাঁচাল ইস্টবেঙ্গল
সভাপতি বদল (MSC Humayun)
জানা যায়, গত ১৫ জুনের মধ্যে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ জমা দেওয়ার কথা ছিল হুমায়ুনের (MSC Humayun)। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ক্লাবের ফান্ডে এক পয়সাও জমা পড়েনি। এর ফলে ক্লাবের আর্থিক সংকট আরও চরমে ওঠে এবং ফুটবলারদের বকেয়া বেতন মেটানো নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত ক্লাব কর্তাদের তৎপরতাতেই বকেয়া অর্থ মিটিয়ে ফিফার নির্বাসনের খাঁড়া থেকে রক্ষা পায় মহামেডান। হুমায়ুনের এহেন দায়িত্বহীন আচরণে সকল ক্লাব কর্তাই ক্ষুব্ধ। ইতিমধ্যেই ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়েছে ঘজল উজ জাফরকে। হুমায়ুন কবীর তার প্রতিশ্রুতি পুরণ না করতে পারলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি থেকে স্থায়ী সভাপতি হয়ে যাবেন তিনি। তবে শোনা যাচ্ছে হুমায়ুন কবীরকে দেওয়া ডেডলাইনের আগেই তিনি ক্লাবে আসবেন। এখন সেই অপেক্ষাতেই সমর্থকরা।



