Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মেসি (Lionel Messi) মানেই তো পায়ের জাদু। মুগ্ধ করা ড্রিবল, স্টেডিয়াম জুড়ে বাঁধভাঙা উল্লাস আর কোটি কোটি মানুষের হৃদস্পন্দন। কিন্তু সেই ফুটবল জাদুকরকে ঘিরে যে এমন এক পরিকল্পনা চলছিল, যা শুনলে যেকোনও ক্রীড়াপ্রেমীর রক্ত হিম হয়ে যাবে! আমেরিকার পুলিশ প্রশাসনের ফাঁস হওয়া গোপন রিপোর্ট বলছে, সদ্য সমাপ্ত ফুটবল বিশ্বকাপের পুরো সময় জুড়েই আত্মঘাতী জঙ্গি এবং দুর্বৃত্তদের প্রধান নিশানা ছিলেন খোদ লিয়োনেল মেসি। শুধু তাই নয়, আর্জেন্টিনা দল, ফিফার কর্তা থেকে শুরু করে রেফারি সকলেরই সুরক্ষায় নামাতে হয়েছিল এফবিআই-সহ একাধিক দেশের সর্বোচ্চ সংস্থাকে।
মেসির নামেই যত আতঙ্ক (Lionel Messi)
স্পেনের সংবাদমাধ্যম ‘ইনফরমেসিয়ন.ইএস’-এর প্রকাশিত সেই গোপন রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকো জুড়ে আয়োজিত এই বিশ্বকাপে ছায়াযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। একের পর এক হুমকি ইমেলে কেঁপে উঠেছিল পুলিশ প্রশাসন। যার কেন্দ্রে ছিলেন কেবল এক জনই লিয়োনেল মেসি।
আরও পড়ুন: Rishabh Pant: মাঝরাতে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কেন সাহায্য চাইলেন ঋষভ পন্থ?
সবচেয়ে বড় হামলার ছক কষা হয়েছিল আর্জেন্টিনা-জর্ডন ম্যাচের সময়। ডালাস বিমানবন্দরে ফোন করে এক ব্যক্তি হুমকি দেয়, হোমমেড বোমা এবং এআর-১৫ রাইফেল নিয়ে স্টেডিয়ামে ঢুকে সে উড়িয়ে দেবে গোটা আর্জেন্টিনা দলকে, যার মূল টার্গেট স্বয়ং মেসি। ঠিক একই রকম নৃশংস হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের আগেও। আটলান্টা স্টেডিয়ামে শরীরে বোমা বেঁধে প্রবেশ করে মেসিকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল এক আইএস-ঘেঁষা বা উগ্রপন্থী ব্যক্তি। জঞ্জাল ফেলার জায়গায় বোমা রাখার ফেক কলের ব্যস্ততায় ঘুম উড়েছিল নিরাপত্তাকর্মীদের।
কেন বারবার টার্গেট সেই মেসি? (Lionel Messi)
প্রশ্ন উঠতেই পারে, বিশ্বজুড়ে এত ফুটবলার থাকতে কেন বারবার কেবল মেসিকে নিশানা করা হল? উত্তরটা লুকিয়ে আছে তাঁর জনপ্রিয়তার চূড়ায়। ফুটবল মাঠে তাঁর জাদুকরি পায়ের ছোঁয়া কোটি কোটি মানুষের আবেগ। দুর্বৃত্তরা চেয়েছিল ঠিক সেই জায়গাতেই আঘাত হানতে। যেখানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানুষের আবেগ স্পন্দিত হয়। মেসিকে ঘিরে থাকা এই বিপুল উন্মাদনাকেই একশ্রেণির সন্ত্রাসী শক্তি ভয়ংকর উপায়ে ব্যবহার করতে চেয়েছিল।
অটুট মানসিকতা (Lionel Messi)
মাঠের বাইরে যখন মৃত্যুর হুমকি, এফবিআইয়ের পাহারা আর রুদ্ধশ্বাস কড়াকড়ি, তখন সবুজ মাঠে লিয়োনেল মেসি নিজের স্বভাবসিদ্ধ ছান্দসিক মেজাজেই ছিলেন। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থেকে, হোটেল থেকে স্টেডিয়ামের কঠোর রুটিনের মধ্যেও তাঁর পায়ে মরচে পড়েনি। ভক্তদের ভালোবাসা আর নিজের দেশের জার্সির প্রতি অকৃত্রিম টানে তিনি সব আশঙ্কাকে দূরে সরিয়ে মাঠে নেমেছেন। মৃত্যুর চোখরাঙানি বা ভয়ের পরিবেশও তাঁর ফুটবলীয় আবেগ ও জেদকে বিন্দুমাত্র দমাতে পারেনি। কোটি ভক্তের ভালোবাসা আর নিজের জেদের জোরেই তিনি প্রতিটি ম্যাচেই বুক চিতিয়ে লড়ে গেছেন।
নিরাপত্তার বেড়াজাল (Lionel Messi)
শুধু মেসি (Lionel Messi) একা নন, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে ঘিরেও কম নাটক হয়নি। যদিও সিআর সেভেনের ক্ষেত্রে সরাসরি কোনো বড় হুমকির খবর না মিললেও, তাঁর গতিবিধি জানতে মরিয়া ছিল এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি। পরে হিউস্টন বা মায়ামির হোটেল থেকে এক অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপের নিরাপত্তাও কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছিল। রেফারি ফ্রান্সিয়স লেক্সিয়ঁ তো কেবল একটি ম্যাচ পরিচালনার দায়ে হোয়াটসঅ্যাপে ৬ হাজারের বেশি হুমকি-মেসেজ পান!
আরও পড়ুন: JFC Withdraw: জামশেদপুরের পথেই হাঁটতে চলেছে আরও এক ক্লাব!
সব মিলিয়ে, ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম এই ফুটবল টুর্নামেন্ট কেবল গোল আর ট্রফির লড়াই ছিল না, ছিল অদৃশ্য এক সুরক্ষার দেওয়ালের যুদ্ধ। আর সেই যুদ্ধের মাঝে দাঁড়িয়েও লিয়োনেল মেসি প্রমাণ করে দিয়েছেন ভয় দেখিয়ে ফুটবল ঈশ্বরের পা থেকে জাদু কেড়ে নেওয়া যায় না।



