Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ত্রয়ণ চক্রবর্তী: বাবার মৃত্যুর পাঁচ বছর পর কেন এই অভিযোগ? নিজের পোস্টেই তার উত্তর দিয়েছেন উষসী (Usashi Chakraborty)। জানিয়েছেন, এতদিন তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কোথাও কিছু বলেননি। এমনকী অভিযোগ তুলে আইনি পথে যাওয়ার কথাও তাঁর মাথায় এসেছিল। কিন্তু সেই সময় পরিস্থিতি এতটাই কঠিন ছিল যে মামলা করার মতো মানসিক শক্তি বা এনার্জি তাঁর অবশিষ্ট ছিল না।
‘ভেন্টিলেশনে দেওয়ার আগে আমাদের কনসেন্ট নেওয়া হয়নি’
উষসীর অভিযোগ, বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর বাবাকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, বাবাকে ভেন্টিলেশনে দেওয়ার আগে পরিবারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সম্মতি নেওয়া হয়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবারের সম্মতি নেওয়া হলে তাঁরা ভেন্টিলেশনে যাওয়ার অনুমতি দিতেন না। কারণ, শ্যামল চক্রবর্তী অ্যানকাইলজিং স্পন্ডিলাইটিসে আক্রান্ত ছিলেন এবং তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিবার যথেষ্ট ওয়াকিবহাল ছিল। উষসীর দাবি, তাঁর বাবার ক্ষেত্রে ফুল অ্যানেস্থেশিয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এমন আশঙ্কা তাঁদের ছিল।
পাঁচ বছর পরেও মেলেনি সেই প্রশ্নের উত্তর (Usashi Chakraborty)
বাবার মৃত্যুর পর কেটে গিয়েছে পাঁচ বছর। কিন্তু একটি প্রশ্নের উত্তর এখনও তাঁর কাছে অধরা—পরিবারের সম্মতি ছাড়াই কেন তাঁর বাবাকে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়েছিল? উষসীর বক্তব্যে সেই দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণাই ফুটে উঠেছে। তাঁর কথায়, হয়তো কোনও দিনই এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে না। চাইলে তখনই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব ছিল। হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা করার সুযোগও ছিল। কিন্তু প্রিয় মানুষকে হারানোর পর যে মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিয়ে তাঁকে যেতে হয়েছিল, সেখানে আদালত-কাছারি করার মতো শক্তি তাঁর ছিল না।

‘অন্য হাসপাতালে নিয়ে গেলে কি অন্য কিছু হতে পারত?’
উষসীর লেখায় সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে এই আত্মজিজ্ঞাসাই—‘ওই হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে অন্য কোথাও গেলে কি অন্য কিছু হতে পারত?’ প্রিয় মানুষকে হারানোর পর এই প্রশ্ন বহু পরিবারকেই তাড়া করে ফেরে। হাসপাতাল বদলালে কি ফল অন্যরকম হতো? আরও আগে চিকিৎসা শুরু করলে কি মানুষটিকে বাঁচানো যেত? অন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে কি সিদ্ধান্ত বদলাত? এমন হাজারো প্রশ্নের কোনও নিশ্চিত উত্তর থাকে না।
‘আপনি যতই করুন, গ্লানি থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন’
উষসীর বক্তব্য অনুযায়ী, বাবা বা মায়ের শেষ দিনগুলিতে যদি আপনি একমাত্র কেয়ারগিভার হন, বিশেষ করে পরিবারে যদি একমাত্র সন্তান হিসেবে আপনাকেই সমস্ত সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তাহলে প্রিয় মানুষটি চলে যাওয়ার পর একটা গভীর অপরাধবোধ তৈরি হতে পারে। আপনি তাঁর জন্য যতটা সম্ভব করেছেন, যত রাত জেগেছেন, যত চিকিৎসকের কাছে ছুটেছেন, যত টাকা খরচ করেছেন তবুও মনে হতে পারে, আরও কিছু করা যেত কি না। সিদ্ধান্তটা অন্যরকম হলে কী হতো? অন্য হাসপাতালে গেলে কি মানুষটি বেঁচে থাকতেন?
সরকারি হাসপাতালে কেন নেওয়া হয়নি (Usashi Chakraborty)
সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন অভিযোগ সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে তাহলে তাঁকে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়নি কেন? উষসী তাঁর পোস্টের পুনশ্চ অংশে এই প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন। জানিয়েছেন, তাঁর বাবার আগে কোভিড হয়েছিল। সেই সময়ে বহু চেষ্টা করেও সরকারি হাসপাতালে জায়গার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। ফলে পরিস্থিতির চাপে তাঁকে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। অর্থাৎ, হাসপাতাল বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি কোনও সরল বা স্বাভাবিক পরিস্থিতির সিদ্ধান্ত ছিল না। কোভিড-পরবর্তী সময়ের স্বাস্থ্যব্যবস্থার চাপ, হাসপাতালের বেডের সংকট এবং একজন অসুস্থ প্রবীণ মানুষের চিকিৎসার প্রয়োজন সবকিছুর মধ্যেই পরিবারকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল।

চিকিৎসা ব্যবস্থায় সম্মতির প্রশ্ন (Usashi Chakraborty)
উষসীর এই বক্তব্য শুধুমাত্র তাঁর ব্যক্তিগত শোক বা বাবাকে হারানোর স্মৃতিচারণ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগী ও পরিবারের সম্মতির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কোনও রোগীর চিকিৎসা-পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে চিকিৎসকদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আবার অন্যদিকে, রোগী যদি আগে থেকেই নিজের চিকিৎসা সংক্রান্ত ইচ্ছা পরিবারের কাছে জানিয়ে থাকেন, তাহলে সেই ইচ্ছার গুরুত্বও অত্যন্ত বেশি।
আরও পড়ুন: Bikash Ranjan Bhattacharya: আইন নয়, নির্দেশেই চলছে পুলিশ! সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন বিকাশের
পাঁচ বছর পরেও স্মৃতিতে অমলিন বাবা
শ্যামল চক্রবর্তীর রাজনৈতিক পরিচয় দীর্ঘদিনের। কিন্তু উষসীর কাছে তিনি প্রথমত বাবা। রাজনীতির পরিচয়ের বাইরে বাবার শেষ দিনগুলির স্মৃতিই তাঁর কাছে সবচেয়ে ব্যক্তিগত এবং যন্ত্রণাদায়ক। পাঁচ বছর পর সেই স্মৃতি আবার প্রকাশ্যে নিয়ে এসে উষসী যেন নিজের ভেতরে জমে থাকা প্রশ্নগুলির কথাই জানালেন।



