Last Updated on [modified_date_only] by Suparna Ghosh
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ত্রয়ণ চক্রবর্তী: ইতিহাস, স্থাপত্য আর বাংলার শিল্পকর্মের অপূর্ব মেলবন্ধন বিষ্ণুপুরের টেরাকোটা মন্দির(Bishnupur Temple)। ৪০০-৩০০ বছরের প্রাচীন রাসমঞ্চ, শ্যামরাই, জোড়বাংলো থেকে কালনার ২৫ রত্ন মন্দির—বাংলার মন্দির স্থাপত্যের ঐতিহ্য আজও বহন করে চলেছে এই স্থাপনাগুলি। এবার সেই ঐতিহ্যকেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি উঠল রাজ্যসভায়।
বিষ্ণুপুরের ঐতিহ্যকে স্বীকৃতির দাবি রাহুলের(Bishnupur Temple)
বিষ্ণুপুরের ঐতিহাসিক টেরাকোটা মন্দিরগুলিকে(Bishnupur Temple) UNESCO-র বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তুললেন বিজেপি সাংসদ রাহুল সিনহা(Rahul Sinha)। রাজ্যসভায় বিষয়টি উত্থাপন করে তিনি বাংলার মন্দিরগুলির ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং স্থাপত্যগত গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, এই মন্দিরগুলি শুধু বাংলার নয়, গোটা ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মল্ল রাজাদের হাত ধরে গড়ে ওঠা মন্দিরনগরী(Bishnupur Temple)
বিষ্ণুপুরের ঐতিহাসিক মন্দিরগুলির(Bishnupur Temple) সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মল্ল রাজাদের ইতিহাস। তাঁদের উৎসাহ ও উদ্যোগেই গড়ে ওঠে একের পর এক অনন্য মন্দির। অন্যদিকে, বর্ধমানের রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় কালনায় তৈরি হয় ২৫ রত্ন বিশিষ্ট বিখ্যাত টেরাকোটা মন্দির। ইটের গায়ে নিখুঁত কারুকার্যে ফুটে উঠেছে তৎকালীন সমাজ, সংস্কৃতি ও পুরাণের নানা কাহিনি।

রাসমঞ্চ থেকে জোড়বাংলো—ইতিহাস যেন ইটের গায়ে
বিষ্ণুপুরের অন্যতম আকর্ষণ রাসমঞ্চ। তার পাশেই জোড়বাংলো মন্দির। মন্দিরের দেওয়ালজুড়ে টেরাকোটার অপূর্ব কাজ বাংলার ঐতিহ্যবাহী চালচিত্রের কথা মনে করিয়ে দেয়। প্রতিটি ফলক যেন কয়েক শতাব্দী আগের বাংলার জীবনযাত্রা, ধর্মীয় আচার এবং শিল্পরুচির গল্প বলে। শুধু মন্দির স্থাপত্য নয়, বিষ্ণুপুরের পরিচয়ের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে ধ্রুপদী সঙ্গীতের বিষ্ণুপুর ঘরানা। ফলে স্থাপত্য, শিল্প ও সঙ্গীত—তিনের মেলবন্ধনে বিষ্ণুপুর বাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক জনপদ হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: Debangshu Panda: হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক করে বিধায়কের নাম ভাঙিয়ে টাকা দাবি!
UNESCO-র স্বীকৃতিতে বাড়বে আন্তর্জাতিক পরিচিতি?
রাসমঞ্চ ও জোড়বাংলোর পাশাপাশি বিষ্ণুপুরের রাধাশ্যাম, রাধাগোবিন্দ, নন্দলাল এবং শ্যামরাই মন্দিরও পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। প্রতিটি মন্দিরের নির্মাণশৈলী ও টেরাকোটা শিল্পে রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য। তাই UNESCO-র স্বীকৃতি মিললে শুধু বিষ্ণুপুর নয়, বাংলার ঐতিহাসিক মন্দির স্থাপত্যও বিশ্ব দরবারে আরও পরিচিতি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। রাহুল সিনহার দাবি, বিষ্ণুপুরের এই ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলির আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে UNESCO-র বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হোক। স্বীকৃতি এলে ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি বিষ্ণুপুরের পর্যটন শিল্পেও নতুন গতি আসতে পারে—এমনটাই প্রত্যাশা।
আরও পড়ুন: Rekha Patra: ২ লক্ষেরও বেশি টাকা ঘর ভাড়া বাকি রেখা পাত্রর! ‘জনতার দরবারে’ অভিযোগ কেশবানন্দ মহারাজের


