Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ত্রয়ণ চক্রবর্তী: বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন (Naushad Siddiqui)। তাঁর দাবি, কুণাল মণ্ডল যে ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এনেছেন, তা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। বরং এ ধরনের বহু ব্যক্তি তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলে তাঁর মন্তব্য। তিনি বলেন, জনগণের সম্পদ এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের অপব্যবহার করেই এই বিপুল সম্পত্তি ও অর্থের পাহাড় গড়ে উঠেছে। কয়লা, বালি, পাথরসহ বিভিন্ন খাতে ভুয়ো বিল তৈরি করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নওশাদের কথায়, বর্তমানে যেটুকু তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে, তা পুরো চিত্রের মাত্র ২৫ শতাংশ। বাকি ৭৫ শতাংশ দুর্নীতিও সামনে এনে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি দাবি করেন।
তদন্ত মাঝপথে থেমে গেলে চলবে না (Naushad Siddiqui)
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI) এবং রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থার বিভিন্ন মামলার প্রসঙ্গ টেনে নওশাদ সিদ্দিকী বলেন, বহু ক্ষেত্রে প্রথমে ব্যাপক হইচই হলেও পরে তদন্তের গতি শ্লথ হয়ে যায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কুণাল মণ্ডল সংক্রান্ত তদন্ত যেন শেষ পর্যন্ত নিরপেক্ষভাবে এগোয় এবং প্রকৃত সত্য সামনে আসে। তাঁর মতে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই কোনোভাবেই মাঝপথে থেমে থাকা উচিত নয়।
আদালতের নির্দেশই চূড়ান্ত, আইন মেনেই চলার বার্তা
শব্দদূষণ এবং মাইক ব্যবহারের বিষয়ে নওশাদ স্পষ্ট জানান, তাঁর দল আদালতের নির্দেশ এবং আইনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। তিনি বলেন, সাইলেন্স জোন, আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক এলাকা ও শিল্পাঞ্চলের জন্য যে পৃথক শব্দসীমা নির্ধারিত রয়েছে, সেই নিয়ম মেনেই চলা হবে। আইনের বাইরে গিয়ে কোনো পদক্ষেপে তাঁদের সমর্থন নেই বলেও তিনি জানান।
রয়্যালটি বন্ধের অভিযোগে বিজেপিকে নিশানা (Naushad Siddiqui)
বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে নওশাদ দাবি করেন, রাজনৈতিক লড়াইয়ের নামে যদি কোনো রাজ্যের প্রাপ্য রয়্যালটি বা আর্থিক প্রাপ্য আটকে দেওয়া হয়, তবে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, দুর্নীতির বিরুদ্ধেও আন্দোলন চলবে। কিন্তু সাধারণ মানুষের স্বার্থে যে সরকারি আর্থিক সুবিধা প্রাপ্য, তা রাজনৈতিক কারণে বন্ধ করা উচিত নয়।
মসজিদের মাইক খুলে নেওয়ার অভিযোগ (Naushad Siddiqui)
নওশাদ সিদ্দিকীর বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মাইক ব্যবহারের বিষয়টি। তিনি দাবি করেন, গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে তাঁকে ফোন করে জানানো হয়েছে যে, বিভিন্ন থানার পক্ষ থেকে মসজিদসহ একাধিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে গিয়ে মাইক খুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, এই নির্দেশের পক্ষে কোনো লিখিত সরকারি আদেশ বা নোটিফিকেশন দেখানো হচ্ছে না। পুলিশ মৌখিকভাবে নির্দেশ দিচ্ছে, কিন্তু লিখিত নির্দেশের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিচ্ছে না।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের পক্ষে, কিন্তু আইন মেনে (Naushad Siddiqui)
নওশাদ স্পষ্ট করে বলেন, তিনি বা তাঁর দল কোনোভাবেই শব্দদূষণের পক্ষে নন। তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ এবং ২০০০ সালের প্রাসঙ্গিক আইনে কোথায় কত ডেসিবেল শব্দ ব্যবহার করা যাবে, তা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত রয়েছে। সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এবং রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত আলাদা নিয়মও রয়েছে। তাই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হলে আপত্তি নেই, কিন্তু ভয় দেখিয়ে বা মৌখিক নির্দেশ দিয়ে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মাইক খুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তা গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ডিজিপির কাছে লিখিত নির্দেশিকা চাইলেন (Naushad Siddiqui)
বিভিন্ন জায়গা থেকে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য আসছে বলে দাবি করেন নওশাদ। কোথাও পুরো মাইক খুলে নিতে বলা হচ্ছে, কোথাও শুধু ফজরের আজান সম্প্রচার বন্ধ করার কথা বলা হচ্ছে, আবার কোথাও মাইক অপসারণের প্রস্তুতি নিতে বলা হচ্ছে—এই বিভ্রান্তির কারণেই তিনি রাজ্যের ডিজিপির কাছে প্রকৃত সরকারি নির্দেশিকা জানতে চেয়েছেন। তিনি বলেন, যদি কোনো নতুন নির্দেশিকা থাকে, তাহলে তা লিখিতভাবে সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কমিটির কাছে পৌঁছে দেওয়া উচিত।
কলকাতা হাইকোর্টে যাওয়ার ঘোষণা (Naushad Siddiqui)
প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে যাওয়ার ঘোষণা দেন নওশাদ সিদ্দিকী। তাঁর দাবি, এই বিষয়টি অতীতেও আদালতে গিয়েছিল এবং আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। সেই নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নতুন করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে কেন, তা আদালতেই জানতে চাওয়া হবে।
সরকারের প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ার অভিযোগ (Naushad Siddiqui)
সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতিশ্রুতি পূরণ না করার অভিযোগও তোলেন নওশাদ। তিনি বলেন, অন্নপূর্ণা যোজনা, রান্নার গ্যাসের মূল্য কমানো, পেট্রোল-ডিজেলের দাম হ্রাস, বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার মতো প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি বলে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, এই জনঅসন্তোষ থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতেই নতুন নতুন বিতর্ক ও বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংবিধানের একাধিক অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের অভিযোগ
নওশাদ সিদ্দিকীর অভিযোগ, এই ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারতের সংবিধানের ১৪, ১৯, ২১ এবং ২৫ থেকে ২৮ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রদত্ত মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি শুধু ধর্মীয় স্বাধীনতার নয়, বরং নাগরিক অধিকারের সঙ্গেও জড়িত। তাই আইনের পথেই এর সমাধান খোঁজা হবে।



